- বি। দে । শ
- এপ্রিল ২২, ২০২৬
সৌদিতে আশ্রিত ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব দিল বাংলাদেশ
মায়ানমার থেকে বিতাড়িত ২২ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীর ত্রাণকর্তা হয়ে উঠেল সৌদি আরব। সৌদি আরবের অনুরোধেই এই ২২ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নাগরিকত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। যারা জীবিকা নির্বাহের জন্য বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে তারা সেখানে স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারেন। এই ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
প্রায় ১ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছে। সকলেই পাসপোর্ট ছাড়াই সে দেশে বসবাস করছে। এই রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাসপোর্ট দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেয়। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই ব্যাপারে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে। তার ভিত্তিতেই ২২ হাজার রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট প্রদান করেছে বাংলাদেশ সরকারয বাংলাদেশ থেকে আসা ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী এখনও পাসপোর্ট ছাড়াই সৌদিতে বসবাস করছেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত তাদের সকলের জন্য অবিলম্বে পাসপোর্টের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
সৌদি আরব কেন এই রোহিঙ্গাদের পাসপোর্টের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে ? আসলে পাসপোর্ট না থাকায় সৌদি আরবের পক্ষে এই সব রোহিঙ্গা নাগরিকের ওপর নজর রাখা কঠিন। সৌদি আরব চায় তাদের সকলের কাছে বৈধ কাগজপত্র থাকুক, যাতে গোটা দেশ জুড়ে তাদের সহজে শনাক্ত করা যায়। এছাড়াও, এই রোহিঙ্গারা সৌদি আরব জুড়ে অবাধে কাজ করার সুযোগও পাবে। আর একটা ব্যাপারে সৌদি আরব উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশ এখন তাদের পাসপোর্ট না দিলে ভবিষ্যতে তাদের ফেরত পাঠানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। বাংলাদেশ কোনো অবস্থাতেই তাদের গ্রহণ করবে না, যা সৌদি আরবের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই, সৌদি আরব তাদের সকলের জন্য পাসপোর্ট জোগাড় করতে চাপ দিতে চায়।
এছাড়া, সৌদি আরব ‘ভিশন ২০৩০’ নিয়ে কাজ করছে। এই পরিকল্পনার অধীনে সৌদি আরব থেকে অবৈধ নাগরিকদের বিতাড়িত করা হচ্ছে। সৌদি আরব বলছে, তারা আরও কঠোর অভিবাসন আইন প্রয়োগ করবে। এই পরিস্থিতিতে, এই প্রায় ১ লক্ষ রোহিঙ্গা সৌদি আরবের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে, যা খাদ্য সংকটকে আরও তীব্র করেছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কারণে বাংলাদেশের অনেক এলাকায় অপরাধও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই রোহিঙ্গাদের যথাযথভাবে আবাসনের ব্যবস্থা করার মতো আর্থিক সংস্থান বাংলাদেশের নেই। তাই, বাংলাদেশ চায় না যে অন্য দেশ থেকে আসা শরণার্থীরা ফিরে যাক। ২০২২ সালে বাংলাদেশে সৌদি আরবের ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগও প্রয়োজন। তবে, সরকারি অস্থিরতার কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কও রয়েছে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ সৌদি আরব থেকে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য ক্রয় করেছে। এদিকে, সৌদি আরবে সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশ যদি সৌদি আরবের দাবিগুলো মেনে না নেয়, তবে সৌদি আরব এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
❤ Support Us







