Advertisement
  • Uncategorized এই মুহূর্তে দে । শ
  • জানুয়ারি ১৩, ২০২৬

দিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি দল

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি দল

গালওয়ান সংঘর্ষের তিক্ততা পেরিয়ে কি আবার ঘনিষ্ঠতার পথে হাঁটছে ভারত ও চিন ? সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের পর এবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি সেই সম্ভাবনাকেই উসকে দিচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাসিমুখে দেখা যাওয়ার পর, দুই দেশের শাসক দলের এই বৈঠককে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

সূত্রের খবর, চিনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের উপমন্ত্রী সান হাইয়ানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে আসে। এই বৈঠকে বিজেপির তরফে নেতৃত্ব দেন দলের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং। এছাড়াও বিজেপির বিদেশ বিষয়ক বিভাগের ইনচার্জ বিজয় চৌথাইওয়ালেসহ একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধি দলে ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূতও যোগ দেন।

বৈঠক শেষে বিজয় চৌথাইওয়ালে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে জানান, বিজেপি ও চিনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে আন্তঃদলীয় সম্পর্ক কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বিজেপি ও সিপিসির মধ্যে আন্তঃদলীয় যোগাযোগ নতুন নয়। ২০০০ সালের শেষ দিক থেকেই দুই দলের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। অতীতে বিজেপির একাধিক প্রতিনিধি দল বেজিং সফরে গিয়ে চিনা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে ২০২০ সালে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর গালওয়ান উপত্যকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এই সম্পর্কে সাময়িক ছেদ পড়ে। ওই সংঘর্ষে ভারতীয় জওয়ানদের মৃত্যু এবং উত্তেজনার আবহে চিনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেয় মোদি সরকার।

গালওয়ানের পর চিনা সংস্থাগুলির উপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ভারতের সরকারি প্রকল্পে অংশ নিতে হলে চিনা কোম্পানিগুলিকে বিশেষ সরকারি কমিটিতে নথিভুক্তি, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এই কড়াকড়ির ফলে প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের একাধিক প্রকল্প থেকে বাদ পড়ে বহু চিনা সংস্থা।
তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই কঠোর বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করার পথে হাঁটতে চলেছে মোদি সরকার—এমনটাই সূত্রের দাবি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দিল্লিতে বিজেপি ও সিপিসির এই বৈঠক শুধু দুই দলের নয়, বরং ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও একটি নতুন দিশার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!