- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ১৭, ২০২৬
জিটিএ দুর্নীতি তদন্তের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ অনীত থাপার। পাহাড়ে বিমল গুরুংয়ের প্রত্যাবর্তনের জল্পনা
পাহাড় সফরে গিয়ে গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর দুর্নীতির অভিযোগে ফাইল খোলার এবং তদন্তের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সে ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জিটিএ চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অনীত থাপা। শুধু চেয়ারম্যান পদই নয়, তিনি জিটিএ সভাসদ পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর এই পদক্ষেপ ঘিরে পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
পদত্যাগের পর সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করেন অনীত থাপা। সেখানে তিনি জানান, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পাহাড়ের মানুষের মধ্যেও জিটিএ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের বড়ো অংশ জিটিএ-র কার্যকলাপের তদন্ত চাইছেন, এমনকি তিনি নিজেও সে দাবিকে সমর্থন করছেন। সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে অনীত থাপা লেখেন, ‘রাজ্যে পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এই সরকারকে মেনে নিয়েছে। জিটিএ নিয়ে পাহাড়ের মানুষের ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। সবাই চাইছে জিটিএ তদন্ত করা হোক। আমিও চাইছি তদন্ত হোক। তবে জিটিএ-তে খুব বেশি অর্থ বরাদ্দ আসত না।’
তিনি আরও বলেন, মানুষের ক্ষোভ ও পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই চেয়ারম্যান এবং সভাসদ— উভয় পদ থেকেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ইস্তফার পর এখন প্রশ্ন উঠছে, জিটিএ-র দায়িত্ব কার হাতে যাবে? পাহাড়ের রাজনীতিতে আবারও কি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ফিরবেন বিমল গুরুং? এ জল্পনাও ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ে ‘জনকল্যাণ শিবির’-এ যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি জনসভা থেকেও তিনি জিটিএ-তে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরব হন। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে রাজ্যে সুশাসনের অভাব ছিল এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে।
নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, জিটিএ-র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। তবে বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন। তাঁর হুঁশিয়ার, ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা।’ সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত হবে, কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যেই জিটিএ-র মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। সে প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর তদন্তের ঘোষণার পর মাত্র এক দিনের মধ্যে অনীত থাপার পদত্যাগ পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন নজর রয়েছে জিটিএ-র ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং সম্ভাব্য তদন্তের অগ্রগতির দিকে।
❤ Support Us







