- দে । শ
- এপ্রিল ১৬, ২০২৬
ফি পয়লা বোশেখে, রাজনীতির উর্দি খুলে দোকানদারি রবীন্দ্রনাথের
এবারের বিধানসভা ভোটে কাটোয়া কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি। প্রচার চলছে তুঙ্গে। তবু ফি পয়লা বোশেখের সকালের রুটিন বদলাল না তাঁর। রাজনীতির উর্দি শিকেয় তুলে দোকানির পেশায় কাটোয়ার দক্ষিণপন্থী রাজনীতির অবিসংবাদিত চরিত্র রবীন্দ্রনাথবাবুকে দেখল কাটোয়া। টানা ৬ বারের বিধায়ক বঙ্গবর্ষের শুরুর দিনে পার্টি অফিস থেকে পায়ে পায়ে হাজির কাটোয়া শহরের স্টেশন বাজার চৌরাস্তার মুখে ‘গৌরাঙ্গ টি স্টোরে’। পুজো-আচ্চা, আচার-অনুষ্ঠানের পর কপালে চন্দন-চিহ্ন মেখে মন দেন দোকানদারিতে। হরেকরকম গুঁড়ো চা, পাতা চা বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে জনসংযোগের কাজটাও নিঃশব্দে সারলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথবাবু। সারাদিনের ভোট প্রচারের কর্মসূচিটাও ঝালিয়ে নিয়ে রওনা দিলেন গৌরাঙ্গ মন্দিরের পথে।
কাটোয়া বিধানসভা-সহ তামাম মহকুমা এলাকাতো বটেই, লাগোয়া নদিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে রোজই বহু মানুষ নানা দরকারে কাটোয়া শহরে আসেন। তাঁদের অনেকেই ‘রবিদা’র (এই নামেই গোটা এলাকা চেনে রবীন্দ্রনাথবাবুকে) দোকান থেকে চা পাতা কেনেন। এলাকার খবর দেন। সমস্যার কথা বলেন। সমাধানসূত্র নিয়ে বাড়ির পথ ধরেন। রবীন্দ্রনাথবাবুর রাজনৈতিক উত্থানভূমি বা জনসংযোগের আঁতুরঘর হল এই ‘গৌরাঙ্গ টি স্টোর’। রবীন্দ্রনাথবাবুর বাবা আদতে মঙ্গলকোটের শ্যামবাজারের বাসিন্দা রাধাকান্ত চ্যাটার্জি গ্রামের পাট চুকিয়ে কাটোয়া শহরে পাকাপাকিভাবে বাস করতে শুরু করেন। শুরু করেন চা বিক্রির ব্যবসা। ভাল মানের দার্জিলিং চা, আসাম চা রাখতেন বলে খদ্দেরপাতিও ভাল হত। ছাত্র রাজনীতি করার সময়ই বাবার হাত ধরে এই চায়ের দোকানে বসা শুরু রবীন্দ্রনাথবাবুর। ১৯৮৭তে কাটোয়া বিধানসভায় কংগ্রেসের টিকিট পাওয়ার সময় এই চায়ের দোকানটিই ছিল অলিখিত নির্বাচনী কার্যালয়। এখান থেকেই ভোটে লড়ার কৌশল, প্রচারের খুঁটিনাটি চূড়ান্ত হত। দোর্দণ্ডপ্রতাপ সিপিএমের কাছে সেবার হেরে যান রবীন্দ্রনাথবাবু। পরাজয়ের ধারা অব্যাহত থাকে ১৯৯১তেও। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। এই দোকানে বসেই নতুন করে লড়ার শপথ বাঁধেন।
ভাগ্যের চাকা ঘোরে ১৯৯৫য়ে। সেবার পুরভোটে সিপিএমকে হারিয়ে রবীন্দ্রনাথবাবুর নেতৃত্বে কাটোয়া পুরসভা দখল করে কংগ্রেস। পরের বছর বিধানসভা ভোটেও রবিবাবুর কাছে ধরাশায়ী হয় সিপিএম। সেই থেকে কী পুরসভা, কী বিধানসভা, কাটোয়ায় আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সিপিএম। চা ব্যবসায় লাভ কমলেও জনগণেশের সমর্থনলাভে ন্যূনতম ভাটা পড়েনি। জয়ের ছবিটা অবশ্য বদলে যায় ২০১৫-র পুরভোটে। পুরবোর্ড হাতছাড়া হয় কংগ্রেসের। আসে তৃণমূল। কিছুদিন বাদে ‘উন্নয়নের কাণ্ডারী মমতা ব্যানার্জির পাশে দাঁড়াতে’ তৃণমূলে যোগ দেন রবীন্দ্রনাথবাবু। হন পুরপ্রধান। ২০১৬ আর ২০২১-এ তৃণমূলের টিকিটে লড়ে জেতেন তিনি।
তবে রাজনীতির ঘূর্ণাবর্তে জড়িয়ে চায়ের দোকানে আর তেমন বসা হয়ে ওঠে না রবিবাবুর। দোকানের ‘টাটে’ তাঁর দেখা মেলে কালে-ভদ্রে। বললেন, ‘ইচ্ছে থাকলেও কাজের চাপে আর সময় করে উঠতে পারি না।’ দোকান দেখাশোনার দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন ঘনিষ্ঠদের হাতে। যুব নেতা দিগন্ত পাল, তারক ঘোষ, বিজয় অধিকারীরা বলছিলেন, ‘তবু সময় পেলেই চেষ্টা করেন পুরনো এই জনসংযোগের জায়গায় বসতে। পথচলতি মানুষজন তাঁকে দেখে খুশি হন।’ সেই খুশির ছোঁয়া মেলে এদিন চা কিনতে আসা এক খরিদ্দারের কথায়, ‘গৌরাঙ্গ (রবিবাবুর গায়ের রং খুবই ফর্সা) ছাড়া কি গৌরাঙ্গ টি স্টোর মানায়!’ যোগ করেন, ‘যেমন রবিদা ছাড়া কাটোয়ার বিধায়ক আর কাউকে মানায় না।
❤ Support Us





