- দে । শ
- জুন ৩, ২০২৬
কর্নাটকের নতুন মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার, উপমুখ্যমন্ত্রী পরমেশ্বর। ক্যাবিনেটে সিদ্ধারামাইয়ার পুত্র যতীন্দ্র-সহ ১২
দীর্ঘ তিন বছরের জল্পনা, দর-কষাকষি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসলেন ডোড্ডালাহাল্লি কেম্পেগৌড়া শিবকুমার। বুধবার বিকেলে বেঙ্গালুরুর লোক ভবনের ঐতিহাসিক ‘গ্লাস হাউস’-এ রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান ।
২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের বিপুল জয়ের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে সিদ্ধারামাইয়া এবং শিবকুমারের মধ্যে টানাপোড়েন ছিল। শেষ পর্যন্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যস্থতায় সিদ্ধারামাইয়া প্রথমার্ধে মুখ্যমন্ত্রী এবং পরে শিবকুমার দায়িত্ব নেবেন— এমন একটি সমঝোতা হয়েছিল বলে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। সে চুক্তির বাস্তবায়নই দেখা গেল বুধবারের শপথ অনুষ্ঠানে।
উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ড. জি পরমেশ্বর। মুখ্যমন্ত্রিত্বের অন্যতম দাবিদার হিসেবে যাঁর নাম ঘুরে বেড়িয়েছিল, সে পরমেশ্বরই শেষ পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত মেনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসলেন। শপথের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পরমেশ্বর স্পষ্ট জানান, তাঁকে উপেক্ষা করা হয়েছে, এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। তিনি জানান, ‘আমারও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা মেনে নেওয়াই আমাদের কর্তব্য। উপমুখ্যমন্ত্রীর পদও মানুষের সেবা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।’ শপথের কয়েক ঘণ্টা আগে কংগ্রেস আনুষ্ঠানিক ভাবে ১৩ জন মন্ত্রীর নাম ঘোষণা করে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যসভা নির্বাচনের পর আরও মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হতে পারে। কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী-সহ সর্বাধিক ৩৪ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠনের সুযোগ রয়েছে।
উপমুখ্যমন্ত্রী পরমেশ্বরের পর একে একে শপথ নেন এইচ মুনিয়াপ্পা, কে জে জর্জ, এম বি পাটিল, রামালিঙ্গা রেড্ডি, সতীশ জারকিহোলি, কৃষ্ণা বাইরেগৌড়া, প্রিয়াঙ্ক খাড়্গে, ইউ টি খাদের, ঈশ্বর খাণ্ড্রে, যতীন্দ্র সিদ্ধারামাইয়া, বাইরাথি সুরেশ এবং শরণ প্রকাশ পাটিল। নতুন মন্ত্রিসভায় সিদ্ধারামাইয়ার পুত্র যতীন্দ্রর অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু–সহ কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা। উপস্থিত ছিলেন ধর্মীয় নেতা, কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধি, দলিত সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং কন্নড় সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কর্মীরাও।
কংগ্রেস সংসদীয় দলের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধী নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে ফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। শিবকুমার জানান, সোনিয়া তাঁকে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী শিবকুমার। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে যুব কংগ্রেস, বিধায়ক, মন্ত্রী, দলীয় সংগঠক— প্রায় প্রতিটি স্তর অতিক্রম করে তিনি আজ কর্নাটকের প্রশাসনিক শীর্ষপদে পৌঁছেছেন। আয়কর হানা, ইডির তদন্ত, তিহার জেলে বন্দি জীবন— একাধিক বিতর্ক ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিশেষ করে ২০১৭ সালে গুজরাতের কংগ্রেস বিধায়কদের রিসর্ট রাজনীতির সময় আশ্রয় দেওয়া এবং ২০১৯ সালে অর্থপাচার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়। কংগ্রেসের অন্দরে তিনি ধীরে ধীরে ‘ট্রাবলশুটার’ বা সংকটমোচক নেতার মর্যাদা পান।
২০২৩ সালে কর্ণাটকে কংগ্রেসের ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান তিনি। তিন বছর পর অবশেষে অপেক্ষার অবসান ঘটল। শপথ গ্রহণের পরই বিধান সৌধে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টনের দিকে। কোন নেতা কোন মন্ত্রক পাচ্ছেন, তা থেকেই স্পষ্ট হবে শিবকুমার-যুগের ক্ষমতার সমীকরণ কতটা বদলাল এবং সিদ্ধারামাইয়ার প্রভাব নতুন প্রশাসনে কতখানি বজায় থাকল।
❤ Support Us





