- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ৮, ২০২৬
ব্রিগেডে বিজেপির ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠান, নিরাপত্তা, প্রস্তুতি তুঙ্গে
শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। রাজ্যে প্রথমবার সরকার গঠন করেছে বিজেপি, আর সেই নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে ইতিমধ্যেই তুঙ্গে প্রস্তুতি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ একাধিক বিজেপি-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের। পাশাপাশি থাকবেন নবনির্বাচিত বিধায়ক, বিজেপি নেতা-কর্মী এবং বহু বিশিষ্ট অতিথি।
এই বিশাল কর্মসূচিকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কলকাতা পুলিশ। বৃহস্পতিবার ব্রিগেডের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা খতিয়ে দেখেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। জানা গিয়েছে, প্রায় চার হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হবে অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায়। পুরো ব্রিগেড চত্বরকে ৩০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে থাকবেন ডেপুটি কমিশনার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর, এএসআই এবং কনস্টেবল বাহিনী। পরিস্থিতি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানও মোতায়েন করা হতে পারে।
পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকিতে থাকবেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং যুগ্ম পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিকরা। ব্রিগেডে বসানো হবে একাধিক ডোরফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর, পাশাপাশি পুলিশকর্মীদের হাতে থাকবে হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর। ড্রোন নজরদারির পাশাপাশি আশপাশের বহুতলের ছাদ থেকেও বাইনোকুলার দিয়ে চলবে কড়া পর্যবেক্ষণ। গোটা চত্বরে বসানো হচ্ছে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা। যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও পার্কিং নিয়েও বিশেষ নির্দেশিকা জারি করবে পুলিশ।
ভিআইপি অতিথিদের যাতায়াতের জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ হেলিপ্যাড। ব্রিগেডের মঞ্চকেও সাজানো হচ্ছে বিশেষভাবে। তিনটি পৃথক অংশে তৈরি হয়েছে মূল হ্যাঙার। মাঝের অংশে রাজ্যপাল নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং সেখানে রাখা থাকবে সই করার জন্য বিশেষ রাইটিং ডেস্ক। বাঁদিকের অংশে বসবেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা। ডানদিকের অংশে থাকবে রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের আসন। এছাড়া আরও দুটি হ্যাঙারে আমন্ত্রিত অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন হওয়ায় সকাল থেকেই মঞ্চে বাজবে রবীন্দ্রসংগীত। ব্রিগেডের প্রবেশপথও সাজানো হচ্ছে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আদলে। দর্শক ও অতিথিদের জন্য রাখা হচ্ছে ঝালমুড়ি ও রসগোল্লার স্টলও। সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তার অনেক আগেই মানুষের প্রবেশ শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
তবে এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে আবহাওয়া। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনিবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত এবং ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সকাল থেকে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও দুপুরের পর আবহাওয়ার অবনতি হতে পারে বলে পূর্বাভাস।
এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ব্রিগেডে রাখা হচ্ছে বিশেষ বিপর্যয় মোকাবিলা দল। ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় অতিরিক্ত পাম্পের ব্যবস্থাও করা হয়েছে যাতে দ্রুত জল নিষ্কাশন করা যায়। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ সামলে ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত ব্রিগেড।
❤ Support Us






