- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- জুলাই ৮, ২০২৬
রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিশরকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা
আগেই বিদায় নিয়েছেন নেইমার জুনিয়র, ভিনিসিয়াস, লুকা মডরিচ, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মতো তারকারা। এবার কি তাহলে লিওনেল মেসির পালা ? আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচে ১৫ মিনিটে মিশরের এগিয়ে যাওয়া ও ২১ মিনিটে মেসির পেনাল্টি মিসের পর আশঙ্কাটা তৈরি হয়েছিল। সেই মেসির পায়েই আর্জেন্টিনার পুনর্জন্ম। ২ গোলে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। রূপকথার প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আর্জেন্টিনা। ইজিপশিয়ানরা তখন কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু এভাবে যে পরিস্থিতি বদলে যাবে কে জানত? শেষ ১৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার টাইফুন। ঝড় তুললেন লিওনেল মেসি। পেনাল্টি নষ্টের আক্ষেপ হয়তো কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল ‘আধুনিক ফুটবলের রাজপুত্র’কে। এভাবে বিষর্জন হয়ে যাবে? জ্বলে উঠলেন মেসি, ঝলসে উঠল বাঁ পা। গোল করালেন, নিজে গোল করলেন। বিশ্বকাপে বেঁচে থাকল আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দারুণ শুরু করেছিল এবারের বিশ্বকাপে চমক দেওয়া মিশর। প্রথম ১০ মিনিট মহম্মদ সালাহদেরই কাপট। ময়াচের ১৫ মিনিটেই এগিয়ে যায় মিশর। ডান দিক থেকে সেন্টার করেছিলেন মারিয়ান আতিয়া। হেডে বল জালে পাঠান ইয়াসের ইব্রাহিম। পিছিয়ে পড়ে আক্রমণে ঝড় তোলে আর্জেন্টিনা। ২১ মিনিটে সমতা ফেরানোর সুযোগও এসেছিল। মিশরের হাসেম হাসান বক্সের মধ্যে ফাউল করেন তাগলিয়াফিকোকে। রেফারি পেনাল্টি নির্দেশ দেন। মেসির শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান মিশরের গোলকিপার মোস্তাফা শোবের।
হাইড্রেশন ব্রেকের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। বারবার আক্রমণ তুলে নিয়ে আসছিল মিশরের রক্ষণভাগে। ২৮ মিনিটে আবার সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল আর্জেন্টিনার সামনে। ডানদিক থেকে সেন্টার করেছিলেন ডি পল। ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড দারুণ তৎপরতার সঙ্গে বাঁচান মিশরের গোলকিপার। ৩১ মিনিটে আর্জেন্টিনার সমতা ফেরানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় পোস্ট। মেসির দুরন্ত ফ্রিকিক পোস্টে লেগে বাইরে বেরিয়ে যায়। ৩৯ মিনিটে আবার সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল আর্জেন্টিনার সামনে। এবারও অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন মিশরের গোলকিপার শোবের। জুলিয়ান আলভারেজের শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বাঁচিয়ে আবার দলের পতন রোধ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে একেবারে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে মিশর। ১০ মিলে রক্ষণ সামলাচ্ছিল। সালাহকেও দেখা যায় রক্ষণভাগের সামনে ঘোরাঘুরি করতে। নিরঙ্কুশ আধিপত্য থাকলেও মিশরীয় দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভেদ করতে পারছিল না আর্জেন্টিনা। মেসিদের যাবতীয় আক্রমণ রক্ষণে আটকে যাচ্ছিল। ৫৮ মিনিটে প্রতি আক্রমণে উঠে এসে আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠিয়েছিলেন জিকো। যদিও সেই গোল বাতিল হয়ে যায়। জিকো বল পাওয়ার আগেই লিয়ান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল করেন হোসেম। ভিএআর পর্যালোচনা করে রেফারি গোল বাতিল করেন।
৬৭ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় মিশর। প্রতি আক্রমণে উঠে এসে মহম্মদ সালাহ বল দেন হাসানকে। বক্সের মধ্যে হাসান বল বাড়ান জিকোর উদ্দেশ্যে। বল জালে পাঠান জিকো। এই সময় মনে হচ্ছিল কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পেয়েই গেল মিশর। কিন্তু অন্যরকম ভেবেছিল আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দে ম্যাচের মতো এদিনও দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। ৭৯ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে ফেরান ক্রিশ্চিয়ানো রোমেরো। অবদান সেই মেসির। ডানদিক থেকে সেন্টার করেছিলেন লিওনেল মেসি। অবিশ্বাস্য টাইমিংয়ে দুরন্ত হেডে ব্যবধান কমান রোমেরো। ৩ মিনিটেই সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল আর্জেন্টিনার সামনে। একক প্রয়াসে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে মাইনাস করেছিলেন মেসি। ৬ গজ বক্সের মধ্যে থেকে সেই বলে হেড করেছিলেন মার্টিনেজ। অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
তবে সমতা ফিরতে বেশিক্ষণ সময় লাগেনি। ৮৪ মিনিটে জ্বলে ওঠেন লিওনেল মেসি। বক্সের গঞ্জালো মন্টিয়েলের ব্যাকপাস পায়ে পড়তেই দুরন্ত ভলি , বল ক্রসবারের ভেতরে লেগে জালে। ৯০ মিনিটে আবার মিশরকে বাঁচান গোলকিপার শোবের। মেসির ফ্রিকিকে হেড করেছিলেন আলভারেজ। চাপড় মেরে বাঁচান শোবের। সংযুক্তি সময়ে আর দলকে বাঁচাতে পারেননি মিশর গোলকিপার। ২ মিনিটেই জয়সূচক গোল। জুলিয়ানো আলভারেজ বাঁদিকে বল ধরে সুইচ ওভার করে একেবারে ডান দিকে পাঠান। লাওতারো মার্টিনেজ সেই বল ধরে অনেকটা দৌড়ে বাঁদিক থেকে সেন্টার করেন। দুরন্ত কোনাকুনি হেডে বল জালে পাঠান এনজো ফার্নান্দেজ। দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা।
❤ Support Us








