- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ২৩, ২০২৬
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা বিজেপি নেতা জর্জ কুরিয়ানের, নতুন দায়িত্ব নিয়ে জল্পনা
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিলেন কেরালা বিজেপির প্রবীণ নেতা, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জর্জ কুরিয়ান। মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই কুরিয়ানের পদত্যাগ ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে শোরগোল। বিজেপি নেতৃত্ব তাঁকে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাজ্যসভা নির্বাচনে পুনরায় মনোনয়ন দেয়নি। এই প্রেক্ষাপটে তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোকে অনেকেই স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বলে মনে করলেও, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর নেপথ্যে আরও বড়ো কোনো সাংগঠনিক বা সাংবিধানিক দায়িত্বের ইঙ্গিত লুকিয়ে থাকতে পারে।
রাষ্ট্রপতি ভবনের তরফে জারি করা এক সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে সংবিধানের ৭৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জর্জ কুরিয়ানের পদত্যাগ গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তা অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংবিধানের ওই ধারায় বলা হয়েছে, মন্ত্রীরা রাষ্ট্রপতির সন্তুষ্টি সাপেক্ষে পদে বহাল থাকেন। ৬৫ বছর বয়সি কুরিয়ান কেন্দ্রীয় সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। পাশাপাশি মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন। মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদে ২০২৪ সালের ৯ জুন তিনি শপথ নেন। বিজেপির মধ্যে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম মুখ হিসেবেও তাঁকে দেখা হতো।
রাজনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাজ্যসভা নির্বাচনে তাঁকে পুনরায় মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি। কুরিয়ানের রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হয় গত ২১ জুন। ফলে সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী তাঁর মন্ত্রিত্ব বজায় রাখার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। সে আসনটি শূন্য হয়েছিল জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর। সিন্ধিয়া বর্তমানে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছেন।
তবে কুরিয়ানের পদত্যাগকে ঘিরে শুধু সাংবিধানিক ব্যাখ্যাতেই সীমাবদ্ধ নেই রাজনৈতিক আলোচনা। দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় শীঘ্রই বড়োসড়ো রদবদল হতে পারে। একাধিক মন্ত্রীকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া কিংবা সংগঠনের কাজে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। সে আবহেই কুরিয়ানের পদত্যাগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। আরও একটি জল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে দাবি করছেন, আগামী দিনে কয়েকটি রাজ্যে নতুন রাজ্যপাল নিয়োগ করতে পারে কেন্দ্র। চার থেকে পাঁচটি রাজ্যের রাজভবনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত যেসব রাজ্যে আগামী কয়েক বছরে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে, সেখানে রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই এ নিয়োগ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সে তালিকায় থাকতে পারে জর্জ কুরিয়ানের নাম। যদিও কেন্দ্র সরকার বা বিজেপির তরফে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
বিজেপি সূত্রে অবশ্য অন্য একটি সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। কেরালার কোট্টায়ামের বাসিন্দা কুরিয়ান না কি আবার সক্রিয় সাংগঠনিক রাজনীতিতে ফিরতে আগ্রহী। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও তিনি সে ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বলে খবর। দীর্ঘদিন ধরে কেরালার বিজেপির সংগঠন বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। রাজ্য সহ-সভাপতি, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, কোর কমিটির সদস্য এবং দলের মুখপাত্র— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে তাঁকে ফের উপকূলের রাজ্য রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকাকালীন কুরিয়ান কেরালার কানজিরাপল্লি বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিলেন। তবে নির্বাচনে তিনি প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি। তবু কেরালায় বিজেপির খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা দলীয় নেতৃত্বের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হয়। রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলার পাশাপাশি প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে কুরিয়ানের। তিনি জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রী ও. রাজাগোপালের দফতরে বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওএসডি) হিসেবেও কাজ করেছেন। সেসব অভিজ্ঞতার নিরিখে ভবিষ্যতে তাঁকে সাংবিধানিক বা সাংগঠনিক কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
❤ Support Us







