- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- জুলাই ৬, ২০২৬
হতাশা কালনাজুড়ে, মাঝ দরিয়ায় থামল সায়নীর ইতিহাস গড়ার অভিযান
এশিয়া মহাদেশের প্রথম সাঁতারু হিসেবে সপ্তসিন্ধু জয়ের ইতিহাস গড়ার অভিযান ব্যর্থ হল কালনার ‘সাগরিকা’ সায়নী দাসের। শনিবার রাত ১২টা ৪১ মিনিটে সপ্তসিন্ধু জয়ের লক্ষ্য পূরণে জাপানের সুগারু চ্যানেল জয় করতে নামেন সায়নী। হাড়হিম কনকনে জল, হাঙর-জেলিফিস-সহ ভয়ঙ্কর সব সামুদ্রিক প্রাণীর হামলা এড়িয়ে ঠিকঠাকই এগোচ্ছিলেন সায়নী। মাঝ সমুদ্র পেরতেই বুকে চিনচিনে ব্যথা শুরু। ক্রমশ তা শরীরজুড়ে ছড়াতে থাকে। সমস্ত দেহ শ্লথ হয়ে যায়। উথালপাথাল উজান স্রোতের সঙ্গে লড়ার ক্ষমতা হারাতে থাকেন সায়নী। শেষমেশ লড়াইয়ে ইতি টেনে লাইফ সেভিং বোটে আশ্রয় নিয়ে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় ভেঙে পড়েন সায়নী। হাহাকার করতে থাকেন, ‘এতদিনের অনুশীলন, মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি সবটাই সুগারুর স্রোতে ভেসে গেল !’
তবে হাল ছাড়ার পাত্রী নন সায়নী। সায়নীর বাবা তথা কোচ রাধেশ্যাম দাস বলছিলেন, ‘সায়নীর যা মনের জোর আর লক্ষ্য পূরণের জেদ, তাতে ও সুগারু পেরিয়ে সপ্তসিন্ধু জয় করে ইতিহাস গড়বেই।’ তবে সেটা কবে, তা এক্ষুণি বলা যাচ্ছে না। আপাতত সায়নীর শারীরিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। ডাক্তারের ছাড়পত্র মিললে শরীর সঙ্গ দেওয়ার জায়গায় এলেই সায়নী ফের সাগরে ঝাঁপাবে। সপ্তসিন্ধু জয়ের লক্ষ্য পূরণের মাত্র এক ধাপ আগে ‘সায়নীদিদির জার্নি থমকে’ যাওয়ায় হতাশ পূর্ব বর্ধমানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার পড়ুয়া। কারণ, জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অনুসারে সায়নীর সুগারু অভিযানের মুহূর্তগুলি লাইভ স্ট্রিমিং দেখানোর ব্যবস্থা হয়েছিল জেলার স্কুলগুলিতে। কারণ এশিয়ার প্রথম সাঁতারু হিসেবে সপ্তসিন্ধু জয়ের সাক্ষী থেকে ছাত্রছাত্রীরা যাতে সায়নীর সাফল্যের লক্ষ্যভেদ থেকে প্রেরণা পেতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই জেলা প্রশাসনের নির্দেশে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা হয়। কালনার বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার বলছিলেন, ‘সায়নীতো শুধু কালনার নয়, গোটা দেশের গর্ব। সেই ইতিহাসের সাক্ষী থাকার অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত সাধুবাদযোগ্য।’ কয়েকদিন আগে সুগারু জয়ের ব্যাপারে সায়নীকে উৎসাহিত করেছেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁও। ঘড়ির কাঁটা তখন রাত তিনটে ছুঁইছুঁই। লাইভ স্ট্রিমিংয়ের যোগাযোগ আচমকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সবাই আঁচ করেছিলেন, একটা কিছু বিপদ ঘটেছে। সেই বিপদটা যে এতখানি হতাশার তা বোঝা গেল শনিবার সকালে। এখন সায়নীর পরিবার থেকে শুরু করে শুভানুধ্যায়ী, সকলেই চাইছেন সায়নী দ্রুত সুস্থ হোন। তারপর সুগারু জয়ের কথা ভাবা যাবে। কারণ জীবনটা সবার আগে।
সপ্তসিন্ধু জয়ের রেকর্ড গড়তে সায়নী একে একে ইংলিশ চ্যানেল, রটনেস্ট, ক্যাটলিনা, মলোকাই, কুক স্ট্রেইট, নর্থ চ্যানেল ও জিব্রালটার পেরিয়েছেন। বাকি শুধু আর একটা ‘সিন্ধু’। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাঁতারু সায়নী জাপানের সুগারু চ্যানেল পেরলেই এশিয়া মহাদেশের প্রথম সাঁতারু হিসেবে সপ্তসিন্ধু পেরনোর স্বীকৃতি পাবেন। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে ইংলিশ চ্যানেল জয় দিয়ে অভিযান শুরু হয়েছিল কালনার বারুইপাড়ার ‘সাগরিকা’ সায়নীর। ৮ বছর বাদে সেই জুলাই মাসেই সুগারু জয় করে অভিযান সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য আপাতত অধরাই রইল।
❤ Support Us







