Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২৯, ২০২৬

ভারতীয় সেনায় ‘ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল গ্রুপ’, জুলাই মাসেই আত্মপ্রকাশ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
ভারতীয় সেনায় ‘ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল গ্রুপ’, জুলাই মাসেই আত্মপ্রকাশ

পাহাড়ি সীমান্তে শত্রুর যে কোনও আগ্রাসনের দ্রুত মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। পদাতিক, সাঁজোয়া বাহিনী, গোলন্দাজ, ইঞ্জিনিয়ার-সহ বিভিন্ন শাখাকে একত্রিত করে ছোট কিন্তু স্বয়ংসম্পূর্ণ যুদ্ধক্ষম ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে। সামরিক পরিভাষায় এই বাহিনীর নাম ‘ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল গ্রুপ’ (আইবিজি)। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকেই দেশের প্রথম আইবিজি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবে।
দেশের প্রথম আইবিজি গঠিত হচ্ছে সেনাবাহিনীর সপ্তদশ কোর-এর অধীনে, যার প্রধান ঘাঁটি পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড়ে। এই কোর মূলত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর চিনের আগ্রাসনের মোকাবিলার দায়িত্বে রয়েছে। সূত্রের খবর, প্রথমে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে সপ্তদশ কোরের অধীনে চারটি আইবিজি এবং একটি গোলন্দাজ বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা ছিল। তবে সেই সময়সীমার আগেই, জুলাই মাস থেকেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে চলেছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে মোট পাঁচটি আইবিজি তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি গ্রুপের নেতৃত্বে থাকবেন এক জন মেজর জেনারেল পদমর্যাদার সেনা আধিকারিক। প্রতিটি ইউনিটে প্রায় ৫,০০০ সেনা থাকবেন। পদাতিক, ট্যাঙ্ক ও গোলন্দাজ বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিটি আইবিজিতে থাকবেন সামরিক ইঞ্জিনিয়াররাও, যাতে বাহিনীটি সম্পূর্ণ স্বনির্ভরভাবে দ্রুত যুদ্ধ পরিচালনা করতে পারে।
প্রতিরক্ষা মহলের মতে, সেনাবাহিনীর গঠন ও পরিকাঠামোয় যে বৃহত্তর সংস্কার কর্মসূচি চলছে, আইবিজি তারই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত প্রথম এই ধরনের ছোট, দ্রুতগতিসম্পন্ন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ যুদ্ধ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। গত প্রায় সাত বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও পরীক্ষামূলক মূল্যায়নের পর অবশেষে তা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আইবিজির সবচেয়ে বড় সুবিধা হল দ্রুত মোতায়েনের ক্ষমতা। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যে কোনও ধরনের আক্রমণের মোকাবিলায় প্রচলিত বাহিনীর তুলনায় অনেক কম সময়ে পৌঁছে অভিযান শুরু করতে পারবে এই ইউনিট। শুধু প্রতিরোধ নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণাত্মক অভিযান এবং প্রতিরক্ষামূলক মোতায়েন— দুই ক্ষেত্রেই আইবিজিকে ব্যবহার করা যাবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক বছর আগে চিনও তাদের সেনাবাহিনীর কাঠামোয় পরিবর্তন এনে অপেক্ষাকৃত ছোট ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল যুদ্ধ ইউনিট গঠন করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের এই পদক্ষেপকে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করার কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!