Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২৪, ২০২৬

চিনের সঙ্গে ‘স্বাভাবিক’ সম্পর্কে জোর দিল্লির ! ইরান সমীকরণ, বাংলাদেশের ‘তৃতীয় পথ’-এ বদলে যাচ্ছে এশিয়ার কূটনীতির সমীকরণ ?

ইমরাজ হাসান
চিনের সঙ্গে ‘স্বাভাবিক’ সম্পর্কে জোর দিল্লির ! ইরান সমীকরণ, বাংলাদেশের ‘তৃতীয় পথ’-এ বদলে যাচ্ছে এশিয়ার কূটনীতির সমীকরণ ?

সীমান্তে এখনো অমীমাংসিত বিরোধ। লাদাখ থেকে অরুণাচল— প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর এখনো মুখোমুখি অবস্থানে দুদেশের সেনা। গালওয়ানের রক্তাক্ত সংঘর্ষের স্মৃতিও খুব বেশি পুরনো নয়। তবু সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছেসংঘাতের ভাষা থেকে সরে এসে নতুন এক বাস্তববাদী সমীকরণের দিকে এগোতে চাইছে নয়াদিল্লি ও বেজিং। প্রকাশ্যে স্বাভাবিক’ শব্দটি ব্যবহার না করলেও, প্রতিবেশী দু-দেশ যে সংঘাতের আবহ থেকে বেরিয়ে এসে সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ও পূর্বানুমেয় পথে নিয়ে যেতে আগ্রহীতা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এ কোনো ঐতিহাসিক পুনর্মিলন নয়বরং পরিবর্তিত এশীয় ভূ-রাজনীতির বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে দুই বৃহত্তম শক্তির মধ্যে সম্পর্ককে নিয়ন্ত্রিত ও স্থিতিশীল রাখার এক হিসাবি প্রচেষ্টা। এর পিছনে কেবল ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রশ্ন নেই। বরং দক্ষিণ এশিয়াপশ্চিম এশিয়া এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দ্রুত বদলে যাওয়া
ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতাই 
রাষ্ট্রনেতাদের বাস্তববাদী অবস্থান নিতে বাধ্য করছে। সম্প্রতি ব্রিকসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে এসে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই যে মন্তব্য করেছেনতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত ও চিনকে  প্রতিদ্বন্দ্বী নয়অংশীদার’ বলে উল্লেখ করে তিনি দুই দেশকে পরস্পরের মূল স্বার্থকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রনেতাদের মধ্যে হওয়া ঐকমত্য বাস্তবায়নের কথাও বলেন।

চিনা বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছেসীমান্ত সমস্যাকে সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একমাত্র নির্ধারক হতে দেওয়া উচিত নয়। বরং সীমান্ত প্রশ্নের সমাধানের জন্য আলাদা পরিসর রেখে বাণিজ্যঅর্থনীতিবিনিয়োগযোগাযোগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। ওয়াং ই-র বক্তব্যদুই দেশ পরস্পরের মূল স্বার্থকে সম্মান করবেস্পর্শকাতর বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেবে, সীমান্ত বিরোধকে এমন জায়গায় রাখবে যাতে তা গোটা সম্পর্কের উপর ছায়া ফেলতে না পারে। নয়াদিল্লির তরফ থেকেও সুর ছিল ইতিবাচক। বৈঠকের পরে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানানদ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছেদুপক্ষই মনে করেছে যে ধাপে ধাপে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে এগোনো প্রয়োজন। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা অজিত ডোভালও সম্পর্ক স্থিতিশীল করার পক্ষে সওয়াল করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘স্থিতিশীলপূর্বানুমেয় এবং গঠনমূলক ভারত-চিন সম্পর্কই পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির মূল ভিত্তি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্রিকস দেশগুলির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরে বলেন, ‘পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদসাইবার নিরাপত্তা  উদীয়মান প্রযুক্তি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্রিকসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ কূটনৈতিক মহলের মতেমোদির এ মন্তব্য শুধু ব্রিকসের প্রশংসা নয়বরং বৃহত্তর বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার প্রতি দিল্লির সমর্থনেরও ইঙ্গিত। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মেরুকরণ, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত— একাধিক সংকট বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে যখন নাড়া দিচ্ছে, তখন ভারতের অবস্থান কৌশলী হওয়াই অনুমেয়। ব্রিকস বৈঠকে অজিত ডোভালও নানান বৈশ্বিক উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে এক অস্থির বিশ্বের ছবি। বিশ্ব ক্রমশ উথালপাথাল সময়ের দিকে এগোচ্ছে। ভূকৌশলগত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। শুধু নতুন বিপদের ঝুঁকিই নয়সংঘাত নিরসনের জন্য যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও কাঠামোগুলি ছিলসেগুলিও ক্রমশ অকার্যকর হয়ে পড়ছে’— বলেন তিনি। এ কারণেই আমেরিকা ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছে দিল্লি।

চিন প্রসঙ্গে কূটনৈতিক মহলের মতগালওয়ানের পরে দুদেশের মধ্যে এ ধরনের ইতিবাচক বার্তা খুব কমই দেখা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছেঠিক এ সময়েই কেন চিনের সঙ্গে সম্পর্ককে তুলনামূলক স্থিতিশীল করার পথে হাঁটছে ভারতবিদেশ মন্ত্রকের প্রাক্তন  আধিকারিকের মতেএর উত্তর খুঁজতে হলে নজর দিতে হবে ভারতের আশপাশের বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশের দিকে। পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা তার অন্যতম উদাহরণ। ইরানকে ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। সে আলোচনায় পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকা অনেকের নজর কেড়েছে। ওয়াশিংটন  তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ যে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তা প্রকাশ্য। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের পাকিস্তান সফর, ইসলামাবাদে মার্কিন-ইরানি শীর্ষকর্তাদের বৈঠক, পরবর্তীতে ‘শান্তিচুক্তি’-তে মধ্যস্থতা, কূটনৈতিক যোগাযোগ ইসলামাবাদের কৌশলগত গুরুত্বও বাড়িয়েছে। ভারতের কাছে বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণদীর্ঘদিন ধরেই ইরান ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের অন্যতম প্রধান সঙ্গী। চাবাহার বন্দর প্রকল্পে ভারতের বিনিয়োগ তারই প্রতিফলন। কিন্তু যদি পশ্চিম এশিয়ার নতুন সমীকরণে পাকিস্তান উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে শুরু করেতা হলে নয়াদিল্লির কৌশলগত হিসাবও বদলাতে বাধ্য।

এ পরিস্থিতিতে চিনের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা বজায় রাখার ঝুঁকি নিতে চাইছে না ভারত। বরং পশ্চিম এশিয়াইন্দো-প্যাসিফিক এবং দক্ষিণ এশিয়ার নানা কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ সামলাতে গিয়ে নয়াদিল্লি এখন বহুমুখী স্থিতিশীলতার নীতি গ্রহণ করছে। অর্থনৈতিক কারণও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন সত্ত্বেও চিন এখনো ভারতের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। ইলেকট্রনিক্সসৌরশক্তিশিল্প যন্ত্রপাতিরাসায়নিক দ্রব্য থেকে শুরু করে উৎপাদন শিল্পের অসংখ্য ক্ষেত্রে ভারতীয় সংস্থাগুলি চিনা সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। কেন্দ্র যখন উৎপাদন বৃদ্ধিরফতানি সম্প্রসারণ এবং বিশ্ব উৎপাদন ব্যবস্থায় নিজেদের ভূমিকা বাড়ানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছেতখন চিনের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার পথ যে বাস্তবসম্মত নয়তা নীতিনির্ধারকেরা ভাল করেই জানেন।

ভারতের নয়া চিন-নীতির এ প্রেক্ষপটে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। পাকিস্তান, চিনের সঙ্গে ঢাকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি,  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চিন সফর নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে দিল্লির। বিশেষ করে যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তিস্তা প্রকল্প। ঢাকা সূত্রে জানা যাচ্ছেচিনের সঙ্গে অবকাঠামোবাণিজ্যপ্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং তিস্তা অববাহিকা উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিস্তা প্রকল্পে চিনা অংশগ্রহণ নিয়ে আগ্রহ দেখিয়ে এসেছে বেজিং। এবার সে আলোচনা নতুন গতি পেতে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। দিল্লির কাছে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণবাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল  তিস্তা অববাহিকার উন্নয়ন প্রকল্পে চিনের সরাসরি উপস্থিতি উত্তর-পূর্ব ভারতে কৌশলগত উদ্বেগ বাড়াতে পারে। বিশেষত শিলিগুড়ি করিডরের ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে বাংলাদেশে চিনের প্রভাব বৃদ্ধি ভারতের নিরাপত্তা মহলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই আঞ্চলিক সমীকরণ গড়ে উঠেছে। কিন্তু তারেক রহমান তাঁর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফরের জন্য দিল্লিকে নয়বেছে নিয়েছেন মালয়েশিয়া, তার পর চিনকে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানও তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত অথবা চিন কোনো পক্ষেই সম্পূর্ণ ঝুঁকে পড়ার বদলে ঢাকা এখন ভারসাম্যের নীতি অনুসরণ করছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। অর্থনৈতিক লাভ এবং কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখতে দুই বৃহৎ শক্তির সঙ্গেই সম্পর্ক রেখে চলার চেষ্টা করছে বাংলাদেশ। অনেকে আবার, তারেকের  মালয়েশিয়া সফরকে তাই অনেকেই সফট ডিপ্লোমেসি’-র অংশ হিসেবে দেখছেন। বার্তাটি স্পষ্ট— বাংলাদেশ কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে নয়কিন্তু নিজের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার নিজেই নির্ধারণ করবে।

বাংলাদেশ বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার চাপশিল্পায়নের চ্যালেঞ্জকর্মসংস্থান বৃদ্ধিঅবকাঠামো উন্নয়ন এবং রফতানি সম্প্রসারণের মতো একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে। এ প্রেক্ষাপটে চিনের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ঢাকার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চিন ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদারদের অন্যতম। তৈরি পোশাক শিল্পওষুধ উৎপাদনবিদ্যুৎনির্মাণযন্ত্রপাতিবন্দর উন্নয়নরেল ও সড়ক পরিকাঠামো— প্রায় সব ক্ষেত্রেই চিনা বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির উপস্থিতি রয়েছে। ঢাকার নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করেনভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিরাপত্তাসীমান্তনদী ব্যবস্থাপনাআঞ্চলিক সংযোগ এবং মানুষে-মানুষে সম্পর্কের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থায়নপ্রযুক্তিদ্রুত অবকাঠামো নির্মাণযা ভারত একা দিতে সক্ষম নয়।

অন্যদিকেচিন  ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বড়ো সুযোগ এনে দিচ্ছে। দ্রুত অর্থায়নদ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন  তুলনামূলক কম রাজনৈতিক শর্ত আরোপের কারণে বেজিংয়ের প্রস্তাবগুলি ঢাকার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তবে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের একাংশও সতর্ক। কারণঅতিরিক্ত ঋণনির্ভর উন্নয়নঅস্বচ্ছ চুক্তি অথবা একমুখী প্রযুক্তিগত নির্ভরতা ভবিষ্যতে নতুন অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে ঢাকা এখন এমন এক পথ খুঁজছে যেখানে ভারতকে বাদ না দিয়েও চিনের অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করা সম্ভব। বিশ্লেষকদের মতেএটাই বাংলাদেশের তথাকথিত তৃতীয় পথের কূটনীতি। ভারত বা চিন এক পক্ষকে বেছে নেওয়া নয়বরং দুই শক্তির সঙ্গে আলাদা আলাদা স্বার্থভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তাসীমান্তনদীজ্বালানি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সম্পর্ক। চিনের সঙ্গে অর্থায়নশিল্পায়নপ্রযুক্তিবাণিজ্য   অবকাঠামোর সম্পর্ক।

পরিবর্তিত এ বাস্তবতাই সম্ভবত দিল্লিকে নতুন করে চিনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার ছোটো ও মাঝারি রাষ্ট্রগুলি আর আগের মতো একক শক্তির উপর নির্ভরশীল থাকতে চাইছে না। তারা বহুমুখী অংশীদারিত্বের পথ খুঁজছে। ফলে ভারতের কাছেও সংঘাতের বদলে প্রতিযোগিতামূলক সহাবস্থান এখন অনেক বেশি বাস্তবসম্মত বিকল্প। সীমান্ত সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। পারস্পরিক অবিশ্বাসও দূর হয়নি। ভারত মহাসাগরদক্ষিণ এশিয়াপ্রযুক্তিগত প্রভাব বিস্তারের প্রশ্নে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও অব্যাহত। কিন্তু ওয়াং ই-র অংশীদারপ্রতিদ্বন্দ্বী নয়’ বার্তাডোভালের স্থিতিশীল সম্পর্ক’-এর উপর জোরমোদির ব্রিকস-কেন্দ্রিক বহুপাক্ষিকতার আহ্বানপাকিস্তানের নতুন কূটনৈতিক সক্রিয়তা এবং বাংলাদেশের ভারসাম্যনীতির মধ্যে এক অভিন্ন সূত্র খুঁজে পাচ্ছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।

তাঁদের মতেএশিয়া এখন কঠোর মেরুকরণের যুগ থেকে ধীরে ধীরে বহুমেরুকেন্দ্রিক বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। আর সে বাস্তবতায় ভারতের বর্তমান চিন-নীতি সমঝোতার নয়বরং কৌশলগত নমনীয়তা বজায় রেখে বৃহত্তর আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষার এক হিসাবি প্রয়াস। ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চও সে প্রক্রিয়াকে আরও উৎসাহ দিচ্ছে। বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য যখন দ্রুত বদলাচ্ছে, পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিকল্প কাঠামো গড়ে তোলার আলোচনা জোরদার হচ্ছেতখন ভারত ও চিন— দুদেশই ব্রিকসকে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে আগ্রহী।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!