- দে । শ
- মে ২৩, ২০২৬
পূর্ব বর্ধমানে একদিনে গ্রেফতার তৃণমূলের বহু দাপুটে নেতা
পুলিশের একের পর এক অভিযানে কালনা ও কেতুগ্রামে তৃণমূলের একাধিক স্থানীয় স্তরের প্রভাবশালী নেতার গ্রেপ্তারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমান জেলায়। একদিনের ব্যবধানে কালনা ও কেতুগ্রাম—দুই এলাকাতেই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন পুরনো মামলার অভিযুক্ত থেকে শুরু করে দাপুটে স্থানীয় নেতা পর্যন্ত।
কালনা পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনিল বসুকে মঙ্গলবার ভোরে তাঁর কালনার বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তোলাবাজি-সহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর নাম জড়িয়েছে। পুলিশের দাবি, তল্লাশির সময় তাঁর কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের পরই অনিল বসু দাবি করেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ‘ফাঁসানো’ হয়েছে। পরে তাঁকে কালনা মহকুমা আদালতে হাজির করা হলে বিচারক পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
একই দিনে কেতুগ্রামের আরনা এলাকা থেকে আরও এক দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির শেখ-সহ তাঁর দুই সাগরেদ আজিজুল ইসলাম (পরাগ) ও হাবু মাঝিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনজনই কেতুগ্রামের রায়খান এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, ধৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক খুন-সহ গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তাধীন ছিল। ধৃতদের কাছ থেকে একটি ৭ এমএম পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকে কাটোয়া মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক জাহাঙ্গির শেখকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, তাঁর দুই সহযোগীকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেতুগ্রাম জুড়েও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
এদিকে একই দিনে আর একটি ঘটনায় ফের চাঞ্চল্য ছড়ায় মন্তেশ্বর এলাকায়। পুরনো একটি মামলায় জামিনের আবেদন করতে কালনা মহকুমা আদালতে হাজির হয়েছিলেন মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা আহমেদ হোসেন শেখ। আদালত চত্বরে উপস্থিত থাকার সময়ই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের পর থেকেই তিনি এলাকায় অনুপস্থিত ছিলেন এবং গা ঢাকা দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ওই ভোটে মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরিকে পরাস্ত করেন বিজেপি প্রার্থী সৈকত পাঁজা। সেই ঘটনার পর থেকেই আহমেদ হোসেন শেখের বিরুদ্ধে দলীয় স্তরেও অসন্তোষ তৈরি হয় বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। তাঁর বিরুদ্ধে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে ঘিরে হেনস্থার অভিযোগ থেকে শুরু করে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কয়েক মাস আগে মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির কার্যালয়ে সরকারি কর্মী ও ইঞ্জিনিয়ারদের মারধরের ঘটনাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
একদিনে জেলার তিনটি পৃথক ঘটনায় একাধিক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার গ্রেপ্তার ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, সমস্ত ঘটনাই নির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে।
❤ Support Us





