- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ১৫, ২০২৫
কোচবিহারের রেলস্টেশনে এসটিএফ-এর অভিযান, উদ্ধার ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের ২৪৬ কেজি মাদক। গ্রেফতার ৫
রেলের ওয়েটিং রুমে হঠাৎ অভিযান। ব্যাগ-ভর্তি গাঁজা দেখে হতচকিত যাত্রীরা। সোমবার সন্ধেয় নিউ কোচবিহার রেলওয়ে স্টেশনে রাজ্য পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২৪৬ কেজি গাঁজা। ঘটনায় ধৃত ৫ জনের মধ্যে রয়েছেন এক মহিলা। উদ্ধার হওয়া মাদকের বাজারমূল্য ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি, জানিয়েছে পুলিশ।
এসটিএফ-এর শিলিগুড়ি ইউনিটের আধিকারিকেরা জানান, গোপন সূত্রে খবর আসে যে নিউ কোচবিহার স্টেশন থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা রাজ্যের বাইরে পাচার করা হবে। খবর পেয়ে সোমবার বিকেল থেকেই চলতে থাকে গোপন নজরদারি। সন্ধ্যা নামতেই ওয়েটিং রুমে হানা দেয় বিশেষ দল। ২০টি বড় ব্যাগ ও ৪টি ট্রলি ব্যাগে মজুত অবস্থায় উদ্ধার হয় বিশাল পরিমাণ গাঁজা। ধৃতদের মধ্যে ৪জন কোচবিহারের সাহেবগঞ্জ ও দিনহাটা এলাকার বাসিন্দা। একজনের বাড়ি বর্ধমান জেলায়। পুলিশ জানিয়েছে, দিনহাটা অঞ্চল থেকেই বিপুল পরিমাণের এই গাঁজা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল, ‘পদাতিক এক্সপ্রেস’ ধরে তা রাজ্যের বাইরে পাঠানো হবে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ ও প্যাকেজিং-এর ধরণ দেখে স্পষ্ট, এটি কোনো বড়ো পাচার চক্রের অংশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সেসব তথ্য জানবার চেষ্টা চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, নিউ কোচবিহার জিআরপি থানায় এনডিপিএস আইনে মামলা রুজু হয়েছে। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘ওদের দেখতে একেবারে সাধারণ যাত্রীদের মতোই লাগছিল। ব্যাগগুলো এমনভাবে মোড়ানো ছিল যে সন্দেহ হওয়ার উপায় ছিল না। কিন্তু আগে থেকেই খবর ছিল, তাই তল্লাশি চালাতেই ধরা পড়ে।’
সাম্প্রতিক সময়ে কোচবিহার ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্য পেয়েছে প্রশাসন। এরআগে কোচবিহার জেলায় এক বিশাল অভিযানে ১,৪০৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ লাগোয়া কোচবিহারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ‘ইয়াবা’ ট্যাবলেট ও গাঁজা উদ্ধার হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গেও একের পর এক মাদকপাচার চক্রের পর্দাফাঁস করেছে রাজ্য পুলিশের বিশেষ টিম। নদিয়া ও হাওড়া জেলায় গত মাসে ২টি পৃথক অভিযানে উদ্ধার হয়েছিল ২.৮ কেজি হেরোইন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। ধরা পড়েছিল ৪ জন পাচারকারী।
এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে মাদক পাচারের ক্ষেত্রে রেলপথ, জাতীয় সড়ক এবং ডাক পরিষেবা— সবকিছুকেই ব্যবহার করছে চক্রগুলি। কিছুদিন আগে, হাওড়া স্টেশনে ডাকপত্রের প্যাকেটে হেরোইন পাঠানোর চক্র ধরা পড়ে। পুলিশ মনে করছে, এই পাচার চক্রগুলির মধ্যে আন্তঃরাজ্য যোগাযোগ ও সংগঠিত নেটওয়ার্কের ছাপ স্পষ্ট। এসটিএফ ও স্থানীয় পুলিশ বর্তমানে একযোগে কাজ করছে রাজ্যের মাদকপাচার দমন অভিযানে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, শিলিগুড়ি— উত্তরবঙ্গের ৩টি জেলা এখন প্রশাসনের বাড়তি নজরদারির আওতায়।পুলিশের মতে, উত্তরবঙ্গ হয়ে এখন বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লির দিকে মাদক পাঠানোর নতুন রুট তৈরি হয়েছে।
❤ Support Us






