Advertisement
  • দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
  • সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬

ব্রিকস্ সম্মেলনে কূটনৈতিক ভারসাম্যের পরীক্ষা ! বাণিজ্য সংহতি, নিরাপত্তা রক্ষার বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, নজরে শি জিনপিং

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ব্রিকস্ সম্মেলনে কূটনৈতিক ভারসাম্যের পরীক্ষা ! বাণিজ্য সংহতি, নিরাপত্তা রক্ষার বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির, নজরে শি জিনপিং

এক দিকে রাশিয়া, অন্য দিকে চিন। মাঝখানে ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, বিশ্ব বাণিজ্যে শুল্ক-যুদ্ধের অভিঘাত আর ডলারের আধিপত্যের বিকল্প খোঁজার তাগিদ। তারই মধ্যে দিল্লিতে বসেছে ব্রিকসের অষ্টাদশ শীর্ষ সম্মেলন। ফলে এ বার ব্রিকস শুধু অর্থনীতি বা উন্নয়নশীল দেশগুলির সহযোগিতার মঞ্চ নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতির একাধিক অমীমাংসিত সমীকরণেরও পরীক্ষাক্ষেত্র।

সে মঞ্চেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে একসঙ্গে একাধিক সমীকরণ। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে যেমন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে শুরু করে ইউক্রেন যুদ্ধ ও কৃষ্ণসাগরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তেমনই চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য সাক্ষাতের দিকেও নজর কূটনৈতিক মহলের। বিশেষ করে সীমান্তে টানাপড়েনের কয়েক বছর পরে শি-র ভারত সফরকে ঘিরে প্রত্যাশা এবং সংশয় — দুই-ই রয়েছে।

ব্রিকসের মঞ্চে ভারতের বক্তব্যও এ বার স্পষ্ট — বিশ্ব অর্থনীতির বদলে যাওয়া বাস্তবতায় সদস্য দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে, সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল করতে হবে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক কাঠামোয় আরও জোরালো করে তুলতে হবে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি ইতিমধ্যেই বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির বড়ো অংশের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে এই গোষ্ঠীকে কার্যকর অর্থনৈতিক সহযোগিতার মঞ্চে পরিণত করার প্রশ্নটি এখন আর কেবল কূটনৈতিক বোঝাপড়া নয়।

শুক্রবার দিল্লিতে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এ বছর এই নিয়ে দু-বার মুখোমুখি হলেন দুই রাষ্ট্রনেতা। এর আগে আগস্টের শেষে বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংগঠনের সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের বৈঠক হয়েছিল। দিল্লির বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষ কর্মীর চলাচল এবং জনসংযোগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়টি ছিল আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যকে ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। শিল্প, পরিকাঠামো, রেল, জ্বালানি, পরমাণু শক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মতো ক্ষেত্রগুলিকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ দিন রাশিয়ার ‘ইনোপ্রম ইন্ডিয়া’ শিল্প প্রদর্শনীতেও দুই রাষ্ট্রনেতা উপস্থিত ছিলেন। ভারতে এই প্রদর্শনী এই প্রথম। ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এই শিল্পমেলা ভারত-রাশিয়া শিল্প ও  বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছে দিল্লি। তবে অর্থনীতি, শিল্প, বাণিজ্যের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে যুদ্ধও। ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে পড়ছে। বিশেষ করে কৃষ্ণসাগরের পরিস্থিতি সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ প্রসঙ্গেই ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি পুতিনের সামনে তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

কৃষ্ণসাগর দিয়ে পণ্য পরিবহণের উপর যুদ্ধের অভিঘাত রয়েছে। ফলে সংঘাতের প্রভাব শুধু ইউরোপের ভূ-রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা পৌঁছে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তাতেও। ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ সে বৃহত্তর সমস্যারই অংশ। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ভারতের অবস্থানও এ দিন ফের স্পষ্ট করেছেন নরেন্দ্র মোদি। সংঘাতের সমাধান আলোচনার টেবিলে এবং কূটনীতির মাধ্যমেই হওয়া উচিত, এমন বার্তাই দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার যে কোনো উদ্যোগে ভারত সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন। অর্থাৎ মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেও ইউক্রেন প্রশ্নে ভারতের নিজস্ব কূটনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসছে না দিল্লি। যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যেমন বাস্তবতার রাজনীতিতে নির্ভরশীল, তেমনই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের বক্তব্যও ক্রমশ আলোচনার অংশ হয়ে উঠছে।

এ প্রশ্নটিও এ বারের ব্রিকস্ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিকসের বিস্তার যত হয়েছে, তার ভিতরের মতপার্থক্যও তত বেড়েছে। রাশিয়া, চিন, ভারত, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সহ একাধিক দেশের স্বার্থ সব বিষয়ে এক নয়। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতই তার সাম্প্রতিক উদাহরণ। ফলে ব্রিকসকে পশ্চিম-বিরোধী জোটে পরিণত করার বদলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সরবরাহ শৃঙ্খল, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির কণ্ঠস্বরকে জোরালো করার মঞ্চ হিসাবেই দেখতে চাইছে ভারত। দিল্লির অবস্থান, ব্রিকসের শক্তি তার বহুমাত্রিকতায়, একটি নির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক শিবিরে আটকে থাকায় নয়। এ কারণেই বাণিজ্যিক সংহতির উপর মোদির জোর তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একতরফা পদক্ষেপ, শুল্ক-নীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার মধ্যে সদস্য দেশগুলির নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি। শুধু কথার কথা নয়, তার জন্য কিছু কাঠামোগত উদ্যোগও সামনে রয়েছে। ‘ব্রিকস্ ইনকিউবেটর নেটওয়ার্ক’, ‘স্টার্টআপ ইনোভেশন ফান্ড’ এবং ‘লজিস্টিক্স ও সাপ্লাই-চেন’ সহযোগিতার কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। লক্ষ্য, সদস্য দেশগুলির মধ্যে ব্যবসা, প্রযুক্তি ও পণ্য পরিবহণকে আরও সহজ ও স্থিতিশীল করা।

তবে ব্রিকসের অর্থনীতির চেয়েও রাজনৈতিক ভাবে এ বার যে সাক্ষাৎটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়, সেটি সম্ভবত মোদি-শি বৈঠক। ২০১৯ সালের পরে এই প্রথম শি জিনপিং ভারতে এসেছেন। পূর্ব লাদাখে সামরিক সংঘাতের পরে ভারত-চিন সম্পর্ক যে জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেখান থেকে ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। বিমান যোগাযোগ, ভিসা এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ফেরানোর প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা, বাণিজ্য ঘাটতি এবং কৌশলগত অবিশ্বাস এখনো রয়ে গিয়েছে। ফলে শি-মোদি সাক্ষাৎকে শুধু সৌজন্য বৈঠক হিসাবে দেখছে না দিল্লি। সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা, বাণিজ্য ঘাটতি, বাজারে প্রবেশের সুযোগ, ভিসা এবং চিনা বিনিয়োগ— দুই দেশের সম্পর্কের একাধিক অমীমাংসিত প্রশ্ন আলোচনায় আসতে পারে। সাম্প্রতিক সীমান্ত-আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে সামরিক হটলাইন এবং আন্তঃসীমান্ত নদী নিয়ে যোগাযোগের মতো বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। তবে সম্পর্কের বরফ পুরোপুরি গলেছে, এমন বার্তা দেওয়ার জায়গায় এখনও পৌঁছয়নি দিল্লি। সীমান্তে সেনা মোতায়েন, পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠতা এবং বাণিজ্যিক নির্ভরতার প্রশ্নে ভারতের উদ্বেগ রয়েছে।

ভারত-চিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রশ্নটা সেখানেই। সীমান্তে শান্তি না থাকলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্য ক্ষেত্রগুলি কতটা এগোতে পারে? আবার বিপরীত দিক থেকে দিল্লির বাস্তবতা হলো, চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়। এই দ্বৈত বাস্তবতার মধ্যেই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। চিনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি দীর্ঘ দিনের। বাজারে প্রবেশ, বিনিয়োগ এবং সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে একাধিক সমস্যা রয়েছে। সে জায়গায় একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক ইকনমিক ডায়লগ’-এর সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। তাই শি-মোদি বৈঠক থেকে বড়ো কোনো যুগান্তকারী ঘোষণা না এলেও, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখার পথ তৈরি হলে সেটিই আপাতত দিল্লির কাছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হতে পারে।

ব্রিকসের এই সম্মেলনের রাজনৈতিক গুরুত্ব ঠিক এখানেই। একই মঞ্চে রয়েছেন পুতিন এবং শি। দু-দেশের সঙ্গেই ভারতের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দুই সম্পর্কের প্রকৃতি এক নয়। রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি-নির্ভর দীর্ঘ কৌশলগত সম্পর্ক; চিনের সঙ্গে সীমান্ত-প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও গভীর বাণিজ্যিক যোগ, দুই সমীকরণকে একই সঙ্গে সামলাতে হচ্ছে দিল্লিকে। তার উপর রয়েছে আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক। রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পশ্চিমি চাপ যেমন রয়েছে, তেমনই চিনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কারণে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতার প্রয়োজনও রয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে ভারতের নীতি মূলত ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’— নিজের স্বার্থ অনুযায়ী একাধিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। ব্রিকস্ সেই কৌশলকে প্রকাশ করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ।

ব্রিকসের অর্থনৈতিক আলোচনায় আরও একটি বিষয় ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে— আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জাতীয় মুদ্রার ব্যবহার। সদস্য দেশগুলির মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন বাড়ানো এবং পশ্চিম-নির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার বিকল্প তৈরির আলোচনা চলছে। তবে এখানেও একাধিক মত রয়েছে। ডলারের আধিপত্য কমানোর প্রশ্নে সদস্য দেশগুলির আগ্রহ থাকলেও একটি অভিন্ন মুদ্রা বা সম্পূর্ণ বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ নয়। অর্থনীতির আকার, আর্থিক নীতি এবং রাজনৈতিক স্বার্থে বিশাল ফারাক রয়েছে সদস্য দেশগুলির মধ্যে। তাই দিল্লির জোর বাস্তব সহযোগিতায় — বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে ধাপে ধাপে এগোনো।

এবছরের ব্রিকস্  সম্মেলনের সময়টাও কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আমেরিকা-চিন বাণিজ্যিক টানাপড়েনের প্রভাব বিশ্ব সরবরাহ শৃঙ্খলে পড়ছে। এমন এক সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলির অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কী ভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেই প্রশ্নই সামনে। ভারতের বক্তব্য—বিশ্বের অর্থনীতিকে আরও বহুমুখী করতে হবে। একটি বা কয়েকটি দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে সরবরাহ শৃঙ্খলকে স্থিতিশীল করতে হবে। প্রযুক্তি, শক্তি, খাদ্য এবং পরিবহণের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। ব্রিকসের নতুন উদ্যোগগুলির লক্ষ্যও অনেকটা সেই দিকেই। কিন্তু অর্থনৈতিক সহযোগিতার এই স্বপ্নের সামনে রাজনৈতিক বাস্তবতা কঠিন। ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলির মধ্যে মতবিরোধ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা— সব মিলিয়ে ব্রিকসের ভিতরে ঐকমত্য তৈরি করা সহজ নয়। আগের বৈঠকগুলিতে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে যৌথ অবস্থান তৈরিতেও মতভেদ সামনে এসেছিল।

ফলে,  ব্রিকস্ সম্মেলন ভারতের কাছে নিছক আয়োজক দেশের দায়িত্ব নয়। একই সঙ্গে এটি নয়াদিল্লির কূটনৈতিক ভারসাম্যের পরীক্ষা। পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকবে, কিন্তু ইউক্রেন প্রশ্নে শান্তি ও কূটনীতির বার্তা থেকে সরবে না ভারত। চিনের সঙ্গে সীমান্তে সতর্কতা থাকবে, কিন্তু অর্থনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করবে না। পশ্চিমের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় থাকবে, কিন্তু ব্রিকসের মঞ্চে উন্নয়নশীল দেশগুলির স্বার্থের কথা বলতেও পিছপা হবে না। অর্থাৎ একদিকে রাশিয়া, অন্য দিকে চিন; পাশে ইরান, উপসাগরীয় দেশগুলি; দূরে আমেরিকা ও ইউরোপ—সব ক’টি শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের পৃথক সমীকরণ সামলে নিজের জায়গাটি ধরে রাখাই এখন দিল্লির লক্ষ্য।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!