- দে । শ
- মে ২৩, ২০২৬
বিজেপিতে যোগদানের ইনাম! রাজ্যসভার গুরুত্বপূর্ণ কমিটির চেয়ারম্যান পদ পেলেন রাঘব চাড্ডা
বিজেপিতে যোগদানের মাত্র এক মাসের মাথায় সংসদীয় পরিসরে বড়ো পদ পেলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা। তাঁকে রাজ্যসভার পিটিশন (আবেদন সংক্রান্ত) কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করল উচ্চকক্ষ। শনিবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি.পি. রাধাকৃষ্ণণের তরফে এ ঘোষণা করা হয়।
রাজ্যসভার সচিবালয় সূত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কমিটি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে মোট ১০ জন সাংসদকে পিটিশন কমিটিতে মনোনীত করা হয়েছে এবং সে কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে রাঘব চাড্ডাকে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ, ‘রাঘব চাড্ডাকে কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।’ পিটিশন কমিটি সংসদের উচ্চকক্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটি হিসেবে বিবেচিত। নাগরিকদের বিভিন্ন অভিযোগ, আবেদন ও প্রশাসনিক অনুযোগ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে সুপারিশ পাঠানোই এই কমিটির মূল দায়িত্ব। সংসদীয় কার্যপ্রণালীর দৃষ্টিতে এই কমিটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
নতুন কমিটিতে রাঘব ছাড়াও রয়েছেন একাধিক সাংসদ। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হর্ষ মহাজন, গুলাম আলি, শম্ভু শরণ প্যাটেল, ময়ঙ্ককুমার নায়েক, মাস্তান রাও যাদব বীধা, জেবি মেথার হিশাম, সুবাশিস খুন্তিয়া, আরঙওরা নারজারি এবং পি. সন্দোষ কুমার। বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের প্রতিনিধিত্ব থাকায় কমিটির গঠনকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একই দিনে রাজ্যসভা সচিবালয়ের আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘কর্পোরেট আইন (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’ সংক্রান্ত যৌথ কমিটিতে মেনকা গুরুস্বামীকে সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সংসদীয় কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৪ এপ্রিল আম আদমি পার্টি ছাড়ার পর বিজেপিতে যোগ দেন রাঘব। তাঁর সঙ্গে আরও ৬ জন আপ সাংসদও দল পরিবর্তন করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্বাতী মালিওয়াল, হরভজন সিং, সন্দীপ পাঠক, অশোক মিত্তল, রাজিন্দর গুপ্তা ও বিক্রম সাহনি। দলত্যাগের ঘোষণার ঠিক এক মাসের মধ্যেই সংসদীয় কমিটির শীর্ষ পদে তাঁর নিযুক্তি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা উঠে আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সংসদীয় কার্যক্রমে অভিজ্ঞতা ও সক্রিয়তার ভিত্তিতে এ ধরনের নিয়োগ স্বাভাবিক হলেও সময়টি বিশেষভাবে নজরকাড়া।
অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরের একাংশের বক্তব্য, সংসদীয় কমিটিতে চেয়ারম্যান বা সদস্যপদ দেওয়া একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, এর মধ্যে বিশেষ রাজনৈতিক বার্তা খোঁজার প্রয়োজন নেই। তবে বিরোধী শিবির একে রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে। তাদের অভিযোগ, দলত্যাগের পরপরই এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসেরই প্রতিফলন।
তবে, এর আগে দলত্যাগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে রাঘব চাড্ডা বলেছিলেন, আম আদমি পার্টি তার আদর্শ থেকে সরে এসেছে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা তাঁর কাছে সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না, তবে নীতিগত অবস্থানের কারণেই তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন। পালটা প্রতিক্রিয়ায় আপ নেতা সঞ্জয় সিং চড্ডার বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান। তাঁর বক্তব্য, যে দল তাঁকে সাংসদ হওয়ার সুযোগ দিয়েছে, সে দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন রাঘব। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পর শেষ পর্যন্ত সে দিকেই তাঁর যাত্রা রাজনৈতিক দ্বিচারিতারই প্রতিফলন।
❤ Support Us





