- এই মুহূর্তে দে । শ
- জুন ২৯, ২০২৬
স্বদেশে প্রত্যাবর্তন, কী বার্তা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনার
প্রায় ২ বছর আগে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল, তার রেশ এখনও কাটেনি। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই থেকেই তিনি ভারতে বসবাস করছেন। শেখ হাসিনা আদৌও দেশে ফিরবেন কি না, দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছিল। অবশেষে দেশে ফেরার কথা ঘোষণা করলেন বাংলাদেশের এই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। এ বছরই তিনি বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর এই ঘোষণায় বাংলাদেশে আবারও রাজনৈতিক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
শেখ হাসিনা এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে যত আইনি মামলা বা শাস্তিই আসুক না কেন, তিনি এ বছরই বাংলাদেশে ফিরবেন। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের জন্য আমার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। দেশ ও জনগণের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। কোনও পরিস্থিতিতেই আমি ভীত নই।’ তাঁর মৃত্যুদণ্ড প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, ‘আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার বাবা–মা, ভাই এবং প্রায় পুরো পরিবারকে হারিয়েছিলাম। ২১ আগস্ট আমাকে গ্রেনেড দিয়ে আক্রমণ করা হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, কিন্তু প্রতিবারই আমি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছি।’
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র বিক্ষোভ ও ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর তিনি ভারতে চলে আসেন। তখন থেকেই এদেশে সেখানে বসবাস করছেন। হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের দায়িত্ব পান মহম্মদ ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেই হাসিনার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করে। যার মধ্যে কয়েকটিতে তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচার না করেই সাজা দেওয়া হয়। তাঁর দল আওয়ামী লিগও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক চাপের সম্মুখীন।
বর্তমান সরকারের নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় ন্যায়বিচার নয়, বরং এটা একটা অবৈধ, অসাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার অংশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশে একটা স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন, যাতে জনগণ স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে।’ শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে শুধু একটা রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবেই নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির একটা মোড় হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, তিনি এবছর বাংলাদেশে ফিরলে তা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে হাসিনা আরো বলেন, ‘ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ, অসাংবিধানিক ও দখলদার অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এবং একটা সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের অধীনে, মানুষ নিজ চোখে বাস্তবতা দেখছে। কোনও গণতন্ত্র নেই। আইনের শাসন নেই। কোনও নিরাপত্তা নেই। অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। সংখ্যালঘুরা আক্রমণের শিকার। চরমপন্থা ছড়িয়ে পড়ছে। আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মীরা অকল্পনীয় রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের সম্মুখীন হচ্ছেন।’
দলের ৭৭তম বর্ষপূর্তিতে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লিগের নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দলের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে হাসিনা বলেন, ‘আমাদের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আমার বার্তা, ঐক্যবদ্ধ থাকুন এবং জনগণের পাশে দাঁড়ান। প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি পাড়া, প্রতিটি ওয়ার্ড এবং প্রতিটি ইউনিয়নে জনগণের সঙ্গে আপনাদের বন্ধন আরও গভীর করুন। নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ান। সংখ্যালঘু, নারী, শিশু, শ্রমজীবী, দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়ে আপোষহীন হোন। আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রতিশোধের জন্য নয়। এটি অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও উন্নয়নের রাজনীতি। আওয়ামী লীগ জনগণের সঙ্গে ছিল, জনগণের সঙ্গে আছে এবং জনগণের সঙ্গে থাকবে। জনগণের শক্তিতেই আওয়ামী লীগ আবার জেগে উঠবে।’
❤ Support Us








