- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- জুলাই ৭, ২০২৬
স্বপ্ন অধরা রেখেই শেষ রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ জীবন! পর্তুগালকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন
দেশকে ইউরো কাপ জিতিয়েছেন। চ্যাম্পিয়ন করেছেন নেশনস লিগেও। শুধু বাকি ছিল দেশকে বিশ্বকাপ উপহার দেওয়া। স্বপ্ন দেখেছিলেন জীবনের শেষ বিশ্বকাপে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করে ফুটবল জীবনের বৃত্ত সম্পন্ন করা। স্বপ্নপূরণ হল না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন। ম্যাচের সংযুক্তি সময়ে একমাত্র গোলটি করেন মিকেল মোরিনো। অতৃপ্তি নিয়েই বিশ্বকাপ ফুটবল জীবন শেষ করলেন রোনাল্ডো।
পর্তুগাল ও স্পেন ম্যাচকে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষনীয় ম্যাচ হিসেবে দেখেছিলেন সকলেই। দু-দলের সামনে সুযোগ তৈরি হলেও ম্যাচ উচ্চমানে পৌঁছয়নি। আসলে কোনো দলই বাড়তি ঝুঁকি নেওয়ার রাস্তায় হাঁটেনি। ফলে আক্রমণে সেভাবে গতি আসেনি। দুই দলের কোচই শুরু থেকেই রক্ষণ জমাট করে ঝুঁকিহীল ফুটবলের দিকে নজর দিয়েছিলেন। স্পেনে কোচ দে লা ফুয়েন্তে জানতেন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে আটকে দিলেই পর্তুগালের আক্রমণভাগ ভোঁতা হয়ে পড়বে। সে রাস্তায় হেঁটে তিনি রোনাল্ডোর জন্য রক্ষণে চক্রব্যুহ তৈরি করেছিলেন। আর তাতেই আটকে গেলেন রোনাল্ডো। গোটা ম্যাচে বিক্ষিপ্ত লগ্নে কয়েকবার জ্বলে ওঠা ছাড়া তেমন কিছু করতে পারেননি।
ম্যাচের ৯ মিনিটে স্পেনের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল। দানি ওলমোর পাস থেকে দারুণ জায়গায় বল পেয়েছিলেন মিকেল ওয়ারজাবাল। কিন্তু পর্তুগাল গোলকিপার দিয়েগো কোস্তাকে সামনে একা পেয়েও বল বাইরে মারেন। ৩ মিনিট পর রোনাল্ডোর সামনে গোলের সুযোগ এসেছিল। তাঁর শট আটকে দেন স্পেন গোলকিপার উনাই সিমন। ১৭ মিনটে আবার অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন দিয়েগো কোস্তা। পরপর দুটি অবিশ্বাস্য সেভ করেন। প্রথমে ইয়ামালের, পরে বায়েনার। রড্রি বল নিয়ে সামনে এগিয়ে যান। তিনি বল বাড়ান ডানদিকে থাকা লামিনে ইয়ামালের কাছে। ঢুকে বাঁপায়ে জোরালো শট নেন ইয়ামাল। আটকে দেন কোস্তা। ফিরতে বলে আবার শট নেন আলেক্স বায়েনা। কিন্তু এবারও স্পেনকে হতাশ করেন কোস্তা। ৩৮ রোনাল্ডোর সামনে গোলের সুযোগ এসেছিল স্পেনের গোলকিপার উনাই সিমন রোনাল্ডোর প্রয়াস আটকে দলকে বাঁচান।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সেই একই পরিকল্পনা। রক্ষণ সামলে আক্রমণ। পর্তুগাল সমানতালে পাল্লা দিচ্ছিল স্পেনের সঙ্গে। কিন্তু ৫৬ মিনিটে চোট পেয়ে নুনো মেন্ডেজ মাঠ ছাড়তেই সমস্যায় পড়ে পর্তুগাল। ইয়ামাল ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। মেন্ডেজ যতক্ষণ মাঠে ছিলেন, ইয়ামালকে রীতিমতো বোতলবন্দী করে রেখেছিলেন। মেন্ডেজ উঠে যেতেই ফলে স্পেনের আক্রমণে ধার বাড়ে। সুযোগ তৈরি হলেও কাজে লাগাতে পারেননি ইয়ামাল, ওয়ারজাবাল, দানি ওলমোরা। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে এগোচ্ছে, তখনই জ্বলে ওঠেন মিকেল মোরিনো। সংযুক্তি সময়ের ১ মিনিটের মাথায় ফেরান তোরেসের কাছ থেকে বল পেয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জালে জড়িয়ে দেন মোরিনো। একইসঙ্গে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ পর্তুগাল ও রোনাল্ডোর।
❤ Support Us








