- দে । শ
- জুন ২৩, ২০২৬
ছত্তিশগড়ের খনিতে রত্নভাণ্ডার! মহাসমুন্দে মিলল ‘জেম-কোয়ালিটি’-র হিরের সন্ধান
ছত্তিশগড়ের মাটির নীচে লুকিয়ে রয়েছে ভারতের হিরে ভাণ্ডার? মহাসমুন্দ জেলার সারাইপালি অঞ্চলে সাম্প্রতিক এক আবিষ্কারে আশার আলো দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ দিন ধরে চলা অনুসন্ধান ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার পর বালোদা-বেলমুন্ডি ডায়মন্ড ব্লক থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট পাঁচটি হিরে। সব মিলিয়ে যার ওজন ১.২২ ক্যারেট। সংখ্যার বিচারে আবিষ্কারটি আপাতদৃষ্টিতে ছোটো হলেও খনি ও ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এর তাৎপর্য অনেক বড়ো। কারণ, উদ্ধার হওয়া পাঁচটির মধ্যে দুটি হিরেই রত্নমানের বা ‘জেম-কোয়ালিটি’।
‘এনএমডিসি-সিএমডিসি লিমিটেড’-এর তরফে সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত খনি সংস্থা ‘ন্যাশনাল মিনারেল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন’ (এনএমডিসি) এবং ‘ছত্তিশগড় মিনারেল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন’ (সিএমডিসি)-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অনুসন্ধান প্রকল্প থেকেই এ সাফল্য এসেছে। সংস্থার দাবি, মহাসমুন্দ জেলার সারাইপালি এলাকার বালোদা-বেলমুন্ডি ব্লকে প্রায় ২০০ টন খনিজসমৃদ্ধ মাটি ও শিলা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকেই পাঁচটি হিরে উদ্ধার হয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল কয়েকটি হিরে পাওয়া গিয়েছে বলেই এলাকাটিকে এখনই বাণিজ্যিক খননের উপযোগী বলে ঘোষণা করা যাবে না। তবে এ আবিষ্কার নিঃসন্দেহে আরও বিস্তৃত অনুসন্ধানের পথ খুলে দিল।
অনুসন্ধান প্রকল্পের অংশ হিসেবে গত কয়েক বছরে একাধিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। নদী ও জলধারার পলিমাটি সংগ্রহ করে ‘স্ট্রিম সেডিমেন্ট স্যাম্পলিং’, আধুনিক ভূ-ভৌত সমীক্ষা এবং প্রায় ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত অনুসন্ধানমূলক ‘ড্রিলিং’ চালানো হয়। এই সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই সম্ভাবনাময় অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরে সেখান থেকে উত্তোলিত খনিজসমৃদ্ধ উপাদান মধ্যপ্রদেশের পান্নায় অবস্থিত ‘এনএমডিসি’-র বিশেষ ‘ডায়মন্ড প্রসেসিং প্ল্যান্ট’-এ পাঠানো হয়। সেখানেই পরীক্ষার পর সামনে আসে হিরেগুলি।
উদ্ধার হওয়া পাঁচটি হিরের মধ্যে দুটি সাদা ও অত্যন্ত স্বচ্ছ। ওজন যথাক্রমে ০.১৯ এবং ০.০৬ ক্যারেট। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এগুলি ‘জেম-কোয়ালিটি’ বা গয়না তৈরির উপযোগী উচ্চমানের হিরে। বাকি তিনটি হিরের মধ্যে একটি হলদে বর্ণের, ওজন ০.৩২ ক্যারেট। অন্য দুটি বাদামি রঙের, ওজন যথাক্রমে ০.৫৯ এবং ০.০৬ ক্যারেট। এই তিনটি শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে। খনি বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুসন্ধানের এত প্রাথমিক পর্যায়েই রত্নমানের হিরে পাওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত। বিশ্বের বহু বৃহৎ হিরে খনির ইতিহাসে দেখা গিয়েছে, শুরুতে অল্প কয়েকটি নমুনা থেকেই পরে বিশাল বাণিজ্যিক ভাণ্ডারের সন্ধান মিলেছে। ফলে মহাসমুন্দের আবিষ্কারকে ঘিরে আগ্রহ দ্রুত বাড়ছে।
যদিও সতর্কবার্তাও রয়েছে। ভূতত্ত্ববিদদের বক্তব্য, সম্ভাবনাময় হিরে ক্ষেত্রকে বাণিজ্যিক খনি হিসেবে গড়ে তুলতে হলে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যায়ন প্রয়োজন। আরও বহু পর্যায়ের ‘ড্রিলিং’, নমুনা সংগ্রহ এবং গুণগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে জানতে হবে ভূগর্ভে কত পরিমাণ হিরে রয়েছে, তার মান কেমন, উত্তোলন অর্থনৈতিক ভাবে লাভজনক হবে কি না। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই অবশ্য এ আবিষ্কারকে রাজ্যের খনি শিল্পের জন্য ‘উৎসাহব্যঞ্জক মাইলফলক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটি রাজ্যের খনিজ সম্পদের সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এল। এর ফলে বিনিয়োগ, শিল্পোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।’বর্তমানে উদ্ধার হওয়া পাঁচটি হিরেকে পান্নায় ‘এনএমডিসি’-র সুরক্ষিত ভল্টে রাখা হয়েছে। মূল্যায়ন, শ্রেণিবিন্যাস ও প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হিরে কাটাই ও পালিশ শিল্পের কেন্দ্র হলেও কাঁচা হিরের ক্ষেত্রে এখনো আমদানির উপর নির্ভরশীল। সে প্রেক্ষাপটে মহাসমুন্দের আবিষ্কার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যদি ভবিষ্যতের অনুসন্ধানে বড়ো আকারের ও বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হিরে ভাণ্ডারের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়, তা হলে ছত্তিশগড় শুধু দেশের নতুন হিরে মানচিত্রেই জায়গা করে নেবে না, ভারতের খনিজ অর্থনীতিতেও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
❤ Support Us







