Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২৩, ২০২৬

ভবানীপুরের ভোটফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মমতা, ইভিএম-ভিভিপিএটি ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ হাই কোর্টের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভবানীপুরের ভোটফল চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মমতা, ইভিএম-ভিভিপিএটি ও সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ হাই কোর্টের

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দায়ের করা নির্বাচনী মামলায় (ইলেকশন পিটিশন) গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যেমন ইভিএম-ভিভিপিএটি এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনও তথ্য মুছে ফেলা বা নষ্ট করা যাবে না।
মামলার পরবর্তী শুনানি দুই মাস পর।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভোটগণনার ফলাফলে দেখা যায়, শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১১৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ জয়ের পর রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন যে, নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে ভবানীপুর কেন্দ্রকেই নিজের রাজনৈতিক কর্মক্ষেত্র হিসেবে রাখবেন।

ভোটের এই ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই গত ১৬ জুন কলকাতা হাইকোর্টে ইলেকশন পিটিশন দায়ের করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মামলার শুনানির দিন তিনি নিজে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল নেত্রী দোলা সেন, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অন্যান্যরা। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সে মামলার নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। একই পথ অনুসরণ করে এবার ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফল নিয়েও আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি।

নির্বাচনী তথ্য সংরক্ষণ নিয়ে ভারতের নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট বিধি রয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর ৪৫ দিন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ, ওয়েবকাস্টিং রেকর্ড এবং ইভিএম-এর ‘মেমোরি লগ’ সংরক্ষিত রাখা হয়। অন্যদিকে, ভিভিপিএটি -এর কাগজের স্লিপ এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যদি নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালত সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়, তাহলে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য ও নথি সংরক্ষণ করে রাখতে হয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে নির্বাচন কমিশন তথ্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধিতে সংশোধন আনে। এর আগে বিভিন্ন ধরনের নির্বাচনী তথ্য তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণের প্রচলন ছিল। ১৯৬১ সালের ‘কনডাক্ট অব ইলেকশন রুলস’-এ সংশোধন এনে ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষা এবং তথ্যের সম্ভাব্য অপব্যবহার রোধের যুক্তিতে নতুন বিধি কার্যকর করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফলাফল ঘোষণার ৪৫ দিনের মধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায়, হাইকোর্ট মামলার প্রাথমিক পর্যায়েই সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ ও গণনা সংক্রান্ত সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপাতত আদালতের তত্ত্বাবধানে সুরক্ষিত থাকবে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!