Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ৩, ২০২৬

বিধানসভার স্বাক্ষর-বিতর্কে সিআইডি তদন্ত, গ্রেফতারির আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিধানসভার স্বাক্ষর-বিতর্কে সিআইডি তদন্ত, গ্রেফতারির আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের চিঠিতে স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিতর্ক ঘিরে নতুন মোড়। সিআইডি তদন্তের মধ্যে গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকে সুরক্ষা চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। আদালতের কাছে তিনি আবেদন জানিয়েছেন, তদন্ত চলাকালীন সিআইডি যেন তাঁকে গ্রেফতার করতে না পারে। বিচারপতি অরূপ সিনহা রায়-এর বেঞ্চ মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং শুক্রবার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত বিধানসভায় তৃণমূল পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া একটি চিঠিকে ঘিরে। ওই চিঠিতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেপুটি লিডার হিসেবে অসিমা পাত্র ও নয়না বন্দোপাধ্যায় এবং চিফ হুইপ হিসেবে ফিরাদ হাকিম-এর নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, চিঠিতে মোট ৭০ জন বিধায়কের নাম ছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, অন্তত ১৪ জন বিধায়কের নাম ব্লক লেটারে লেখা থাকলেও তাঁদের স্বাক্ষর ছিল না। পাশাপাশি একাধিক স্বাক্ষরে অসঙ্গতিও ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই অভিযোগের তদন্তভার রাজ্য সরকার সিআইডি-র হাতে তুলে দিয়েছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওই চিঠিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরও ছিল। সেই সূত্রেই গত শনিবার সিআইডি আধিকারিকরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে একটি নোটিস দিয়ে আসেন এবং সোমবার ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত দিনে তিনি হাজিরা দেননি। সূত্রের খবর, তিনি তদন্তকারী সংস্থার কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়েছিলেন।

এরপর বুধবার অভিষেক কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন। জানা গিয়েছে, তিনি সিআইডি-র নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং তদন্ত চলাকালীন গ্রেফতারি থেকে আইনি সুরক্ষা চেয়েছেন।

অন্যদিকে, এই বিতর্ককে প্রকাশ্যে নিয়ে আসেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গত সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা স্বাক্ষর সংক্রান্ত অভিযোগ বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভার তরফে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শুভেন্দুর এই ঘোষণার পরই দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে বুধবার বিধানসভার স্পিকার রধীন ঘোষ বসু-এর উপস্থিতিতে বিরোধী দলনেতা সংক্রান্ত জট কাটাতে তৃণমূল বিধায়কদের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে থেকেই সিআইডি-র পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অবস্থান বজায় রেখেই তিনি এবার আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। এখন নজর শুক্রবারের শুনানির দিকে, যেখানে আদালত এই মামলায় কী নির্দেশ দেয়, তা রাজনৈতিক ও আইনি—উভয় ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!