Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬

তিনদিনের ভারতসফরে সস্ত্রীক ম্যাক্রোঁ, দিলেন সোশ্যাল পোস্ট। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কী বার্তা বন্ধু মোদির

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তিনদিনের ভারতসফরে সস্ত্রীক ম্যাক্রোঁ, দিলেন সোশ্যাল পোস্ট। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কী বার্তা বন্ধু মোদির

মঙ্গলবার ভোরে ৩ দিনের ভারত সফরে এসেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সঙ্গে এসেছেন তাঁর স্ত্রী ব্রিজেত ম্যাক্রোঁ। মুম্বাই বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, রাজ্যপাল আচার্য দেবরাত, উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধে এবং রাজনৈতিক নেত্রী সুনেত্রা পাওয়ার। ফরাসি প্রেসিডেন্টের এ সফর তাঁর চতুর্থ ভারত সফর হিসেবে ইতিহাসে স্থান করছে।

ভারতে আসার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে ম্যাক্রোঁ লেখেন, ‘ভারতের পথে। আমাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা এবং ব্যবসা, শিল্প, সংস্কৃতি ও ডিজিটাল খাতে সহযোগিতাকে আরও গভীর করার জন্যই এই সফর। আমার সঙ্গে রয়েছেন এ সব ক্ষেত্রের উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিরা, যারা ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে সম্পর্ককে আরও মজবুত করবেন। আগামীকাল আমার প্রিয় বন্ধু, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা হবে।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদিও এক্স-হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘ভারতে স্বাগতম। দেশ আপনার সফর এবং আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। আমি নিশ্চিত যে আমাদের আলোচনা বিশ্বব্যাপী অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। আমার প্রিয় বন্ধু এমম্যানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে প্রথমে মুম্বাইতে এবং পরে দিল্লিতে সাক্ষাৎ হবে’।

জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার বিকেলে মুম্বাইয়ের লোক ভবনে দুই রাষ্ট্রনেতা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। বৈঠকের কেন্দ্রে রয়েছে ভারত-ফ্রান্স কৌশলগত অংশীদারিত্ব, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, বৈঠকে একাধিক ‘মৌ’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ম্যাক্রোঁ যৌথভাবে ‘ইন্ডিয়া-ফ্রান্স ইয়ার অফ ইনোভেশন ২০২৬’ উদ্বোধন করবেন। এতে অংশ নেবেন উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতা, গবেষক এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবকরা, যারা দুই দেশের মধ্যে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি সহযোগিতাকে আরও গভীর করবে।

প্রতিরক্ষা খাতও এই সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত সপ্তাহে ভারতের ‘ডিফেন্স প্রোকিওরমেন্ট বোর্ড’ ১১৪টি অতিরিক্ত রাফাল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে। আলোচনার সময় এই চুক্তি, আপগ্রেড, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ এবং নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়গুলোও ওঠে আসতে পারে। সম্ভাব্য চুক্তির মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা, যা ভারতের ইতিহাসের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ হতে চলেছে। এছাড়াও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় যৌথ উৎপাদন, নৌবিমান, ইঞ্জিন, হেলিকপ্টার, ড্রোন, মহাকাশ ও উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতা সম্পর্কেও কথাবার্তা হতে পারে। ফ্রান্সকে ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা সহযোগী হিসেবে তুলে ধরাই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য।

ম্যাক্রোঁর সফরের সময় ভার্চুয়ালি টাটা গ্রুপ ও এয়ারবাসের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ভারতের প্রথম হেলিকপ্টার ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন উদ্বোধন করা হবে। কর্ণাটকের ভেমাগলে এই কারখানায় উৎপাদিত হবে এইচ ১২৫ হেলিকপ্টার, যা ভারতের বাজারের জন্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাক্রোঁর এই সফরের লক্ষ্য শুধু প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি নয়; এটি দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করতে, উদীয়মান প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার পথ খুলতে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যৌথ উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ১৫ বিলিয়ন ইউরো (১৮ বিলিয়ন) এবং ফরাসি বিনিয়োগ ভারতের মধ্যে প্রায় ১৫ বিলিয়ন (১.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা) হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট সফরকালে এআই সংক্রান্ত সম্মেলনেও অংশগ্রহণ করবেন এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা, বিমানচালনা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগকে সামনে নিয়ে যাবেন। ফলে তাঁর এ সফর কেবল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকের নয়, দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ককেও দৃঢ় করছে, যা মোদি-ম্যাক্রোঁ যুগের বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবে ধরা হচ্ছে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!