- এই মুহূর্তে বৈষয়িক
- ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫
তিন বছরের জন্য ইস্পাত আমদানিতে শুল্ক চাপাল কেন্দ্র, নিশানায় চিন
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদক দেশ ভারত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চিন থেকে সস্তা ইস্পাত আমদানির লাগামছাড়া বৃদ্ধিতে দেশীয় ইস্পাত শিল্প প্রবল চাপে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঘরোয়া বাজার ও শিল্পকে রক্ষা করতে মঙ্গলবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নয়াদিল্লি। নির্দিষ্ট কয়েকটি ইস্পাত পণ্যের আমদানিতে আগামী তিন বছরের জন্য শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম বছরে শুল্কের হার হবে ১২ শতাংশ, যা ধাপে ধাপে কমে তৃতীয় বছরে ১১ শতাংশে দাঁড়াবে। এই শুল্ক মূলত চিন, ভিয়েতনাম এবং নেপাল থেকে আমদানিকৃত ইস্পাত পণ্যের উপর প্রযোজ্য হবে। তবে কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশকে এই শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, স্টেইনলেস স্টিলের মতো বিশেষ ইস্পাত পণ্যের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।
কেন্দ্রের বক্তব্য, সস্তা ও নিম্নমানের ইস্পাত আমদানির কারণে দেশীয় নির্মাতারা ক্রমাগত ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তদন্তে দেখা গিয়েছে, ইস্পাত আমদানিতে আকস্মিক, তীব্র ও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে, যার ফলে দেশীয় শিল্পের উপর গুরুতর প্রভাব পড়ছে। এই কারণেই ডিজিটিআর (ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ট্রেড রেমেডিজ) তিন বছরের জন্য শুল্ক আরোপের সুপারিশ করেছিল।
মূলত চিন থেকেই প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সস্তা ইস্পাত ভারতীয় বাজারে ঢুকছে। দাম কম হওয়ায় গুণগত মান তুলনামূলকভাবে নিম্ন হলেও এই পণ্যের চাহিদা বেশি, যার ফলে দেশীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতেই কেন্দ্র এই প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চলতি বছরের এপ্রিলে ইতিমধ্যেই ২০০ দিনের জন্য ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল ইস্পাত পণ্যের উপর। এবার সেই অস্থায়ী ব্যবস্থাকেই দীর্ঘমেয়াদে রূপ দিল কেন্দ্র। এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামও নিজেদের ইস্পাত শিল্প রক্ষায় একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।
সব মিলিয়ে, দেশীয় ইস্পাত শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বাজারে ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিল নয়াদিল্লি।
❤ Support Us






