- এই মুহূর্তে দে । শ
- এপ্রিল ১৩, ২০২৬
ভোটের আগে কড়া নজরদারি, ৩ দিনের বঙ্গ সফরে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার। ভিনরাজ্যের আইপিএসকে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব
দিন দশেক পার হলেই রাজ্যে শুরু ভোট। তার আগে বাংলার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ফের কড়া পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নজরদারি আরও জোরদার করতে এবার ভিনরাজ্যের আইপিএস অফিসারকে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নবনিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক সর্বানা বিবেক এম, ওড়িশা ক্যাডারের অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের ভোটপর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ কতটা সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাতে হবে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে।
কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে একাধিক রদবদল করেছে কমিশন। বিশেষ করে পুলিশ ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ভিনরাজ্যের আধিকারিকদের নিয়োগের প্রবণতা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে। একাধিক পুলিশ আধিকারিক ও আইপিএস অফিসারকে সরিয়ে তাঁদের জায়গায় অন্য রাজ্যের অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নয়া নিয়োগ ও রদবদল ঘিরে আগেও আপত্তি তুলেছিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে সে আপত্তি সত্ত্বেও কমিশনের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি বলেই প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে হিংসার অভিযোগ নতুন নয়। বিভিন্ন সময় বোমাবাজি থেকে শুরু করে খুন—একাধিক ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থেকেছে রাজ্যের নানা জেলা। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ এবং মালদহের একাধিক এলাকায় সেই সময় সংঘর্ষ ও অশান্তির ঘটনা ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল বলে প্রশাসনিক মহল দাবি করেছে। ভোটের দিন বা পরবর্তী সময়ে কোনও বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা না ঘটায় কমিশনও সেই নির্বাচনকে ‘স্থিতিশীল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল।
এ প্রেক্ষিতেই ২০২৬ সালের নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রিত রাখাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কমিশনের শীর্ষ আধিকারিক জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ভোট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত আধিকারিককে নিরপেক্ষভাবে কমিশনের নির্দেশ মেনে কাজ করতে হবে। কোনও রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাত ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যের প্রতিটি পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোথাও কোনও ধরনের অশান্তি বা হিংসার ঘটনা ঘটলেই দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে। এরই মধ্যে ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আরও সক্রিয় হচ্ছে কমিশন। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন। হাতে আর মাত্র দশ দিন বাকি থাকায় সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে কমিশনের উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ সফর। ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীর নেতৃত্বে একটি দল তিন দিনের জন্য বাংলায় আসছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আরও দুই জন সিনিয়র কমিশনারও থাকবেন। সরাসরি মাঠে নেমে জেলার ভোট প্রস্তুতি পর্যালোচনা করবেন তাঁরা।
সূত্রের খবর, সফরের প্রথম দিনেই পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং কলকাতার ভোট প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবে কমিশনের প্রতিনিধি দল। একই দিনে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছে একটি দল আলিপুরদুয়ারের দিকেও রওনা দেবে। বিকেলে ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গেও পৃথকভাবে কমিশনের আরেকটি দল পৌঁছচ্ছে। ১৪ এপ্রিল আলিপুরদুয়ার থেকে শুরু করে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং ও দার্জিলিং—ধাপে ধাপে বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক ও পর্যালোচনা চলবে। ১৭ এপ্রিল দার্জিলিং থেকে দিল্লি ফেরার কথা রয়েছে ওই দলের। ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত।
❤ Support Us






