Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুন ২৯, ২০২৬

বিধানসভায় হুমায়ুনকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
বিধানসভায় হুমায়ুনকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সোমবার বিধানসভায় প্রতিক্রিয়া দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, কোনও রকম উস্কানিমূলক কথা এই সরকার বরদাস্ত করবে না। হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ২টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলেও সোমবার বিধানসভায় জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আপনি কান খুলে শুনে রাখুন, এই ভাবে ধমক, বেপরোয়া, লাগামছাড়া কথা বলতে দেবো না, দেবো না, দেবো না। সময় এসেছে এই ধরনের লোককে সবক শেখানোর।’ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুনকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা ধরে রাখতে পারেন এটা ওঁর শেষ বক্তব্য। এ সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে, গুন্ডাদের শাসন সমাপ্ত করবে।’
মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানান, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এজেন্ডা থেকে মুর্শিদাবাদ জেলার নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এই ধরনের বক্তব্য রেখেছেন। শুভেন্দুর দাবি করেন, ভরতপুর, রেজিনগর ও নওদায় সমস্ত নির্বাচিত পঞ্চায়েত (যে দলেরই বোর্ড থাকুক) ভেঙে সেই সদস্যদের হুমায়ুন তাঁর দল এজেইউপিতে নিয়ে যেতে চাইছেন অথচ সেটা করতে পারছেন না। দ্বিতীয়ত, হুমায়ুন দু’টি সিটে জিতেছেন। নিয়ম মেনে রেজিনগর থেকে রিজাইন করেছেন। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে উপনির্বাচন হবে সেখানে। সেখানে ছেলেকে জেতাতে চাইছেন। ৭২ শতাংশ মুসলিম ভোট আছে সেখানে। সেই ভোট পেতেই এই ‘খেলা’ খেলছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিধানসভায় এক প্রকার হুঁশিয়ারি দিয়ে হুমায়ুনকে বলেন, ‘আপনাকে পরিষ্কার বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী নন। আপনি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি করেছেন, যা খুশি বলেছেন। আমি আপনাকে বলে গেলাম, আমরা ২টো এফআইআর করেছি। একটা রেজিনগর থানায়, একটা শক্তিপুর থানায়।’
উস্কানিমূলক কথা যে বিজেপি সরকার কোনও রকম ভাবেই মানবে না, তা বোঝাতে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভার কক্ষে দাঁড়িয়ে তিনটে উদাহরণও তুলে ধরেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘সন্দেশখালিতে একজন ছিল। ২০২৪-এর ১ জানুয়ারি সে বলেছিল, তৎকালীন বিরোধী দলনেতা এলে তাঁর হাত কেটে পায়ে, পা কেটে হাতে লাগাবে। আর চামড়া ছাড়িয়ে মেদিনীপুরে পাঠিয়ে দেবে। ওর অবস্থা কী হয়েছে তা সবাই দেখেছে। ওরও একই টোন ছিল। আর একজন জীবনতলার গুন্ডা। ক্যানিংয়ের। ওর অবস্থাও দেখতে পাচ্ছে সবাই। আরেকটা পুষ্পা ঝুকেগা নেহি। এমন ঝুকেছে যে, খালি পায়ে ছোট প্যান্ট পরে কান ধরে ওঠবস করতে করতে যাচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, গত ৮ জুন শক্তিপুরে ও ২৬ জুন রেজিনগরে দলের সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে হুমায়ুন কবীর যে বক্তব্য রাখেন, তা নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। রেজিনগরের সভা থেকে হুমায়ুন বলেছিলেন, ‘এখানে ভোটে হেরেও বিজেপি মনে করছে তাদের বিধায়ক রয়েছে। আমি শুভেন্দু অধিকারীকে সে দিন বলেছি, আপনি ভোটে জিতেছেন, দল জিতেছে খুব ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা কম করতে বলবেন।’ এই মন্তব্য করে বিজেপির উদ্দেশে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘যে দিন ময়দানে নেমে যাব সে দিন আপনাদের পতাকা ধরার লোক থাকবে না। আমি নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে লাখ লাখ লোককে রাস্তায় নামাব, আর স্যাটাভাঙা মার দেব। কত দিন জেলে রাখতে পারেন, খাওয়াতে পারেন দেখব? আমার মাথা যে দিন গরম হয়ে যায় সে দিন আমি এসপিও বুঝব না, মুখ্যমন্ত্রীও বুঝব না।’
শুভেন্দু অধিকারী এক সপ্তাহ পরে মুর্শিদাবাদে যাচ্ছেন। হুমায়ুনের কেসে পুলিশ যা ব্যবস্থা নেওয়ার তো নেবেই। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রমাণ করে দেবো, ভারতবর্ষের সংবিধান, আইনই শেষ কথা বলে। কোনও বাতেলাবাজ শেষ কথা বলে না। আপনাকে সংযত হওয়ার, সতর্ক হওয়ার, এই ধরনের কথা প্রত্যাহার করার এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কথা বলার আগে ২৫ বার ভাবার হুঁশিয়ারি দিয়ে সভাকে আশ্বস্ত করছি, যারা ওকে ডেকেছিল সভাতে, তাদের আগে তুলব। তার পরে আপনার কাছে যাব।’
যদিও হুমায়ুন কবীরের স্পষ্ট দাবি, ‘আমি তো রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি। আমি বিজেপিকে বলেছি। নবাগত বিজেপিরা আমার বাড়ির কাছে গিয়ে আমাকে আক্রমণ করেছে। আমি কী করব? রাজনৈতিক ভাবে আমি আক্রমণ করব না? কার কাছে উনি ক্ষমা চাইতে বলছেন, তা তিনি স্পষ্ট করুন। যদি সেটা বলার হয়, নিশ্চয়ই বলব।’ এখন দেখার মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে হুমায়ুনকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর তিনি কি করেন।

  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!