- দে । শ প্রচ্ছদ রচনা
- জুন ১৭, ২০২৬
বৃহস্পতিবার শুরু বিধানসভার অধিবেশন, ২২ জুন বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশ
ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে প্রথমবার বসতে চলেছে নবগঠিত বিজেপি সরকারের বিধানসভা অধিবেশন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই অধিবেশনের দিকে। আগামী ১৮ জুন, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাজ্যপালের ভাষণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বহু প্রতীক্ষিত অধিবেশন।
অধিবেশন যাতে সংসদীয় রীতিনীতি মেনে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সে লক্ষ্যেই মঙ্গলবার বিধানসভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সর্বদলীয় বৈঠক এবং কার্য উপদেষ্টা কমিটি (বিজনেস অ্যাডভাইসরি কমিটি বা বিএ কমিটি)-র বিশেষ সভা। বৈঠকে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তবে বৈঠকে ডাক পাননি ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর বিধায়ক কুণাল ঘোষ ও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কুণাল ঘোষ জানান, ‘আমি বৈঠকের চিঠি পাইনি। শোভনদেব বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি পাননি। বিধানসভার স্পিকার নিয়ম ভঙ্গ করে ছায়া বিরোধীদলকে ডেকেছেন।’
দীর্ঘ আলোচনার পর শাসক ও বিরোধী পক্ষের সম্মতিতে অধিবেশনের বিস্তারিত কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অধিবেশনের এ পর্ব আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত চলবে। নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশন হওয়ায় বিরোধীদের রণকৌশল এবং শাসকদলের পাল্টা প্রস্তুতি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বৈঠক শেষে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিধানসভায় তাঁরা সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের সূক্ষ্ম পর্যালোচনা করবেন। তাঁর কথায়, নতুন সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের বহু প্রত্যাশা রয়েছে। বিরোধী দল হিসেবে তাঁরা গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবেন, তবে জনস্বার্থবিরোধী কোনো বিল, নীতি বা প্রস্তাব আনা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
একইভাবে সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কৃষক, শ্রমিক, যুবক এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা জমে রয়েছে। নতুন সরকার সমস্যাগুলির সমাধানে কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে মানুষ। অধিবেশনে তাঁরা সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরবেন বলেও জানান। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি অধিবেশনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। তাঁর বক্তব্য, সংখ্যালঘু, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি এলাকার এবং রাজ্যের মানুষের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার বিষয় বিধানসভায় তুলে ধরবেন।
কার্য উপদেষ্টা কমিটির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১৮ জুন সকাল ১১টায় ভারতীয় সংবিধানের ১৭৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুসারে রাজ্যপাল আরএন রবি তাঁর প্রারম্ভিক ভাষণ দেবেন। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ সে ভাষণের প্রতিলিপি বিধানসভার টেবিলে পেশ করবেন অধ্যক্ষ। এরপর শাসকদলের একজন প্রবীণ সদস্য ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব উত্থাপন করবেন এবং অপর একজন সদস্য তা সমর্থন করবেন। ১৯ জুন, শুক্রবার সকাল ১১টায় শোকপ্রস্তাবের জন্য সময় নির্ধারিত হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অধিবেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হতে চলেছে নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রাজ্য বাজেট। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ জুন সোমবার দুপুর ১২টায় অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি তথা রাজ্য বাজেট পেশ করবেন।
রাজ্যের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, শিল্পোন্নয়ন, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন সরকার কী রূপরেখা ঘোষণা করে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যবাসীর। ২৩ ও ২৪ জুন রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনা, মেনশন পর্ব এবং সাধারণ বাজেট নিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, ২৫ জুন বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা এবং বিভিন্ন দফতরের ব্যয়বরাদ্দ সংক্রান্ত দাবিপত্র পেশ করা হবে। একই দিনে বিধানসভার কার্যপ্রণালী ও আচরণ বিধির ২০৮-এ ধারা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার প্রস্তাবও শাসকদলের পক্ষ থেকে আনা হতে পারে। ২৫ জুনের পর অধিবেশন সাময়িকভাবে মুলতবি থাকবে এবং ৬ জুলাই সকাল ১১টায় বিধানসভা পুনরায় বসবে। সব মিলিয়ে নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে আগামী কয়েকদিন রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন যে যথেষ্ট সরগরম থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।
❤ Support Us





