Advertisement
  • এই মুহূর্তে বি। দে । শ
  • জুন ২৯, ২০২৬

আফগান সীমান্তে পাক স্থল ও বিমান হামলা, নিহত ৩০

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
আফগান সীমান্তে পাক স্থল ও বিমান হামলা, নিহত ৩০

শনিবার করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্স সদর দফতরে হামলা চালিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। সেই হামলার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই কড়া পদক্ষেপ পাকিস্তানের। রবিবার আফগান সীমান্তের কাছে সামরিক অভিযান চালিয়ে ৩০ জনকে হত্যা করেছে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলার জবাবে এই অভিযান।

শনিবার রাতে সন্ত্রাসীরা করাচির গুলিস্থান–ই–জোহর এলাকায় সিন্ধু রেঞ্জার্স সদর দফতরে হামলা চালায়। সিন্ধু পুলিশের প্রধান জাভেদ আলম ওধো জানান, সন্ত্রাসীরা বিস্ফোরক বোঝাই একটা গাড়ি প্রধান ফটকে ধাক্কা দিলে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়নি গাড়িটি বিস্ফোরিত হয়েছিল কিনা। এই হামলায় তিনজন পাকিস্তানি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য ও তিনজন সন্ত্রাসী নিহত হয়। একজন সেনা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

হামলার পর স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ), অ্যান্টি–টেররিস্ট ফোর্স (এটিএফ), রেঞ্জার্স এবং পুলিশ এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করে। রেসকিউ ১১২২ সিন্ধ–এর একটা দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। তেহরিক–ই–তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) একটা বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী জামাত–উল–আহরার এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে যে, তাদের ৯ জন জঙ্গি এই হামলায় অংশ নিয়েছিল।

এই হামলার প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান স্থল ও বিমানবাহিনী আফগান সীমান্তে তীব্র আক্রমণ চালায়। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তা বাহিনী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত অঞ্চলে পূর্ব পরিকল্পিত স্থল অভিযান ও বিমান হামলা চালিয়েছে। আতাউল্লাহর মতে, খাইবার পাখতুনখোয়া, বেলুচিস্তান এবং করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্স ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলার পর এই অভিযান চালানো হয়।
সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা তীব্রভাবে বেড়েছে। পাকিস্তান সরকারের দাবি, তেহরিক–ই–তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং এর সহযোগী অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনগুলি এই হামলার পেছনে রয়েছে। টিটিপি আফগান তালিবান থেকে পৃথক সংগঠন হলেও, উভয়কেই মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২১ সালে তালিবানরা আফগানিস্থানে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে সীমান্তে উত্তেজনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।

পাকিস্তান দাবি করে যে, তারা শান্তি চায়। কিন্তু নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে কোনও আপোস করবে না। অন্যদিকে, পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ করে আসছে যে আফগান তালিবান সরকার টিটিপি জঙ্গিদের আশ্রয় দেয়, যে অভিযোগ আফগানিস্তান বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

এদিকে, আফগানিস্তান দাবি করেছে যে, ১০ জুন পাকিস্তান খোস্ত, কুন্দার এবং পাক্তিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছিল। এই হামলায় ১১ জন শিশু, একজন মহিলা ও একজন বৃদ্ধসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা কোনও বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেনি।

পাকিস্তানের ভাষ্যমতে, হামলাগুলি শুধুমাত্র সন্ত্রাসী আস্তানাগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল এবং এতে ২৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে দুই দেশ অসংখ্য প্রতিশোধমূলক সামরিক পদক্ষেপে লিপ্ত হয়েছে। এই সীমান্ত সংঘাতে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েক দফা আন্তর্জাতিক শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও এখনো কোনও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি হয়নি।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!