Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ৬, ২০২৬

অসাম্প্রদায়িক জোট শর্তে তামিলনাড়ুতে বিজয়ের পাশে কংগ্রেস

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
অসাম্প্রদায়িক জোট শর্তে তামিলনাড়ুতে বিজয়ের পাশে কংগ্রেস

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ। বহু দশকের পরিচিত ডিএমকে-এআইএডিএমকে দ্বিমেরু রাজনীতির বাইরে হঠাৎই তৈরি হয়েছে নতুন জোট-সম্ভাবনা। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা বিজয়ের দল তামিঝাগা ভেত্রি কাঝাগম (টিভিকে) একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসার পর বুধবার তাকে সরকার গঠনের সমর্থন জানাল কংগ্রেস। তবে সমর্থনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক শর্ত— জোটে এমন কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তির রাখা যাবে নাযারা ভারতের সংবিধানে আস্থা রাখে না।

হাত শিবিরের এ সিদ্ধান্তের ফলে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক দিকে যেমন ডিএমকে-র সঙ্গে কংগ্রেসের দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের কার্যত অবসান ঘটলঅন্য দিকে তেমনই শুরু হল সরকার গঠন ঘিরে নতুন জোট-অঙ্ক। যদিও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে ইঙ্গিতরাজ্যের সমীকরণ বদলালেও জাতীয় স্তরে বৃহত্তর ‘ইন্ডিয়া’ জোটে ডিএমকে এবং কংগ্রেস— দুই দলই আপাতত একসঙ্গেই থাকতে পারে। বুধবার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির তামিলনাড়ু দায়িত্বপ্রাপ্ত গিরিশ চোডাঙ্কর। তিনি জানানতামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি এবং কংগ্রেস লেজিসলেটিভ পার্টি বৈঠক করে টিভিকে-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জানান, ‘আমাদের সমর্থন সম্পূর্ণ শর্তসাপেক্ষ। এই জোটে এমন কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রাখা যাবে নাযারা ভারতের সংবিধানে বিশ্বাস করে না।’

তামিলনাড়ুর সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনের ফলাফল রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় ১০৮টি আসন জিতে বিজয়ের দল একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে যে রাজনীতির কেন্দ্রে ছিল ডিএমকে ও এআইএডিএমকে—  চেনা সে সমীকরণের ভিত নড়িয়ে দিয়েছে টিভিকে। ডিএমকে পেয়েছে ৫৯টি আসনআর এআইএডিএমকে-র ঝুলিতে গিয়েছে ৪৭টি। কিন্তু একক বৃহত্তম দল হলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে এখনো কিছুটা দূরে রয়েছে বিজয়ের দল। কংগ্রেসের  বিধায়কের সমর্থন পেলে টিভিকে-নেতৃত্বাধীন জোটের সংখ্যা দাঁড়াবে ১১২-তে। অথচ ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১১৮ জনের সমর্থন।

অর্থাৎ কংগ্রেসের ছাড়াও আরও অন্তত  জন বিধায়কের সমর্থন জরুরি। সে কারণেই ইতিমধ্যেই মিত্রের সন্ধানে নেমে পড়েছেন বিজয়। রাজনৈতিক সূত্রের খবরবিদুথালাই চিরুথাইগল কাচ্চি (ভিসিকে)ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) এবং সিপিএমের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই তিন দলের সমর্থন মিললে সংখ্যাগরিষ্ঠতার গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব। হিসাব বলছেসে ক্ষেত্রে টিভিকে-র পক্ষে ১১৯ জন বিধায়কের সমর্থন জুটে যেতে পারে।

তবে তামিলনাড়ুর রাজনীতির নেপথ্যে যে আরও জটিল সমীকরণ তৈরি হচ্ছেতার ইঙ্গিতও মিলেছে বুধবার। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছেটিভিকে-র কয়েক জন নেতা চেন্নাইয়ে এআইএডিএমকে প্রধান এডাপ্পাড়ি কে পলানিস্বামীর বাসভবনেও গিয়েছেন। সেই বৈঠক এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিজেপি-সমর্থিত শিবিরের ভিতরে কি তবে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছেজোট-রাজনীতির পরবর্তী পর্ব কি আরও অপ্রত্যাশিত মোড় নিতে চলেছেআপাতত সে প্রশ্নই ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। কংগ্রেস অবশ্য এই জোটকে কেবল তাৎক্ষণিক সরকার গঠনের সীমায় আটকে রাখতে চাইছে না। গিরিশ চোডাঙ্কর স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানের রাজনৈতিক সমঝোতা ভবিষ্যতের স্থানীয় সংস্থা নির্বাচনলোকসভা এবং রাজ্যসভার নির্বাচন পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তাঁর দাবি, এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে উঠছে পারস্পরিক সম্মানযথাযথ অংশীদারিত্ব এবং যৌথ দায়িত্ব’-এর ভিত্তিতে।

কংগ্রেসের দাবিবিজয় আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকার গঠনের জন্য তাদের সমর্থন চেয়েছেন। নির্বাচনের ফলে তামিলনাড়ুর জনগণের স্পষ্ট বার্তা রয়েছে যে, তারা চায় একটি ধর্মনিরপেক্ষপ্রগতিশীল এবং কল্যাণমুখী সরকার। কংগ্রেসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘তামিলনাড়ুর মানুষের ঐতিহাসিক রায়কে সম্মান জানাতে, বিশেষ করে রাজ্যের যুবসমাজের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণে বিজয় ও রাহুল গান্ধি যৌথ ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।’ নির্বাচনে ব্যক্তিগত ভাবেও নজর কেড়েছেন বিজয়। তিনি তিরুচি ইস্ট এবং পেরাম্বুর— দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেনদুটিতেই তিনি জয়ী হয়েছেন। রাজনৈতিক সূত্রে খবরতিনি সম্ভবত তিরুচি ইস্ট আসনটি ছেড়ে দিয়ে পেরাম্বুর ধরে রাখবেন। সে ক্ষেত্রে শূন্য হওয়া আসনে উপনির্বাচন অনিবার্য।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!