- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ২৩, ২০২৬
তৃণমূলের ‘আসল’ নেতৃত্ব কারা? কমিশনের দুয়ারে দুই শিবির
তৃণমূল কংগ্রেসের ‘আসল’ নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে সংঘাত এবার পৌঁছে গেল নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর দল দখলের প্রচেষ্টা রুখতে রাতারাতি কমিশনের কাছে সংশোধিত জাতীয় কর্মসমিতি ও অন্যান্য সাংগঠনিক স্তরের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দিলেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কমিশনে পাঠানো তালিকায় চেয়ারপার্সন হিসেবে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এছাড়া রাজ্য সভানেত্রী হিসেবে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে শুভাশিস চক্রবর্তীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে কালীঘাটের নেতৃত্ব।
ছাব্বিশের ভোটে ঘাসফুল শিবিরের ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলে ভাঙনের ছবি স্পষ্ট হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী বিধানসভায় নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে ‘আসল’ বিরোধী দলের মর্যাদা আদায় করে নেয়। সোমবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত বিশেষ অধিবেশনে ঋতব্রত শিবির নতুন জাতীয় কর্মসমিতির ঘোষণা করে। সে কমিটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো স্থান রাখা হয়নি। দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে ঘোষণা করা হয় অরূপ রায়ের নাম। সাধারণ সম্পাদক পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ চারজনকে রাখা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংগঠনিক পদেও জায়গা পান ঋতব্রত-ঘনিষ্ঠ নেতারা।
অধিবেশনের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, নিয়ম মেনে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই নতুন কমিটিকে নির্বাচন কমিশনের কাছে নথিভুক্ত করা হবে। কিন্তু তার আগেই পালটা পদক্ষেপ নেয় মমতা শিবির। সূত্রের খবর, সোমবার বিকেলে নিউটাউনে ঋতব্রতপন্থীরা যখন নিজেদের জাতীয় কর্মসমিতি গঠনে ব্যস্ত ছিলেন, তখনই কালীঘাটে নতুন সংশোধিত কমিটি চূড়ান্ত করে তা নির্বাচন কমিশনে পাঠানোর উদ্যোগ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন তালিকায় চেয়ারপার্সন হিসেবে নিজেই স্বাক্ষর করেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ৫ জুন কালীঘাটে গঠিত জাতীয় কর্মসমিতিতে অরূপ বিশ্বাসের নাম থাকলেও সোমবার কমিশনে পাঠানো সংশোধিত তালিকা থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই দলের দুটি পৃথক জাতীয় কর্মসমিতি নিয়ে এবার সরাসরি সংঘাত শুরু হল নির্বাচন কমিশনের অন্দরে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ বিরোধের জট আরও বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতের দোরগোড়াতেও পৌঁছতে পারে।
❤ Support Us







