Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ৯, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণে রেকর্ড ব্যয়! শীর্ষে আমেরিকা, দ্বিতীয় চিন, কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত?

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণে রেকর্ড ব্যয়! শীর্ষে আমেরিকা, দ্বিতীয় চিন, কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের প্রায় আট দশক পরে, বিশ্ব রাজনীতির আবারও ঘনিয়ে উঠছে তীব্র স্নায়ুযুদ্ধের আবহ। ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মতো ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ার মতো বিষয় যত জটিল হচ্ছে, ততই শক্তিধর দেশগুলি আরও বেশি করে ঝুঁকেছে পরমাণু প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে। পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা। সে প্রতিযোগিতার আর্থিক মূল্যও নজিরবিহীন। ২০১৭ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবলিশ নিউক্লিয়ার ওয়েপনস’-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক ছবি। ২০২৫ সালে বিশ্বের ৯টি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ সম্মিলিত ভাবে প্রায় ১১৮.৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিকীকরণ আর সম্প্রসারণে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি।

হিরোশিমা ও নাগাসাকির বিভীষিকা থেকে শুরু হয়েছিল পরমাণু যুগ। ১৯৪৫ সালের দুই বিস্ফোরণের ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে মানবসভ্যতা শপথ নিয়েছিল, এমন বিপর্যয় আর কখনো যেন না ফিরে আসে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র শুধু টিকে থাকেনি, বরং আরও উন্নত, আরও দ্রুত এবং আরও বিধ্বংসী হয়েছে। ‘আইক্যান’-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের পারমাণবিক কর্মসূচিগুলিতে প্রতি সেকেন্ডে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩,৭৬৮ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ প্রতি মিনিটে ২ লক্ষ ২৬ হাজার ডলারেরও বেশি এবং প্রতিদিন প্রায় ৩২৬ মিলিয়ন ডলার। গত এক বছরে এই ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৬.৮ বিলিয়ন ডলার। শতাংশের হিসাবে বৃদ্ধি প্রায় ১৯ শতাংশ।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, ২০২১ থেকে ২০২৫;  মাত্র ৫ বছরে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৭১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মানবসভ্যতার অন্যতম বৃহত্তম আর্থিক বিনিয়োগগুলির একটি এখন পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। এ ব্যয়ের শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালে ওয়াশিংটন একাই ব্যয় করেছে ৬৯.২ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের মোট পারমাণবিক ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি এসেছে আমেরিকার কোষাগার থেকে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আনুমানিক ৫,০৪২টি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। সম্মিলিত ধ্বংসক্ষমতার বিচারে এগুলি হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত বোমার শক্তির তুলনায় প্রায় ৪৫ হাজার গুণ বেশি বিধ্বংসী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসন এখন একাধিক উচ্চাভিলাষী আধুনিকীকরণ প্রকল্পে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। পুরনো আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তে নতুন ‘সেন্টিনেল’ কর্মসূচি, পরবর্তী প্রজন্মের ‘বি-২১ রেইডার’ কৌশলগত বোমারু বিমান এবং ‘কলাম্বিয়া’ শ্রেণির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক ডুবোজাহাজ নির্মাণ— সব মিলিয়ে আমেরিকার পারমাণবিক অবকাঠামো এক বৃহৎ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন কংগ্রেসের বাজেট বিশ্লেষণ অনুসারে, ২০২৫ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে শুধুমাত্র পারমাণবিক বাহিনীর জন্যই প্রয়োজন হবে প্রায় ৯৪৬ বিলিয়ন ডলার। দীর্ঘমেয়াদে এ অঙ্ক ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করতে পারে।

আমেরিকার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে দ্রুত এগিয়ে চলেছে চিন। ২০২৫ সালে বেজিংয়ের ব্যয় ছিল ১৩.৫ বিলিয়ন ডলার। চিনের হাতে বর্তমানে আনুমানিক ৬২০টি পারমাণবিক ‘ওয়ারহেড’ রয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘সাইলো’ নির্মাণ করছে এবং দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত অস্ত্র মোতায়েন করছে। চিনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শিল্পব্যবস্থা প্লুটোনিয়াম উৎপাদন থেকে শুরু করে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণ পর্যন্ত সমস্ত ক্ষেত্রেই সক্রিয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই গতি অব্যাহত থাকলে চলতি দশকের শেষের দিকে চিনের কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমকক্ষ হয়ে উঠতে পারে।

রাশিয়া এখনো বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের মালিক। দেশটির হাতে রয়েছে আনুমানিক ৫,৪২০টি ‘ওয়ারহেড’। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিপুল সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি পেলেও মস্কো ২০২৫ সালে পারমাণবিক বাহিনীর জন্য ৯.৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের ‘কেদ্র’ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প নিয়েও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া।  অন্যদিকে ব্রিটেন ১২.৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক প্রকল্পে ব্যয়কারী দেশে পরিণত হয়েছে। তাদের সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ডুবোজাহাজনির্ভর। বর্তমানে ‘ভ্যানগার্ড’ শ্রেণির ডুবোজাহাজ ব্যবহার করা হলেও ভবিষ্যতে ‘ড্রেডনট’ শ্রেণির নতুন ডুবোজাহাজই হবে ব্রিটিশ প্রতিরোধ নীতির কেন্দ্রবিন্দু। পিছিয়ে নেই ফ্রান্সও। ২০২৫ সালে প্যারিস ৭.৭ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। ফরাসি পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে নির্মীয়মাণ কিছু কৌশলগত ডুবোজাহাজ ২০৯০-এর দশক পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে।

বৈশ্বিক পারমাণবিক প্রতিযোগিতায় ভারতের অবস্থান বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ‘আইক্যান’-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারত পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। আগের বছরের তুলনায় এই ব্যয় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। ব্যয়ের নিরিখে বিশ্বের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির মধ্যে ভারতের অবস্থান ষষ্ঠ। ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ কাঠামো এখন স্থল, আকাশ ও সমুদ্র; তিন স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দেশীয় শিল্পগোষ্ঠীগুলির সহযোগিতায় দেশের কৌশলগত সক্ষমতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ‘স্টকহোম শান্তি গবেষণা’ প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে, ভারতের পারমাণবিক ‘ওয়ারহেড’-এর সংখ্যা ১৮০ থেকে বেড়ে ১৯০-এ পৌঁছেছে। অর্থাৎ গত এক বছরে ১০টি নতুন ওয়ারহেড যুক্ত হয়েছে অস্ত্রভাণ্ডারে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এ বৃদ্ধি শুধুমাত্র সংখ্যাগত নয়; ভারতের সামগ্রিক কৌশলগত দর্শনের পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত বহন করে।

এক সময় পাকিস্তান ছিল ভারতের পারমাণবিক পরিকল্পনার প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। চিনের দ্রুত সম্প্রসারিত সামরিক শক্তি, সীমান্ত উত্তেজনা এবং বেজিংয়ের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক ভাণ্ডার ভারতের পরিকল্পনাকে ক্রমশ চিনমুখী করে তুলছে। এ কারণেই দীর্ঘপাল্লার ‘অগ্নি-৪’, ‘অগ্নি-৫’ এবং নতুন প্রজন্মের ‘অগ্নি-পি’ ক্ষেপণাস্ত্রের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বহুল আলোচিত বহু-লক্ষ্যভেদী পুনঃপ্রবেশ প্রযুক্তি বা এমআইআরভি উন্নয়নের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে একটি মাত্র ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক পারমাণবিক ‘ওয়ারহেড’ পৃথক পৃথক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ফলে প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়,  শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়াও সহজ হয়।

ভারতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থায়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন হয়েছে ‘আইএনএস অরিধামন’। এটি ভারতের তৃতীয় স্বদেশি পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডুবোজাহাজ। এর ফলে ভারতের পারমাণবিক ত্রয়ীর সমুদ্রভিত্তিক অংশ আরও শক্তিশালী হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ডুবোজাহাজভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাই যেকোনো পারমাণবিক শক্তির সবচেয়ে নিরাপদ অংশ। কারণ শত্রুর প্রথম আঘাতে স্থল ও আকাশভিত্তিক বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গভীর সমুদ্রে অবস্থানকারী ডুবোজাহাজ থেকে পাল্টা আঘাত হানা সম্ভব।

পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও আধুনিকীকরণ অব্যাহত রয়েছে। দেশটির হাতে বর্তমানে আনুমানিক ১৭০টি ‘ওয়ারহেড’ রয়েছে। তবে পাকিস্তান তুলনামূলক ভাবে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আর কৌশলগত যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী পারমাণবিক অস্ত্রের উপর। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৫ সালের সীমিত সংঘর্ষের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছে ‘স্টকহোম শান্তি গবেষণা’ প্রতিষ্ঠান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় উভয় দেশই পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেয়নি। কিন্তু ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা অত্যন্ত স্পর্শকাতর পরিবেশে পরিচালিত হয়। প্রতিবেদনটির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো, বর্তমান বিশ্বের পারমাণবিক কর্মসূচিগুলি শুধু বর্তমান প্রজন্মের জন্য নয়, ভবিষ্যতের বহু প্রজন্মের উপরও আর্থিক দায় চাপিয়ে দিচ্ছে।

আজ যে ক্ষেপণাস্ত্র বা ডুবোজাহাজ নির্মাণ করা হচ্ছে, তার অনেকগুলিই ২০৫০, ২০৬০ কিংবা ২১০০ সালের পর পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। অর্থাৎ বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব বহন করতে হবে আগামী শতাব্দীর নাগরিকদেরও। একই সঙ্গে এই বিপুল অর্থ থেকে লাভবান হচ্ছে বিশ্বের বৃহৎ প্রতিরক্ষা শিল্পগোষ্ঠীগুলি। ‘আইক্যান’-এর দাবি অনুযায়ী, অন্তত ২৫টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ২০২৫ সালে পারমাণবিক অস্ত্র-সংক্রান্ত চুক্তি পেয়েছে। সম্মিলিতভাবে তাদের বার্ষিক আয় ৩৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অন্যদিকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণপন্থীরা প্রশ্ন তুলছেন— এই বিপুল অর্থ যদি জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ কিংবা খাদ্য নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রে ব্যয় করা হতো, তবে তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারত।

২০২৫ সালে পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য ব্যয় হওয়া বৈশ্বিক অর্থ দিয়ে জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট প্রায় ৩২ বছর চালানো সম্ভব। এক দিনের বৈশ্বিক পারমাণবিক ব্যয় দিয়ে ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জল ও অনান্য পরিষেবা নিশ্চিত করা যেতে পারে। ‘স্টকহোম শান্তি গবেষণা’ প্রতিষ্ঠানের সতর্কবার্তা আরও উদ্বেগজনক। তাদের মতে, বিশ্ব এখন নতুন এক পারমাণবিক যুগে প্রবেশ করছে। স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী নিরস্ত্রীকরণের প্রবণতা প্রায় থেমে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হচ্ছে, পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলির স্বচ্ছতা কমছে এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র, চিন, রাশিয়া, ভারত ও পাকিস্তান যখন একই সঙ্গে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণে ব্যস্ত, তখন বিশ্বের সামনে আবারও উঁকি দিচ্ছে নতুন বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা। আর সে প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ভারত।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!