- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
কলকাতায় জাঁকজমকভাবে শুরু অনূর্ধ্ব ১৩ জাতীয় সাব–জুনিয়র ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা
কলকাতার মাটিতে জাতীয় স্তরের ব্যাডমিন্টনের আসর। শুক্রবার হরিনাভির স্টার ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমিতে জমকালো উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো অনূর্ধ্ব-১৩ জাতীয় সাব-জুনিয়র ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসা এক ঝাঁক প্রতিশ্রুতিমান খুদে শাটলারকে ঘিরে প্রথম দিন থেকেই ছিল উৎসাহের আবহ। আগামী দিনে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের মঞ্চে যাঁদের দেখা যেতে পারে, তাঁদের অনেকেরই শুরুটা হচ্ছে এই প্রতিযোগিতার কোর্ট থেকেই।
এ বারের প্রতিযোগিতার পরিসরও বেশ বড়ো। দেশের ২৮টি রাজ্য এবং পাঁচটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে মোট ৪৬৪ জন প্রতিযোগী যোগ দিয়েছে এই র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতায়। তাঁদের মধ্যে ২৬১ জন কিশোর এবং ২০৩ জন কিশোরী। জাতীয় স্তরের এই মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিত্বও কম নয়। আয়োজক রাজ্য থেকে মোট ৯০ জন শাটলার প্রতিযোগিতায় নামছে। ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিভার সঙ্গে বাংলার উঠতি খেলোয়াড়দের লড়াইও এ প্রতিযোগিতার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও ছিল তারকার ছোঁয়া। ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের প্রাক্তন তারকা চেতন আনন্দের উপস্থিতি বাড়তি মাত্রা যোগ করে অনুষ্ঠানে। দেশের ব্যাডমিন্টন মহলে দীর্ঘ দিন ধরে পরিচিত এই নামকে সামনে পেয়ে খুদে প্রতিযোগীদের উৎসাহও ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য ব্যাডমিন্টন সংস্থার সভাপতি ঊষানাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সচিব শেখর বিশ্বাস। ভারতীয় ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতিও শেখর। ক্রীড়া জগতের পাশাপাশি সঙ্গীতের দুনিয়ার পরিচিত মুখ সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে। ভূমি ব্যান্ডের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের সম্পর্কের জন্য পরিচিত এই সঙ্গীতশিল্পীকে এ দিন দেখা যায় ক্রীড়া অনুষ্ঠানের মঞ্চেও।
তবে উদ্বোধনের জৌলুস পেরিয়ে নজর এখন কোর্টের লড়াইয়ে। অনূর্ধ্ব-১৩ বয়সের এই প্রতিযোগিতা শুধু পুরস্কার জেতার মঞ্চ নয়, জাতীয় স্তরে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও। দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা খুদে খেলোয়াড়দের কাছে এই ধরনের র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতায় ভাল ফল ভবিষ্যতের পথেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণেই প্রথম দিন থেকেই প্রতিটি ম্যাচে থাকছে বাড়তি চাপ, প্রত্যাশা এবং নিজেদের প্রমাণ করার তাগিদ। বাংলার ৯০ জন প্রতিযোগীও সেই লড়াইয়ের বাইরে নয়। ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে তাঁরা কতটা দূর যেতে পারেন, সে দিকে নজর থাকবে আয়োজকদের পাশাপাশি রাজ্যের ব্যাডমিন্টন মহলেরও। জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় দেশের অন্য প্রান্তের খেলোয়াড়দের সঙ্গে একই কোর্টে নামার সুযোগ বাংলার খুদে শাটলারদের কাছে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়েরও বড় ক্ষেত্র।
এ বারের প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারমূল্য ৬ লক্ষ টাকা। সিঙ্গলসের ছেলে ও মেয়েদের বিভাগে চ্যাম্পিয়নরা পাবেন ৭২ হাজার টাকা করে। রানার্স-আপদের জন্য রয়েছে ৩৬ হাজার টাকা। সেমিফাইনালে উঠলেই মিলবে ২৮ হাজার টাকা করে। কোয়ার্টার ফাইনালিস্টদের জন্য পুরস্কার ২৪ হাজার টাকা। ডাবলসেও পুরস্কারের অঙ্ক যথেষ্ট আকর্ষণীয়। ছেলে ও মেয়েদের দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন জুটির হাতে উঠবে ৭৬ হাজার টাকা করে। রানার্স-আপ জুটির জন্য রয়েছে ৩৬ হাজার টাকা। সেমিফাইনালে পৌঁছনো জুটিগুলি পাবে ২৮ হাজার টাকা করে।
ফলে প্রতিযোগিতার শুরুতেই যেমন খুদে শাটলারদের মধ্যে জাতীয় মঞ্চে নিজেদের ছাপ রাখার লড়াই, তেমনই রয়েছে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ। ২৮টি রাজ্য, পাঁচটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং ৪৬৪ জন প্রতিযোগীকে নিয়ে কলকাতায় বসেছে এই লড়াইয়ের আসর। আগামী বুধবার ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে প্রতিযোগিতার। তার আগে একাধিক বিভাগে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার অপেক্ষায় ব্যাডমিন্টনপ্রেমীরা।
❤ Support Us








