Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২৩, ২০২৬

তৃণমূলের তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল টাকা! লেনদেনের নথি তলব পুলিশের, আদালতেই নির্ধারিত হবে তহবিলের ভবিষ্যৎ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তৃণমূলের তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল টাকা! লেনদেনের নথি তলব পুলিশের, আদালতেই নির্ধারিত হবে তহবিলের ভবিষ্যৎ

তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে তদন্ত আরও জোরদার করল বিধাননগর পুলিশ। দলীয় অ্যাকাউন্টে বেআইনি উৎস থেকে অর্থ জমার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের কাছে গত পাঁচ বছরের সমস্ত লেনদেনের হিসাব (ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট) চেয়ে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় জমা দেওয়া নথি, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী (সিগনেটরি) এবং অ্যাকাউন্ট খোলার তারিখ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও তলব করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক তৃণমূল বিধায়ক, যিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত, বিধাননগর সাইবার অপরাধ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ওই দিন তৃণমূলের কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেআইনি পথে উপার্জিত অর্থ জমা করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি দ্রুত ওই অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন স্থগিত করে তদন্তের দাবি জানান। অভিযোগ পাওয়ার পরদিনই বিধাননগর পুলিশ শরৎ বসু রোডের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা সংশ্লিষ্ট তিনটি অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করার নির্দেশ দেয়। পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে বর্তমানে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা জমা রয়েছে।

তদন্তকারীরা শুধু সাম্প্রতিক লেনদেন নয়, গত পাঁচ বছরের সমস্ত জমা ও খরচের হিসাব খতিয়ে দেখতে চাইছেন। পাশাপাশি, অ্যাকাউন্টগুলি কবে খোলা হয়েছিল, কোন কোন নথির ভিত্তিতে খোলা হয়েছিল এবং অ্যাকাউন্ট খোলার সময় কারা স্বাক্ষর করেছিলেন, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য ব্যাঙ্কের কাছে চাওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অভিযোগকারী বিধায়ক তাঁর অভিযোগপত্রে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরগুলি উল্লেখ করলেও, অ্যাকাউন্টগুলি কার নামে রয়েছে তা স্পষ্ট করে জানাননি। তবে নির্বাচন কমিশনের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, অভিযোগে উল্লেখিত একটি অ্যাকাউন্ট সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে এবং বাকি দুটি যথাক্রমে ত্রিপুরা ও গোয়া রাজ্য শাখার নামে নথিভুক্ত।

এ বিতর্কের মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ দায়েরের আগেই তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস শরৎ বসু রোডের ওই ব্যাঙ্ক শাখায় থাকা দলের সমস্ত অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। ১২ জুন পাঠানো সেই চিঠিতে তিনি নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে তৃণমূলের (মমতাপন্থী) মুখপাত্র কুণাল ঘোষ দাবি করেন, অরূপ বিশ্বাস আর দলের কোষাধ্যক্ষ নন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৫ জুন অনুষ্ঠিত দলের কর্মসমিতির বৈঠকে শুভাশিস চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। যদিও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোষাধ্যক্ষ পরিবর্তনের পর ব্যাঙ্কে সিগনেটরি পরিবর্তনের যে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন, তা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।

এদিকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অনুগত তৃণমূল শিবির কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। অন্যদিকে অরূপ বিশ্বাস ইতিমধ্যেই দলের বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। ফলে দলের বিপুল তহবিলের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াই দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মামলায় পুলিশের তদন্ত রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনটি অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তদন্তের ফলাফলের উপর।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!