Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২, ২০২৬

তীব্র গরমে স্কুলের সময় বদল হলেও ছুটি নয়, নয়া নির্দেশ স্কুলশিক্ষা দফতরের

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
তীব্র গরমে স্কুলের সময় বদল হলেও ছুটি নয়, নয়া নির্দেশ স্কুলশিক্ষা দফতরের

গ্রীষ্মের ছুটি শেষ হতেই ফের তাপমাত্রার পারদ চড়তে শুরু করেছে রাজ্যজুড়ে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে বর্ষার ঘাটতি দেখা দিতে পারে এবং জুন মাসের বড় অংশ জুড়েই তীব্র গরমের পরিস্থিতি বজায় থাকবে। এই অবস্থায় স্কুলগুলি ফের বন্ধ করা হবে কি না, তা নিয়ে অভিভাবক ও পড়ুয়াদের মধ্যে জল্পনা তৈরি হলেও আপাতত সেই পথে হাঁটছে না রাজ্য সরকার।

সোমবার স্কুল খোলার প্রথম দিনেই স্কুলশিক্ষা দফতর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন জেলায় গরমের তীব্রতা বিবেচনা করে স্কুলগুলি নিজেদের সুবিধামতো ক্লাসের সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারবে। জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (ডিআই) পাঠানো নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে স্কুলগুলি সকালে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

উল্লেখ্য, এই বছর সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলিতে প্রথমে ১১ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত গরমের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে তাপপ্রবাহের কারণে সেই ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত করা হয়। ১ জুন থেকে পুনরায় স্কুল খুলেছে। তবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়, বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে এখনও গরমের দাপট অব্যাহত রয়েছে। সেই কারণেই স্কুল বন্ধ না রেখে পরিস্থিতি অনুযায়ী সকালের শিফটে ক্লাস নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

দফতরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী দু’সপ্তাহ পরিস্থিতির উপর নজর রেখে স্কুলগুলিকে সময়সূচি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। যদিও কোনও নির্দিষ্ট জেলার নাম বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি, তবু বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলাগুলিতে গরমের প্রভাব সবচেয়ে বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চল বাদে রাজ্যের প্রায় সব এলাকাতেই এই নির্দেশ কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার থেকেই বিভিন্ন ডিআই অফিসের মাধ্যমে স্কুলগুলিতে এই নির্দেশ পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। দফতরের এক কর্তা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই গরমের ছুটি বাড়ানো হয়েছে। ফলে আবার দীর্ঘ সময়ের জন্য স্কুল বন্ধ করলে পঠনপাঠনের ক্ষতি হতে পারে। সেই কারণেই আপাতত সকালের স্কুল চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই ব্যবস্থার বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এসআই (স্কুল পরিদর্শক)-দের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

তবে নতুন নির্দেশিকা নিয়ে কিছু বাস্তব সমস্যার কথাও সামনে এসেছে। বিশেষ করে ইন্টিগ্রেটেড স্কুলগুলিতে, যেখানে একই ক্যাম্পাসে প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পৃথক শিফটে পড়াশোনা হয়, সেখানে সব শ্রেণির ক্লাস একসঙ্গে সকালে নেওয়া কঠিন হতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে এই ধরনের স্কুলগুলির জন্য কোনও আলাদা নির্দেশ না থাকায় সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষকে জেলা স্কুল পরিদর্শকদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “গরম যত বাড়বে, সমস্যাও তত বাড়বে। কিন্তু শহর ও শহরতলির বহু স্কুলে দুই বেলায় ক্লাস হয়। সেখানে এই নির্দেশ কার্যকর করা সহজ নয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মিত সময়সূচি মেনেই ক্লাস চালাতে হবে, যার ফলে পড়ুয়াদের অসুবিধার মুখে পড়তে হতে পারে।”


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!