- এই মুহূর্তে দে । শ
- ডিসেম্বর ১৪, ২০২২
লালন মৃত্যুর তদন্তভার সিআইডির হাতেই, রায় আদালতের। কবরের পর ময়নাতদন্ত কীভাবে, উঠছে প্রশ্ন ?
বগটুই কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত লালন শেখের মৃত্যুর তদন্তভার পেল সিআইডি। বুধবার লালনের পরিবারের বক্তব্য শুনে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত রাজ্য পুলিসের গোয়েন্দা শাখার ওপরই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবার দায়িত্ব দিলেন। পাশাপাশি লালনের দ্বিতীয়বার ময়না তদন্তের নির্দেশ দিলেন বিচারপতি।
প্রসঙ্গত সোমবার রামপুরহাটে সিবিআইএর অস্থায়ী শিবিরে লালন শেখের ঝুলন্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়। সিবিআই এই ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’ টিকে ‘আত্মহত্যা’ বলে দাবি করলেও লালনের পরিবার পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তোলেন। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই সিআইডিকে হত্যার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কোর্টের নির্দেশে সিবিআইও তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু রাজ্য পুলিশ পাল্টা খুনের এফআইআর দায়ের করায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তা খারিজের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে সিবিআইএর আইনজীবী বলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা ঠিক নয়। লালন শৌচাগারে আত্মহত্যা করেন।তার ওপরে সিবিআই অত্যাচারের কোনও তথ্য প্রমাণ নেই। এমনকি তার শরীরে কোনো আঘাত বা ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আইনজীবী আরো বলেন, গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতারকারী দুই আধিকারিককেও এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।ফলে সেই মামাল থেকে নজর ঘোরাতেই রাজ্য সরকারের এই পাল্টা অভিসন্ধির অভিযোগ তুলেছেন তারা।
বিচারপতি এই মামলায় লালনের স্ত্রীকেও যুক্ত করবার নির্দেশ দিয়েছেন।এপ্রসঙ্গে বিচারপতির স্পষ্ট বক্তব্য, অভিযুক্তের স্ত্রীর বক্তব্য না শুনে আদালত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। রাজ্যের আইনজীবীর কাছে তিনি জানতে চেয়েছেন, একজন সদ্য স্বামী হারানো স্ত্রী, এত নিঁখুত অভিযোগ কি করে জানাতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে, রাজ্যের আডভোকেট জেনারেল জানান, লালন শেখের মৃতদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে তার স্ত্রীর অভিযোগ নথিভূক্ত হয়েছে। তিনি আরো দাবি করেন, এই ময়নাতদন্তের বিষয়ে রাজ্য পুলিসের কোন ভূমিকা ছিল না, তাই দ্বিতীয়বার ময়না তদন্তের আর্জি জানানো হয়েছে। সেই অনুরোধে সাড়া দিয়েছেন বিচারপতি সেনগুপ্ত।তবে কবর হয়ে যাওয়ার পর কীভাবে ময়না তদন্ত হবে, সেই নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।
সিবিআই এর তরফে সিআইডির তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও বিচারপতি সিআইডির ওপরই তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আস্থা পোষণ করেন। পাশাপাশি বলেন যে গোটা তদন্তই ভিডিওগ্রাফি করতে হবে। তবে যে সমস্ত অভিযুক্ত আধিকারিকরা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তদন্তের দায়িত্বে আছেন তাঁদের বিরুদ্ধে এখনই রাজ্য পুলিশ কঠোর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই সিবিআই আধিকারিকদের কার্যকারিতা নিয়ে নিজের অসন্তোষ ব্যক্ত করেছেন। তার বক্তব্য, সিবিআই যদি এতই দক্ষ হয় তাহলে এই হত্যা হল কেন? যদিও লালন কান্ডে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে সন্দেহ প্রকাশ করেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। তাদের অভিযোগ, নবান্ন এই মামলায় হস্তক্ষেপ করছে,শাসক দল হত্যাকাণ্ডের রাজনীতিকে নিয়ে নতুন খেলায় মেতেছে। কেন্দ্রীয় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে রাজ্য রাজনীতিতে জলঘোলা করতে চাইছেন তাঁরা।
❤ Support Us







