Advertisement
  • মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
  • জুলাই ৪, ২০২৬

দুরন্ত লড়াই করেও কেপ ভার্দের হার, ৩–২ গোলে জিতে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
দুরন্ত লড়াই করেও কেপ ভার্দের হার, ৩–২ গোলে জিতে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

ম্যাচের শুরু থেকেই দুরন্ত লড়াই। অবশেষে হার মানল ম্যাচের ১১১ মিনিটে। লিওনেল মেসির কর্নার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর হেড বোর্জেসের হাতে লেগে বল জালে। শেষ কেপ ভার্দের যাবতীয় লড়াই, ভেঙে চুরমার প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেই নক আউটে জয়ের স্বপ্ন। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩–২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল আর্জেন্টিনা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সামনে এবার মিশর।

প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসেই দারুণ চমক দিয়েছে কেপ ভার্দে। গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী স্পেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে আটকে দিয়েছিল ২–২ ব্যবধানে। শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের সঙ্গে ড্র করে উঠে এসেছিল নকআউটে। এদিন আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধেও দুরন্ত লড়াই। স্কোরলাইনে আর্জেন্টিনা জিতলেও ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জিতে নিয়েছেন কেপ ভার্দের ফুটবলাররা। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে এসেই ছাপ রেখে গেল।

ম্যাচের প্রথমদিকে দাপট দেখাচ্ছিল কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনাকে ভয় না পেয়ে বার বার আক্রমণে উঠে আসার চেষ্টা করছিল। ৬ মিনিটের মাথায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও এসেছিল। কাজে লাগাতে পারেনি। এরপরই ধীরে ধীরে  খেলা ধরে নেয় আর্জেন্টিনা। মেসির দুরন্ত ফ্রিকিক সরাসরি কেপ ভার্দে গোলকিপার ভোজিনহার হাতে চলে যায়। অবশেষে ২৯ মিনিটে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে নিখুঁত লম্বা পাস বাড়ান লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। প্রথম স্পর্শেই বল নিয়ন্ত্রণে নেন মেসি। তারপরই শট। ভোজিনিয়াকে পরাস্ত করে বল জালে।

বিশ্বকাপে মেসির এটা ২০ নম্বর গোল। আর চলতি বিশ্বকাপে ৭ নম্বর। বিশ্বকাপে টানা ৮ ম্যাচে গোল করে অনন্য নজির গড়লেন আর্জেন্টিনার এই অধিনায়ক। প্রথমার্ধের শেষ লগ্নে ব্যবধথান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল আর্জেন্টিনার সামনে। এনজো ফার্নান্ডেজের প্রয়াস রুখে দিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি ভোজিনহা।

সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে দ্বিতীয়ার্ধে আরও সাহসী হয়ে ওঠে কেপ ভার্দে। ৫৪ মিনিটেই সমতা ফেরানোর সুযোগ এসেছিল দেরয় দুয়ার্তের সামনে। তাংর দুর্দান্ত শট আটকে দেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তবে ৫৯ মিনিটে আর শেষরক্ষা হয়নি। রায়ান মেন্ডেজের কাছ থেকে বল পেয়ে জোরালে শটে মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দিয়ে সমতা ফেরান দেরয় দুয়ার্ত।

সমতা ফেরার পরই চাপে পড়ে যান আর্জেন্টিনার কোচ স্ক্যালোনি। একসঙ্গে তিনজনকে পরিবর্তন করেন মাঠে নিয়ে আসেন হুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গঞ্জালেস, লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে। একের পর এক সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু মেসিদের সামনে ‘‌দেওয়াল’ হয়ে দাঁড়ান ভোজিনহা। ৬২মিনিটে মেসির একটা শট আটকান। ৭২ মিনিটে একটা দুর্দান্ত ফ্রিকিকও প্রতিহত করেন। ভোজিনহার জন্যই নির্ধারিত সময়ে আর গোল পায়নি আর্জেন্টিনা। ৯০ মিনিটের খেলা ১–১ থাকায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে ভেসে আসা বল ফ্লিক করেছিলেন ম্যাক আলিস্টার। সেই বল ধরে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে জাল কাঁপিয়ে দেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। গ্রুপ লিগের প্রতিটা ম্যাচেই কেপ ভার্দে বুঝিয়ে দিয়েছিল, তারা হাল ছাড়ার পাত্র নয়। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধেও একই ছবি। ১০৩ মিনিটে সমতা। বাঁদিক থেকে ভেতরে ঢুকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে গোল সিডনি কাবরালের। নিঃসন্দেহে বিশ্বকাপের সেরা গোল। আর্জেন্টিনা গোলকিপার নড়ার সুযোগ পাননি। সবাই যখন ধরে নিয়েছে ম্যাচ তখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছে, তখনই জ্বলে ওঠেন রোমেরো। ১১১ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে রোমেরোর হেড, বোর্জেসের হাতে লেগে দিক পাল্টে বল জালে। মাঠে মারা গেল কেপ ভার্দের দুরন্ত লড়াই।


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!