- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২২, ২০২৬
অদিতি মুন্সি-দেবরাজকে ১৯ জুন পর্যন্ত গ্রেফতারি থেকে রেহাই, হাই কোর্টে সওয়াল করলেন সিপিএমের বিকাশ ভট্টাচার্য
রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী, বিধাননগরের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী আপাতত স্বস্তি পেলেন কলকাতা হাই কোর্টে। শুক্রবার বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের বেঞ্চ মৌখিক নির্দেশে জানায়, আগামী ১৯ জুন পর্যন্ত তাঁদের গ্রেফতার করা যাবে না। ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ফলে তার আগে অদিতি ও দেবরাজের বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ।
আয়বহির্ভূত সম্পত্তি এবং নির্বাচনী হলফনামায় সঠিক তথ্য গোপনের অভিযোগে গ্রেফতারের আশঙ্কা প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন অদিতি ও দেবরাজ। তাঁরা আগাম জামিনের আবেদন জানান। শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতে তাঁদের হয়ে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। আদালতে রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার দাবি করেন, নির্বাচনের আগে অন্তত ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে এবং আত্মীয়-পরিচিতদের নামে হস্তান্তর করেছেন অদিতি ও দেবরাজ। অভিযোগ, নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তির পরিমাণ কম দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল।
পাল্টা সওয়ালে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, সম্পত্তি অন্যের নামে হস্তান্তর করা নিজেই কোনও অপরাধ নয়। তাঁর বক্তব্য, যদি আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগ থাকে, তবে সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব আয়কর দফতরের। পুলিশ কেন এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী হলফনামায় ভুল তথ্য দেওয়া হলে তা নির্বাচনী বিধিভঙ্গ হতে পারে, কিন্তু তা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কি না, সেটাই মূল প্রশ্ন। বিকাশ আরও দাবি করেন, তাঁর মক্কেলদের বিরুদ্ধে কোনও আর্থিক প্রতারণা বা ফৌজদারি অপরাধের সরাসরি অভিযোগ নেই। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও একসময় নির্বাচনী অপরাধের মামলা হয়েছিল, যা এখনও বিচারাধীন।
অন্যদিকে, রাজ্যের তরফে আদালতে দাবি করা হয়, এলাকায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং জমি দখলের মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন অদিতি ও দেবরাজ। আরও অভিযোগ করা হয়, কালিম্পঙে তাঁদের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল এবং ভোটের আগে সেই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে টাকা সরিয়ে ফেলা হয়। রাজ্য আরও জানায়, দেবরাজের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত দুই ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার একটি মামলাতেও দেবরাজ অভিযুক্ত বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়। দু-পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত নির্দেশ দেন, পরবর্তী শুনানির দিনে অদিতি ও দেবরাজের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগের নথি এবং তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দিতে হবে রাজ্যকে। ততদিন পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও গ্রেফতারিমূলক পদক্ষেপ করা যাবে না।
❤ Support Us






