- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- মে ২৩, ২০২৬
নিয়োগ দুর্নীতির ‘কালিমা’ মুছতে নতুন আইন, পরীক্ষার্থীরা পাবেন ওএমআর শিটের কার্বনকপি, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
শিয়ালদহে রোজগার মেলার মঞ্চ থেকে রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে ফের তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, নিয়োগ দুর্নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার জের এখনো বহন করতে হচ্ছে রাজ্যকে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই নিয়োগ ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিলেন তিনি। নিয়োগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে নতুন আইন আনার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের সরকারি স্তরে এবং সরকারপোষিত বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ করার উদ্দেশ্যে নতুন আইন প্রণয়নের ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিধানসভার আগামী অধিবেশনেই এই নিয়োগ সংক্রান্ত আইন আনা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতের নিয়োগ কাঠামোতে একাধিক পরিবর্তন আনা হবে। রোজগার মেলার মঞ্চে দাঁড়িয়ে অতীতের নিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষক নিয়োগ, পুরনিয়োগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে, যা নিয়ে একাধিক মামলা গড়িয়েছে আদালতে। হাই কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে হস্তক্ষেপ হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত এই অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি জাতীয় স্তরে নষ্ট হয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের প্রতি যে আশা ও প্রত্যাশা ছিল, তা গত কয়েক বছরে অনেকটাই ভেঙে পড়েছে এবং সেই ‘বদনামের কালিমা’ দূর করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। নতুন নিয়োগ নীতির প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বচ্ছতার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। লিখিত পরীক্ষায় সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়নের কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া নিয়ে যে অভিযোগ অতীতে উঠেছে, তা এড়াতে ভাইভায় ন্যূনতম নম্বর নির্ধারণের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে বলে তিনি জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মৌখিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের সুযোগ পাওয়ার অভিযোগ অতীতে নিয়োগ ব্যবস্থাকে কলুষিত করেছে।
এছাড়াও, পরীক্ষার স্বচ্ছতা বাড়াতে ওএমআর শিটের কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের দেওয়ার বিষয়েও সরকার উদ্যোগী হচ্ছে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আনবে এবং ভবিষ্যতে অনিয়মের সুযোগ কমাবে। এদিন সংরক্ষণ নীতি নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এসসি, এসটি, ওবিসি এবং বিশেষভাবে সক্ষম পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সংরক্ষণ ব্যবস্থাও অতীতে সঠিকভাবে মানা হয়নি। এ ধরনের অনিয়মও নিয়োগ ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, রাজ্যের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর বক্তব্য, এ কারণেই একসময় কেন্দ্রীয় সংস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ পরীক্ষা পশ্চিমবঙ্গে নেওয়া হয়নি বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। রোজগার মেলার প্রসঙ্গে তিনি কেন্দ্রের ১০ লক্ষ চাকরি প্রদানের উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে একযোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এদিন ৪৭টি স্থানে রোজগার মেলা অনুষ্ঠিত হয় এবং মোট ৫১ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়।
❤ Support Us





