Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • অক্টোবর ১৪, ২০২৫

হরিয়ানায় ফের পুলিশ আধিকারিকের ‘আত্মহত্যা’! আইপিএস পূরণ কুমারের মৃত্যুর তদন্তকারী অফিসারের সুইসাইড নোটে বাড়ল রহস্য

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
হরিয়ানায় ফের পুলিশ আধিকারিকের ‘আত্মহত্যা’! আইপিএস পূরণ কুমারের মৃত্যুর তদন্তকারী অফিসারের সুইসাইড নোটে বাড়ল রহস্য

হরিয়ানায় অতিরিক্ত ডিআইজি পূরণ কুমারের মৃত্যু তদন্তের জটিলতার মাঝেই আবারও এক পুলিশ আধিকারিকের ‘আত্মহত্যা’ ঘিরে রহস্য আর উত্তেজনা দুই-ই ঘনাচ্ছে। হরিয়ানা পুলিশ সূত্রে খবর, রোহতকের সাইবার সেলের অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইনস্পেক্টর সন্দীপ লাথের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি উদ্ধার হয়েছে ৩ পাতার সুইসাইড নোট। আইপিএস পূরণ কুমারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে, তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র মন্তব্য করেছেন।

জানা যাচ্ছে, সন্দীপ লাথের পূরণ কুমারের মৃত্যু তদন্তের দলে ছিলেন। সন্দীপ তাঁর সার্ভিস রিভলভার দিয়ে রোহতকের একটি মাঠে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি একটি ভিডিও বার্তা ও তিন পাতার সুইসাইড নোট রেখে গেছেন। তাঁর আত্মহত্যার কারণ হিসেবে প্রাথমিক তদন্তে ‘দুর্নীতির অভিযোগ’ উঠে এসেছে। সন্দীপের চিঠিতে তিনি দাবি করেছেন, ‘সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করছি’। এডিজিকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে উল্লেখ করে সন্দীপ লিখেছেন, দুর্নীতি ধরা পড়ার ভয়ে পূরণ কুমার আত্মহত্যা করেছেন। তিনি আরো বলেছেন, ওই আইপিএস কর্মকর্তা জাতিগত বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে পুরো সিস্টেমকে বিভ্রান্ত করেছিলেন।

পুলিশি তদন্তে সন্দীপের সুইসাইড নোটে উল্লেখিত তথ্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, পূরণ কুমারের বিরুদ্ধে তার কাছে যথেষ্ট তথ্য ছিল যা গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি করেছিল। ভিডিওতে তিনি রোহতকের সাবেক পুলিশ সুপার নরেন্দ্র বিজার্নিয়াকে ‘সৎ অফিসার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এডিজি পূরণ কুমারের মৃত্যুর পর থেকে হরিয়ানায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। পূরণ কুমার তাঁর সুইসাইড নোটে ডিজি শত্রুজিত ও পুলিশ সুপার বিজার্নিয়ার বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তুলেছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে রোহতকের পুলিশ সুপারকে বদলি করা হয়েছে এবং ডিজিকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। পূরণ কুমারের স্ত্রী অমনিত মুখ্যমন্ত্রী নবাব সিং সাইনিকে চিঠি লিখে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও, পুলিশের লিখিত অভিযোগে হরিয়ানার ডিজিপি শত্রুজিত কাপুর, রোহতকের পুলিশ প্রধান নরেন্দ্র বিজার্নিয়া ও কয়েকজন পুলিশের বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এফআইআরের পরিমাণ বেড়ে ১৩ জন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়ব সিং সাইনি এই ঘটনাকে ‘একটি দুঃখজনক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। চণ্ডীগড় পুলিশ ইতিমধ্যে একটি ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে, যা মামলার বিস্তৃত অনুসন্ধান করার পথে রয়েছে। সন্দীপের আত্মহত্যা ও তাঁর ভিডিও বার্তায় উল্লিখিত অভিযোগগুলো মূল মামলার তদন্তকে আরো গভীর ও জটিল করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রোহতক পুলিশ সুপার সুরেন্দ্র সিং ভোরিয়া সন্দীপ কুমারকে একজন পরিশ্রমী ও সৎ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় ফরেনসিক তদন্ত চলছে বলে জানান। এই পরিস্থিতিতে হরিয়ানা পুলিশের মধ্যে নানামুখী সমস্যার কথা স্পষ্ট হচ্ছে— দুর্নীতি, চাপ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ থেকে শুরু করে পুলিশি আত্মহত্যার ঘটনাগুলো। তদন্ত এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে সন্দীপের চিঠি ও ভিডিওকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!