- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১৪, ২০২৬
কয়লা পাচার কাণ্ডে গ্রেফতার ‘আইপ্যাক’-এর শীর্ষ কর্তা, দশ দিনের ইডি হেফাজত। ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অভিষেকের, পাল্টা জবাব পদ্মের
পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফা বিধানসভা নির্বাচনের আর ঠিক ৯ দিন বাকি। প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক আগে, সোমবার রাতে নতুন করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি বনাম রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের সংঘাত চরমে পৌঁছল। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় সোমবার রাতে দিল্লিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বা ইডি-র হাতে গ্রেপ্তার হন ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অন্যতম সহ–প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেল। বিচারক অভিযুক্তকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশের নির্বাচন কমিশন অর্থাৎ ইসি, কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যখন পশ্চিমবঙ্গে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা, তখন এ ধরনের পদক্ষেপ এক ভয়ংকর বার্তা দিচ্ছে— আপনি যদি বিরোধীদের হয়ে লড়াই করেন, তবে পরবর্তী টার্গেট আপনিও হতে পারেন। এটা গণতন্ত্র নয়, এটা স্রেফ ভয় দেখানোর চেষ্টা।’ পোস্টে হুঁশিয়ারির সুরে অভিষেক লিখেছেন, ‘অমিত শাহ এবং বিজেপির ক্ষমতাশালীদের প্রতি বার্তা— আগামী ৪ এবং ৫ মে আপনারা বাংলায় থাকুন। সঙ্গে আনুন জ্ঞানেশ কুমার এবং আপনাদের প্রতিটি এজেন্সিকে। বাংলাকে ভয় দেখানো যাবে না, চুপ করানো যাবে না এবং বাংলা কখনও মাথা নোয়াবে না। এই মাটি প্রতিরোধ করতে জানে, এবং সেটার মানে কী, তা বাংলা আপনাদের বুঝিয়ে দেবে।’
প্রসঙ্গত, আইপ্যাক -এর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলা দায়ের করে দিল্লির অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা । প্রতারণা, ষড়যন্ত্রের অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা এই সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে চলতি বছরের ২৪ মার্চ। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-র অভিযোগ, আইপ্যাক হলো একটি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা। তারা বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়েছে। কেন অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ইডি জেরা করতে চাইছে, তার যুক্তি হিসেবে ইডি আদালতে জানিয়েছে, অভিযুক্তকে তারা সাক্ষীদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চায়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাদের কাছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। তারা অভিযুক্তের সামনে সেগুলি পেশ করে তাঁর বক্তব্য জানতে আগ্রহী।
অভিযুক্তের আইনজীবী বিকাশ পাহওয়া আদালতে জানান, অভিযোগ যদি সত্য বলে ধরেও নেওয়া যায়, তাহলেও তা জিএসটি এবং আয়কর আইনের অধীন। হিসাব বহির্ভূত অর্থ মানেই তা টাকা পাচার নয়। আইনজীবী আদালতে আরও জানান, অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করার দরকার নেই। কারণ, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় তিনি ইতিমধ্যেই তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। তবে ইডি ধৃতকে নিয়ে কি করে সেটাই দেখার। তবে বিগত নির্বাচনগুলির আগে দেখা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগে শাসক দলের নেতানেত্রী ও তাদের সঙ্গে সম্পর্কিতদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এবারও যে তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না সেটা বলা বাহুল্য।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈনের কলকাতার বাড়ি ও সল্টলেকে সংস্থার অফিসে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালায় ইডি। তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের তৎকালীন কর্তারা তল্লাশিতে বাধা দেন বলে অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি। সেই মামলার শুনানি আজ, মঙ্গলবার ধার্য ছিল শীর্ষ আদালতে। তবে বাবা সাহেব আম্বেদকরের জন্মদিন উপলক্ষে আজ ছুটি থাকায় সেই শুনানির দিন পিছিয়ে গিয়েছে। আবার প্রতীক জৈন ও আইপ্যাকের আর এক কর্তা ঋষিরাজ সিং ইডির পাঠানো নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তার শুনানি হওয়ার কথা ১৭ এপ্রিল। তার মধ্যেই সোমবার এই গ্রেপ্তারিতে শাসক–বিরোধী রাজনৈতিক তরজা চূড়ান্ত জায়গায় পৌঁছেছে।
এদিকে এই ঘটনায় রাজ্য বিজেপির এক নেতা কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘ভোটের ফলে পরাজয় নিশ্চিত জেনেই তৃণমূল কখনো নির্বাচন কমিশন, কখনও ইডি, কখনও অন্য কাউকে দোষারোপ করছে। কমিশন বা ইডি আইনমাফিক তাদের যা করার করছে। বিজেপির সঙ্গে এদের কোনও সম্পর্ক নেই। আমরা শুধুমাত্র ভোটের লড়াইয়ের দিকে মনোনিবেশ করছি।’
❤ Support Us






