Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১৪, ২০২৬

শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
শেক্সপিয়র সরণি থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদ

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় কার্যালয়ের বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে অবশেষে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিলেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার, দুর্গা-চতুর্থীর সকালে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১১টা নাগাদ তিনি থানায় পৌঁছন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর এক আইনজীবী। থানার সামনে গাড়ি থেকে নামার পর সাংবাদিকরা তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করলেও কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই তিনি ভিতরে প্রবেশ করেন। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলির তদন্তের স্বার্থেই অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ অগস্ট। ওই দিন ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে লাগানো একটি বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। বিলবোর্ডটিতে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ লেখা ছিল। কলকাতা পুরসভার দাবি, বিলবোর্ডটি অনুমোদনহীন বা বেআইনি। সেই কারণেই সেটি খুলতে যান পুরসভার আধিকারিক ও কর্মীরা। কিন্তু বিলবোর্ড খোলার সময় তাঁদের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিষেকের অফিসের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে পুলিশকর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ ও পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের হেনস্থা ও মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। এমনকী, অফিসে ঢোকার চেষ্টা করার সময় পুলিশকর্মীদের কলার ধরে মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ধস্তাধস্তির মধ্যে কয়েক জন পুলিশকর্মী সিঁড়িতে পড়ে যান বলেও জানা যায়। মহিলা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও সামনে আসে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পুরসভার কর্মীরা বিলবোর্ডটি খুলে দেন। ঘটনায় কয়েক জনকে আটকও করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

এই ঘটনার পর কলকাতা পুরসভার অভিযোগের ভিত্তিতে শেক্সপিয়র সরণি থানায় তিনটি মামলা রুজু হয়। তার মধ্যে দু’টি মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীর-সহ দলের একাধিক নেতার নামও অভিযোগে রয়েছে। ওই মামলাগুলির তদন্তের অংশ হিসেবেই অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠায় পুলিশ।

প্রথমে তাঁকে সোমবার থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই মর্মে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ তাঁর বাড়িতে গিয়ে নোটিসও দেয়। নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছিল, সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে তাঁকে থানায় হাজির হতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে থানায় উপস্থিত হননি তৃণমূল সাংসদ। পরিবর্তে, তলবের জবাবে ইমেল পাঠিয়ে হাজিরার আগে ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে নেন তিনি।

এর পরেই সোমবার ফের অভিষেকের বাড়িতে যান পুলিশ আধিকারিকরা। সেখানে তাঁকে বুধবার হাজিরা দেওয়ার নতুন নোটিস দেওয়া হয়। নোটিস অনুযায়ী, বুধবার সকাল ১১টায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ ছিল। সেই নির্দেশ মেনেই এ দিন সকালে আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় পৌঁছন অভিষেক।

উল্লেখ্য, বিলবোর্ড কাণ্ডে পুরসভার দায়ের করা অন্য একটি মামলায় এর আগেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এ বার পুরসভার আরও একটি এফআইআরের ভিত্তিতে তাঁকে ফের থানায় তলব করা হয়। গোটা ঘটনায় পুলিশ ও পুরকর্মীদের কাজে বাধা, হেনস্থা এবং মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে, তা খতিয়ে দেখতেই তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

চতুর্থীর সকালে অভিষেকের থানায় হাজিরাকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই নজর ছিল রাজনৈতিক মহল ও সংবাদমাধ্যমের। তবে থানায় ঢোকার আগে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি তৃণমূল সাংসদ। এখন তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে কী কী তথ্য উঠে আসে, সে দিকেই নজর রয়েছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!