- এই মুহূর্তে দে । শ
- মে ২২, ২০২৬
বিরোধী দলনেতার ঘরে তালা ঘিরে উত্তাল বিধানসভা, অবস্থান বিক্ষোভে তৃণমূল বিধায়করা
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়-কে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাঁর জন্য নির্ধারিত ঘরের তালা খোলা নিয়ে জট কাটল না। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেও বিধানসভা কর্তৃপক্ষ কোনও পদক্ষেপ না করায় শুক্রবার বিধানসভার ভিতরেই অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়করা। বিরোধী দলনেতার বন্ধ ঘরের সামনে লবিতে বসে প্রতিবাদ জানান দলের ১৮ জন বিধায়ক। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, দুপুর ১২টার মধ্যে যদি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি না দেওয়া হয় এবং তাঁর ঘরের তালা না খোলা হয়, তাহলে তারা বিক্ষোভে নামবে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরই শুরু হয় অবস্থান আন্দোলন।
প্রসঙ্গত, বিরোধী দলনেতা মনোনয়ন নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই তৃণমূল ও বিধানসভা কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। প্রথমে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি দিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। কিন্তু বিধানসভার সচিবালয় সেই চিঠি খারিজ করে দেয়। তাদের বক্তব্য ছিল, শুধুমাত্র কোনো দলের নেতার ঘোষণা গ্রহণযোগ্য নয়; পরিষদীয় দলের বৈঠকের রেজোলিউশন এবং সমর্থনকারী বিধায়কদের তথ্য জমা দিতে হবে। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে বৈঠক করে তৃণমূল পরিষদীয় দল আনুষ্ঠানিকভাবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করে এবং রেজোলিউশন জমা দেয়। তবে তাতেও জট কাটেনি। বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু-র তরফে আরও বিস্তারিত নথি ও সমর্থনের তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
কয়েকদিন আগেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, এখনও তাঁকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি এবং বিধানসভায় তাঁর নির্ধারিত ঘরও তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে। তাঁর দাবি, ৮০ জন বিধায়কের সই-সহ রেজোলিউশন চাওয়া হচ্ছে, অথচ বিধানসভার নিয়মে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। অন্যদিকে বিধানসভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ম সম্পূর্ণভাবে মানেনি। জমা দেওয়া নথিতে কতজন বিধায়কের সমর্থনে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নির্বাচিত হয়েছেন, তার স্পষ্ট উল্লেখ ছিল না বলেই দাবি সচিবালয়ের। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি বিধানসভা কর্তৃপক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে এবং বিরোধী দলনেতার ঘর খোলা না হয়, তাহলে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন দলের বিধায়করা।
❤ Support Us







