- এই মুহূর্তে দে । শ
- আগস্ট ২৭, ২০২৫
দুর্গাপুজোয় সরকারি অর্থ বিতরণে শৃঙ্খলার বার্তা হাইকোর্টের
বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব, ঐতিহ্য আর আবেগের উৎসব দুর্গাপুজো। কিন্তু রাজ্যের অনুদান ঘিরে সেখানেই উঠেছে প্রশ্ন চিহ্ন। তাই, আবেগ আর উৎসবের আবরণে আর লুকিয়ে থাকবে না কোনো প্রকার হিসাবের গরমিল। সরকারি অনুদানের টাকায় উৎসব সুষ্ঠভাবে হোক, তাতে আপত্তি নেই, কিন্তু খরচের প্রতি থাকতে হবে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা, এদিন এ বার্তাই আরো একবার কড়া ভাষায় জানিয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার, বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যে সমস্ত পুজো কমিটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ জমা দেয়নি, তারা কোনোভাবেই সরকারি অনুদানের জন্য বিবেচিত হবে না। এমনকী, ভবিষ্যতেও এ নিয়মে কোনো শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না।
দুর্গাপুজো উপলক্ষ্যে, পুজো কমিটিগুলিকে সরকারী অনুদান ও তাতে আর্থিক অস্বচ্ছতা সম্পর্কিত মামলার শুনানিতে, রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালে মোট ৪১,৭৯৫টি পুজো কমিটি অনুদান পেয়েছিল, যার মধ্যে শিলিগুড়ির মাত্র ৩ টি ক্লাব খরচের হিসেব জমা দেয়নি, বাকি সবাই খরচের খতিয়ান পেশ করেছে। এ তথ্য সামনে আসতেই বিচারপতি সুজয় পাল মন্তব্য করেন, ‘সংখ্যাটা এতটাই কম যে দেখতে মাইক্রোস্কোপ লাগবে। তবে নিয়ম ভাঙা অল্প হলেও তা অনিয়মের মধ্যেই পড়ে। ফলে ছাড় দেওয়া যাবে না।’ এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন সৌরভ দত্ত নামের এক ব্যক্তি। মামলাকারীর অভিযোগ, প্রতি বছর সরকার পুজো কমিটিগুলোকে কোটি কোটি টাকা অনুদান দিলেও, তার উপযুক্ত হিসেব রাখছে না। আদালতের একাধিক নির্দেশ সত্ত্বেও, হিসাব চাওয়া বা দাখিল, দু-ক্ষেত্রেই থেকে যাচ্ছে অস্বচ্ছতা।
এদিন, মামলার শুনানিতে অভিযোগকারীর পক্ষের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং নন্দিনী মুখোপাধ্যায় আদালতে বলেন, ‘২০১৮ সালে হাইকোর্ট বলেছিল, ক্লাবগুলিকে ‘কমিউনিটি পুলিশিং’-এর উদ্দেশ্যে অর্থ দিলে তার পুরো খতিয়ান থাকতে হবে। এমনকী, সুপ্রিম কোর্টও বলেছে, পুলিশের মাধ্যমে টাকা বিলি হোক এবং তার হিসেব অবশ্যই নেওয়া হোক।’ পাল্টা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, এ অনুদান মূলত দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ সহ নানা সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ করা হয়। কোভিডের সময়ও কিছু অর্থ খরচ হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মানতে। এখানে আদালতের প্রশ্ন, বিপুল এ অর্থ খরচ কীভাবে হল, তার খতিয়ান কোথায়? এ ব্যাপারে দায় এড়ানোর কোনো উপায় নেই রাজ্য সরকারের। এরপরই ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, শুধুমাত্র সেই সমস্ত ক্লাবই ২০২৫ সালের দুর্গাপুজোয় অনুদান পাবে, যারা ২০২৪ সালে প্রাপ্ত অনুদানের হিসেব নির্ধারিত সময়ে জমা দিয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ, এবার যারা অনুদান পাবে, তাদের পুজো শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই খরচের পূর্ণাঙ্গ হিসাব রাজ্য সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। সময়সীমা না মানলে ভবিষ্যতে অনুদান বন্ধ।
প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে সরকারী অনুদান বিতরণকে ঘিরে ধারাবাহিকভাবে উঠেছে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। বিরোধীদের বক্তব্য, পুজোর নামে ক্লাবপিছু টাকা দিয়ে আসলে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছে শাসক দল। প্রায় প্রতিবছর আদালতে এ সংক্রান্ত মামলা হয়, আদালতের একাধিক নির্দেশ থাকলেও তা যথাযথভাবে পালন করা হয় না। এবার আদালতের পর্যবেক্ষণে সে বিতর্কই ফিরে এল আরো জোরালো ভাবে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের নাগরিক সমাজের একাংশও। তাঁদের কথায়, ‘সরকারি টাকা মানে তা আদতে জনগণের টাকা। পুজোর আবেগ আর টাকার অপচয় এক জিনিস নয়। হিসাবের গাফিলতি থাকলে, সেটা কখনো মেনে নেওয়া যায় না। আদালতের এ রায় সময়োপযোগী এবং ততোধিক গুরুত্বপূর্ণ।’
❤ Support Us





