- এই মুহূর্তে দে । শ
- অক্টোবর ২১, ২০২৫
এবার মহানগরে শাসকদলের অন্দরে সাংগঠনিক রদবদলের ইঙ্গিত । জেলা, ব্লকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে
কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ—রাজ্যের প্রতিটি জেলা এবং ব্লক–টাউন স্তরে তৃণমূলের সাংগঠনিক রদবদল শেষ হয়েছে। শাখা সংগঠনগুলিতেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনগুলির আগে, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের জেলা সভাপতি, চেয়ারপার্সন, শাখা সংগঠন নেতৃবৃন্দ এবং বিধায়কদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন। সেখানে সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং পরিবর্তন প্রয়োজন এমন স্থানগুলির পর্যালোচনা করা হয়েছে। জেলা নেতৃত্বের মতামত এবং সেবিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদন নিয়ে জেলায় জেলায় সাংগঠনিক পরিবর্তন কার্যকর করা হয়েছে।
এবার উৎসবের মরশুম শেষ হলে কলকাতার দু’টি সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের পরিবর্তন হতে পারে বলে সূত্রে খবর। কলকাতার দু’টি জেলা – দক্ষিণ কলকাতা এবং উত্তর কলকাতার সাংগঠনিক কাঠামোতে রদবদল হতে পারে। কলকাতায় ওয়ার্ড সভাপতি এবং শাখা সংগঠনের নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে তৃণমূলের মধ্যে জল্পনা চলছে।
কলকাতা পুরসভায় ১৪৪টি ওয়ার্ড রয়েছে, যেখানে সংগঠনগুলির নেতৃত্ব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কলকাতা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বর্তমানে বিধায়ক-মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার। উত্তর কলকাতা সাংগঠনিক জেলা পরিচালিত হচ্ছে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে, যেখানে ৯ সদস্যের কোর কমিটি রয়েছে, যার মধ্যে ৭ জন বিধায়ক এবং ২ জন প্রভাবশালী কাউন্সিলর।
এছাড়াও, তৃণমূলের কলকাতার নেতারা জানিয়েছেন যে, সাংগঠনিক রদবদলের আগে জেলা সভাপতি, শাখা সংগঠনের নেতৃত্ব, বিধায়ক, এবং কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক হতে পারে। কলকাতার পারফরম্যান্স নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণও ছিল, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে কলকাতা পুর এলাকা এবং বিধানসভায় বিজেপির লিড পাওয়ার পেছনে দলের জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় নেতৃত্বের দায় কিছুটা ছিল।
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে, কলকাতার ১১টি আসনে তৃণমূল জয়ী হয়েছিল এবং দলের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৬০ শতাংশের বেশি। কিন্তু, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা পুর এলাকায় ৪৭টি ওয়ার্ডে বিরোধী শিবির লিড নিয়েছিল, যার মধ্যে ৪৪টি ওয়ার্ডে বিজেপি লিড পেয়েছিল। বিশেষ করে উত্তর কলকাতায় বিজেপির প্রভাব বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
শশী পাঁজার শ্যামপুকুর বিধানসভা এবং বিবেক গুপ্তর জোড়াসাঁকো কেন্দ্রে বিজেপি যথাক্রমে দেড় হাজার ও ৭ হাজারের বেশি ভোটের লিড পেয়েছিল। এই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তৃণমূলের অনেক নেতার মতে, কলকাতার অনেক ওয়ার্ডের সভাপতি বদলের সম্ভাবনা রয়েছে।
২০২৬ –র বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের সংগঠন চাঙ্গা করতে রবিবার রাজ্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে বসিরহাট তৃণমূল সাংগঠনিক জেলার একাধিক ব্লকের ব্লক সভাপতি পরিবর্তন করা হয়েছে।

এই সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছে তৃণমূলেরই কর্মীরা। বসিরহাট জেলার মিনাখাঁ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি হাজি আয়ুব হোসেন গাজির জায়গায় সাইফুদ্দিন মোল্লাকে ব্লক সভাপতি করা হয়েছে। তার পরেই আয়ুব হোসেনের অনুগামীরা রবিবার রাতে মিনাখাঁ থানা সংলগ্ন এলাকায় কলকাতা-বাসন্তী রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে চলে অবরোধ ও বিক্ষোভ। আয়ুব ঘনিষ্ঠ ক্ষুব্ধ তৃণমূল সমর্থকদের দাবি, সাইফুদ্দিন মোল্লাকে সভাপতি পদ থেকে সরাতে হবে। পরে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দেয়। পাশাপাশি হাড়োয়ার ২ নম্বর গোপালপুর এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে টায়ারে জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান অঞ্চল সভাপতি বাগবুল কালাম মুন্সির অনুগামীরা। তাদের দাবি, হাড়োয়া এক নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি শফিক আহমেদ ওরফে মাদার সভাপতি হওয়ার পরেই তৃণমূলের নিচু স্তরের কর্মীদের মারধর করছে। তাদের মেছোঘেরি দখল করছে। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দিনকে জানানো সত্বেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সফিক আহমেদের অপসারণ চেয়ে এদিন তারা বিক্ষোভ দেখায়। এর পাশাপাশি বসিরহাট ১ নম্বর ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান উপপ্রধান একত্রিত হয়ে দল থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের দাবি বসিরহাট এক নম্বর ব্লক তৃণমূলের যে সভাপতি নির্বাচন হয়েছে সেই সভাপতি শরিফুল মন্ডল একজন অশিক্ষিত। সে যদি এই পদে থাকে তাহলে আগামী দিনে তৃণমূলের ভরাডুবি নিশ্চিত। এর পাশাপাশি সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সন্দেশখালির বহিষ্কৃত গ্রেফতার হওয়া শেখ শাহাজাহানের খুব ঘনিষ্ঠ ইমান আলি গাজি। এই ইমান আলির বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের এক কর্মীর জায়গা দখল সহ বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর জমি দখল ও নানান ধরনের অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। দল তাকেই সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করায় ক্ষোভ ফুঁসছেন সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকের তৃণমূলেরই এক অংশ। রওশান মোল্লা নামে এক তৃণমূলের কর্মী বলেন, সভাপতি পদ থেকে ইমান আলি গাজিকে পরিবর্তন না করা হলে আগামীদিনে মানুষ এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাবে। যেমন শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে দেখিয়েছিল। বহু মানুষের জমি দখল করে রেখেছে ইমান আলি। অন্যদিকে হাসনাবাদ ১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি আমিরুল ইসলাম গাজিকে সরিয়ে আনন্দ সরকারকে করা হয়েছে। আনন্দ সরকারকে সভাপতি নির্বাচিত করার পর আমিরুল ইসলাম দল থেকে সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ২৬ শে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলকে মজবুত করতে গিয়ে দলের এখন অবস্থা টালমাটাল বসিরহাট তৃণমূল সাংগঠনিক জেলা জুড়ে।
❤ Support Us






