- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ৭, ২০২৬
ব্রিগেডে নতুন সরকারের শপথ : কলকাতা জুড়ে কড়া নজরজারি, মোতায়েন ৪ হাজার পুলিশকর্মী, আকাশপথেও কড়া পাহারা
কলকাতার আকাশ, ময়দান, বহুতলের ছাদ; সর্বত্রই এখন নজরদারির জাল। আগামী ৯ মে, পঁচিশে বৈশাখের সকালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে দেশের ক্ষমতার শীর্ষস্তরের একাধিক মুখের উপস্থিতির সম্ভাবনা রইয়েছে। তাই কার্যত দুর্গে পরিণত করা হচ্ছে শহরের কেন্দ্রস্থলকে। লালবাজার সূত্রের খবর, প্রায় ৪ হাজার পুলিশকর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। শুধু মাটিতে নয়, আকাশপথ থেকেও নজরদারির পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।
শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল দায়িত্বে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দা। তাঁর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার, ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা কাঠামো। কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, ব্রিগেড ও সংলগ্ন ময়দান এলাকাকে একাধিক সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে রয়েছেন এক জন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, ভিভিআইপি চলাচল, মঞ্চ নিরাপত্তা, দর্শক প্রবেশ ও বহির্গমন— সব কিছুর জন্য আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
শুধু ময়দানের ভিতরেই নয়, নজরদারি থাকবে আশপাশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে। এলাকার বহুতলগুলির ছাদ থেকেও কড়া নজরদারি চালানো হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় আকাশপথ থেকেও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। গোটা এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হচ্ছে। প্রবেশপথে বসানো হবে ডোর-ফ্রেম মেটাল ডিটেক্টর এবং হ্যান্ডহেল্ড স্ক্যানার।
সন্দেহজনক কোনো বস্তু বা ব্যক্তি চিহ্নিত করতে বিশেষ নজরদারি দলও মোতায়েন থাকবে। নিরাপত্তার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাস্তায় নামানো হচ্ছে ‘কুইক রেসপন্স টিম’। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করতেই বিশেষ বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও নিরাপত্তা বলয়ে থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। যান চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হতে পারে। ব্রিগেড, রেড রোড, ধর্মতলা এবং সংলগ্ন একাধিক রাস্তায় ডাইভারশন চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আগাম ট্র্যাফিক নির্দেশিকাও জারি করা হবে।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বুধবার থেকেই লালবাজারে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। কলকাতা পুলিশের সদর দফতরে বসে চূড়ান্ত করা হয়েছে নিরাপত্তার নীল নকশা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও জানিয়েছেন, ‘ভোট-পরবর্তী হিংসা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ চলবে না।’ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোট-পরবর্তী অশান্তির অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, বহু জায়গায় দলের কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের দাবি, যাঁরা আগে তৃণমূল করতেন, তাঁদের কেউ কেউ আচমকাই গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়ে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। সে আবহেই দলীয় নেতৃত্ব বার্তা দিয়েছে, শুধুমাত্র গেরুয়া পতাকা হাতে নিলেই কেউ বিজেপির সদস্য হয়ে যান না।
আগামী ৮ মে, শুক্রবার সন্ধ্যায় অমিত শাহর নেতৃত্বে, বিশ্ব বঙ্গ কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি বিধায়কদের বৈঠক হওয়ার কথা। নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে তাঁর পৃথক বৈঠকেরও সম্ভাবনা রয়েছে শাহর। সেখানেই আনুষ্ঠানিক ভাবে বিধায়কদলীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। যদিও দলীয় অন্দরের জল্পনা, মুখ্যমন্ত্রীর নাম কার্যত চূড়ান্ত করে ফেলেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তবে দলীয়ভাবে এখনো কোনো নাম ঘোষণা করতে নারাজ বিজেপি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বিধায়কদলীয় বৈঠকের পরই রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানানো হবে।
❤ Support Us







