Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • মে ৩০, ২০২৬

সোনারপুরে বিক্ষোভের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । হেলমেট পরে পৌঁছালেন নিহত কর্মীর বাড়িতে

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
সোনারপুরে বিক্ষোভের মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । হেলমেট পরে পৌঁছালেন নিহত কর্মীর বাড়িতে

ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিজেই বিক্ষোভ ও শারীরিক হেনস্থার মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার পথে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। অভিযোগ, ওই সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাঁর উপর চড়াও হয়ে এলোপাথাড়ি চড়-ঘুষি মারতে শুরু করে।

ঘটনার সময় অভিষেক চারচাকার গাড়ির পরিবর্তে মোটরবাইকে করে সোনারপুরে যাচ্ছিলেন। নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়ির কাছে পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের হামলায় তাঁর চশমা ভেঙে যায়, সাদা রঙের শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায় এবং তাঁর দিকে ডিম ও জুতো ছোড়া হয়। পরিস্থিতির মধ্যে ক্রিকেট খেলার হেলমেট মাথায় দিয়ে তিনি সঞ্জু কর্মকারের বাড়ির দিকে এগিয়ে যান। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর-চোর’ এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও তোলা হয়।

অভিষেকের সোনারপুর সফরের আগেই বিভিন্ন এলাকায় মহিলাদের ডিম হাতে এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কালো পতাকা নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। পাটুলির ঢালাই ব্রিজ থেকে শুরু করে সোনারপুরের কামরাবাদ পর্যন্ত একাধিক জায়গায় বিজেপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

বিক্ষোভ ও হামলার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে পৌঁছন অভিষেক। সেখানে তিনি দাবি করেন, হেলমেট থাকার কারণেই তাঁর মাথা গুরুতর আঘাতের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। তিনি বলেন, “মাথাটা বেঁচে গিয়েছে হেলমেট ছিল বলে। আমার চশমা ভেঙে দিয়েছে। কিন্তু আমি হয়তো এখান থেকে বেরিয়ে যেতে পারব, তারপর সঞ্জু কর্মকারের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের উপর চড়াও হবে ওই বখাটেগুলো।”

তিনি আরও বলেন, “ওরা আমায় মারতে চায়, মেরে দিক। আমি এখান থেকে যাব না। সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না।” একই সঙ্গে তিনি হাই কোর্ট ও রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ দাবি করে অভিযোগ করেন যে, নিহত কর্মীর বাড়ির দরজা ভাঙার চেষ্টা চলছে এবং ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল না।

অভিষেকের দাবি, তাঁর এই কর্মসূচির বিষয়ে আগেই জেলা পুলিশ ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁকে পরিকল্পিতভাবে বিক্ষোভের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এই ঘটনার পর তিনি বিজেপি ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর বক্তব্য, “যারা তৃণমূলকে চোর বলছে, তারা কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে ক্যামেরার সামনে টাকা নিতে দেখেছে? বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে ঘুষ নিতে দেখা গিয়েছে।”

উল্লেখ্য, শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি ছিল ভোট-পরবর্তী হিংসায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। কলকাতার বেলেঘাটা থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর যাওয়ার আগে তিনি কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে সিআইডির একটি নোটিসও গ্রহণ করেন। এরপর সোনারপুরে প্রবেশের আগেই বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির কালো পতাকা বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি, যা পরে শারীরিক হেনস্থার ঘটনায় পরিণত হয়।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!