Advertisement
  • দে । শ
  • সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

ভোটের মুখে কংগ্রেসে ধাক্কা ! হাত ছাড়লেন উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত ?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভোটের মুখে কংগ্রেসে ধাক্কা ! হাত ছাড়লেন উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হরিশ রাওয়াত ?

বছর ঘুরলেই পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেই তালিকায় রয়েছে উত্তরাখণ্ডও। রাজ্যে টানা দুবার ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। এবার উত্তরাখণ্ডে ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করেছে কংগ্রেস। তার মধ্যেই ভোটের আগে বড় ধাক্কা খেল হাত শিবির। দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পাঁচবারের সাংসদ হরিশ রাওয়াত। তবে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন করছেন না বলেই জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি একটি পুরনো দুর্নীতি মামলার তদন্তে রাওয়াতের আপ্তসহায়ক চন্দন সিং জিনার বাড়িতে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তল্লাশিতে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা নগদ, বিপুল পরিমাণ সোনা এবং বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল ঘড়ি উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আপ্তসহায়কের বাড়ি থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ ও মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা হরিশ রাওয়াতের ভাবমূর্তির উপরও চাপ তৈরি করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৬ সালে। সে সময় হরিশ রাওয়াত উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ওই সময় উত্তরাখণ্ড সাবঅর্ডিনেট সার্ভিস সিলেকশন কমিশনকে ঘিরে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে। সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেই মামলায় হরিশ রাওয়াতের নামও অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে। আপ্তসহায়কের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ নগদ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধারের পরই দলের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন রাওয়াত। তিনি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির স্থায়ী সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি উত্তরাখণ্ড প্রদেশ কংগ্রেসের কার্যকরী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। দুই পদ থেকেই ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।

নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাওয়াত জানিয়েছেন, সামনে বিধানসভা নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রভাব দলের ভাবমূর্তির উপর পড়তে পারে। এমনকি বিজেপি এই অভিযোগগুলিকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলেও আশঙ্কা তাঁর। রাওয়াতের বক্তব্য, দলের স্বার্থেই তিনি নিজেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে কংগ্রেস ছেড়ে অন্য কোনও দলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি নেননি। অর্থাৎ, দলের পদ ছাড়লেও কংগ্রেসেই থাকছেন তিনি।

উত্তরাখণ্ড কংগ্রেসের অন্যতম বর্ষীয়ান নেতা হরিশ রাওয়াত। একসময় প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ঘনিষ্ঠ ও স্নেহধন্য নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পাঁচবার লোকসভার সাংসদ হয়েছেন এবং একবার উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। ফলে তাঁর মতো প্রবীণ নেতার সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে কংগ্রেসের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ ধাক্কা। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরাখণ্ড কংগ্রেসের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে রাওয়াতকে আগের মতো সক্রিয় দেখা যাচ্ছিল না। দলের মূল স্রোত থেকেও তিনি কিছুটা দূরে ছিলেন। তবুও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে যে আসন্ন নির্বাচনে বিজেপি বড় রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কোনও সংশয় নেই। ফলে ভোটের আগে হরিশ রাওয়াতের এই পদত্যাগ উত্তরাখণ্ডে কংগ্রেসের নির্বাচনী লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!