- বি। দে । শ
- মে ২২, ২০২৬
এভারেস্ট জয়ের পর ফিরতি পথেই মৃত্যু, ‘ডেথ জোন’-এ প্রাণ হারালেন দুই পর্বতারোহী
বিশ্বের ছাদ ছুঁয়েও আর সমতলে ফেরা হল না। মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে নামার পথে ‘ডেথ জোন’-এ মৃত্যু হয়েছে দুই ভারতীয় পর্বতারোহীর। অক্সিজেন-স্বল্প, প্রাণঘাতী উচ্চতায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। নেপালের অভিযাত্রী মহলে শোকের ছায়া নেমেছে। চলতি মরসুমে এভারেস্ট অভিযানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৫।
মৃত দুই ভারতীয় পর্বতারোহীর নাম অরুণ কুমার তিওয়ারি এবং সন্দীপ আরে। নেপালের ‘এক্সপেডিশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক ঋষি ভাণ্ডারী শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এভারেস্টের শীর্ষে পৌঁছনোর পর ফেরার পথে চরম ক্লান্তি আর শারীরিক অবনতির কারণে বিপর্যয় নেমে আসে। সঙ্গে থাকা শেরপা গাইড ও উদ্ধারকারী দল আপ্রাণ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের প্রাণ বাঁচানো যায়নি।
জানা যাচ্ছে, সন্দীপ আরে বুধবার বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পৌঁছেছিলেন। তার পর ফেরার সময় ‘ব্যালকনি’ এলাকা পেরোনোর সময়ই তিনি প্রবল ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৮ হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত ওই অংশটিকেই পর্বতারোহীদের ভাষায় বলা হয় ‘ডেথ জোন’। সেখানে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ এতটাই কম থাকে যে, দীর্ঘ ক্ষণ সেখানে থাকলে শরীর দ্রুত ভেঙে পড়ে। ঋষি ভাণ্ডারী জানান, ‘শেরপা গাইডরা অসম্ভব পরিশ্রম করেছিলেন। তাঁকে ‘ব্যালকনি’ থেকে রাতভর উদ্ধার করে সাউথ কোল পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়।’ বৃহস্পতিবার মৃত্যু হয় আরের।
অন্য দিকে, অরুণ কুমার তিওয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ এভারেস্ট শৃঙ্গে পৌঁছেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দুই অভিজ্ঞ শেরপা গাইড। কিন্তু নামার সময় ‘হিলারি স্টেপ’-এর কাছে হঠাৎই প্রবল ক্লান্ত হয়ে পড়েন তিনি। উদ্ধারকারীরা তাঁকে নামিয়ে আনার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত আর সম্ভব হয়নি। ঠিক কখন তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে নেপাল প্রশাসন। প্রসঙ্গত, এভারেস্ট অভিযানে ‘হিলারি স্টেপ’ অত্যন্ত বিপজ্জনক অংশ হিসাবেই পরিচিত। খাড়া পাথুরে ওই অংশ পেরিয়ে নামা অনেক সময়ই শৃঙ্গে ওঠার চেয়েও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে দীর্ঘ ক্ষণ ধরে অক্সিজেনের অভাব, তীব্র ঠান্ডা আর শরীরের চরম অবসাদ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার মধ্যেই উঠে এসেছে আর এক নজির। বুধবার নেপালের দিক থেকে এক দিনেই ২৭৪ জন পর্বতারোহী এভারেস্ট শৃঙ্গে পৌঁছন। একদিনে এটাই সর্বাধিক সংখ্যক আরোহনের নতুন রেকর্ড। সে দলেই ছিলেন তিন ভারতীয়— সন্দীপ আরে, তুলসি রেড্ডি পালপুনুরি এবং অজয় পাল সিং ধালিওয়াল। পরের দিন আরও এক ভারতীয়, লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল, এভারেস্ট জয় করেন। নেপাল সরকার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বসন্তকালীন অভিযানের জন্য মোট ৫০২ জন পর্বতারোহীকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতের মধ্যে আটটিই নেপালে অবস্থিত। ফলে পর্বতারোহণ এবং অভিযাত্রী পর্যটন সে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা। প্রতি বছর শত শত অভিযাত্রী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এভারেস্ট জয়ের স্বপ্ন নিয়ে নেপালে আসেন। কিন্তু সে স্বপ্নপূরণের পথ যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, ফের তা মনে করিয়ে দিল এভারেস্টের বরফঢাকা মৃত্যুফাঁদ।
❤ Support Us








