Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২৩, ২০২৬

সিকিমে ভয় ধরানো ধস, চোখের সামনে পাহাড় ভেঙে রাস্তায় ! বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সিকিমে ভয় ধরানো ধস, চোখের সামনে পাহাড় ভেঙে রাস্তায় ! বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা

টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত সিকিম ও উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা । তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা, রায়ডাক এবং মহানন্দাসহ উত্তরবঙ্গের প্রায় সব নদীই বিপদসীমার কাছাকাছি ফুলেফেঁপে উঠেছে । পাহাড়ে দফায় দফায় বজ্রগর্ভ মেঘের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত চলতে থাকায় ধসের আশঙ্কাও ক্রমশ বাড়ছে ।

মঙ্গলবার সকালে সিকিমের রংপো-রোরথাং রোডে ভয়াবহ ধসের ঘটনা ঘটে । প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে হুড়মুড়িয়ে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে রাস্তায় । মুহূর্তের মধ্যে রাস্তার একাংশ ধ্বংস হয়ে যায় এবং একটি স্কুটারও ক্ষতিগ্রস্ত হয় । যদিও এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি । ধসের জেরে আপাতত ওই রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে ।

তবে শিলিগুড়ি থেকে সিকিমে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বর্তমানে বড় কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি । প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গজলডোবার তিস্তা ব্যারেজের লকগেট পর্যায়ক্রমে খুলে দেওয়া হচ্ছে । একইভাবে নির্দিষ্ট সময় অন্তর মহানন্দা ব্যারেজের লকগেটও খোলা হচ্ছে । তিস্তার নিম্ন অববাহিকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায় প্রশাসনের কড়া নজরদারি চলছে ।

অন্যদিকে, দার্জিলিং ও কালিম্পঙের পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক । ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের মেরামতির কাজও অনেকাংশে সম্পন্ন হয়েছে । দুধিয়া সেতু বাদ দিলে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিংগামী প্রায় সব রাস্তাতেই বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে । তিস্তাবাজার সংলগ্ন কয়েকটি এলাকায় মাঝেমধ্যে জলস্তর বৃদ্ধি পেলেও বৃষ্টির তীব্রতা কমলে জল দ্রুত নেমে যাচ্ছে ।

তবে সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় ধস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে । পর্যটন শিল্পেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে । হিমালয়ান হসপিটালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজ়ম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট স্যানাল জানিয়েছেন, পাহাড়ে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে । তাঁর মতে, দুধিয়া সেতু বাদ দিলে দার্জিলিংয়ের অধিকাংশ রাস্তা সচল থাকলেও সিকিমের একাধিক স্থানে ধসের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে । রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক হেল্পলাইন নম্বর চালু রেখে পর্যটক ও সাধারণ মানুষকে সহায়তা করা হচ্ছে ।

তিনি আরও জানান, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকলে সাধারণত রংপো-রোরথাং রোড বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করা হয় । কিন্তু সেই রাস্তাতেও ধস নামায় সমস্যা বেড়েছে । যদিও সিকিম প্রশাসন দ্রুত রাস্তা পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত শুক্রবার শিলিগুড়ির গুলমা এলাকায় মহানন্দা অভয়ারণ্যের মধ্যে রেলের তৈরি একটি সেতুর অংশ ভেঙে পড়ে । গুলমা থেকে তুড়িবাড়ি পর্যন্ত যোগাযোগের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ওই সেতুটি ব্যবহার করতেন । ফলে বর্ষাজনিত দুর্যোগে উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর চাপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে ।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!