Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ৮, ২০২৬

কলকাতার স্কুলে মিড ডে মিল সরবারহ নিয়ে জনস্বার্থ মামলা, রাজ্যের কাছে হলফনামা চাইল আদালত

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
কলকাতার স্কুলে মিড ডে মিল সরবারহ নিয়ে জনস্বার্থ মামলা, রাজ্যের কাছে হলফনামা চাইল আদালত

কলকাতা পুরসভা এলাকার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়ার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে গোটা বিষয়টি হলফনামা দিয়ে স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তাই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।

এর আগে কলকাতা পুর এলাকার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের মেনুতে ডিম ও মাছের পরিবর্তে নিরামিষ খাবার, যেমন পনির ও রাজমা দেওয়ার সম্ভাবনা এবং মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকন-এর মতো একটি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাবকে চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয় । মামলাকারীদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে স্কুলভিত্তিক মিড-ডে মিল পরিচালনাকারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, রাজ্য সরকার কলকাতা পুরসভার অধীন প্রায় ১,৮০০ স্কুলে ISKCON-এর মাধ্যমে রান্না করা খাবার সরবরাহের পরিকল্পনা করেছে। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে স্কুলগুলিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা স্কুলের তত্ত্বাবধানে রান্না হয়, যা এলাকার পিছিয়ে পড়া বহু মহিলার কর্মসংস্থানের অন্যতম ভিত্তি। এই ব্যবস্থা বদলে গেলে প্রায় ২৫ লক্ষ মহিলা কর্মসংস্থানের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে রাজ্য বাজেটেও ঘোষণা করা হয়েছে যে, কলকাতা পুরসভা এলাকার স্কুলগুলিতে ইসকন-এর সহযোগিতায় মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই দিল্লি, মহারাষ্ট্র-সহ দেশের আটটি রাজ্যে ইসকন মিড-ডে মিল প্রকল্প পরিচালনা করছে। পশ্চিমবঙ্গেও কলকাতার কয়েকটি স্কুলে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা সামনে আসার পর থেকেই তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

মামলায় মূলত দুটি প্রশ্নকে সামনে আনা হয়েছে। প্রথমত, কলকাতার স্কুলপড়ুয়াদের কেন ডিম ও মাছের পরিবর্তে নিরামিষ খাবার দেওয়া হবে ? দ্বিতীয়ত, ইসকন যদি মিড-ডে মিলের দায়িত্ব নেয়, তাহলে বর্তমানে এই প্রকল্পে যুক্ত স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির ভবিষ্যৎ কী হবে ?

শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতে জানান, বিষয়টি এখনও শুধুমাত্র একটি প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সরকার একটি প্রস্তাব পেয়েছে মাত্র, এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই আগাম এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে আদালত এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, রাজ্যের বক্তব্য মেনেও যদি ধরা হয় এটি এখনও প্রস্তাব, তবুও মামলাকারীদের উদ্বেগের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে । আদালত জানতে চায়, ভবিষ্যতে যদি সরকার হঠাৎ বিজ্ঞপ্তি জারি করে এবং একসঙ্গে কয়েক লক্ষ মহিলার কর্মসংস্থান হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে তার দায় কে নেবে ?

এর পর মামলাকারীর আইনজীবী বলেন, যদি বিষয়টি শুধুই প্রস্তাব হয়, তাহলে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় এ বিষয়ে যে বক্তব্য রেখেছিলেন, তা নিয়েও রাজ্যকে স্পষ্ট অবস্থান জানাতে হবে। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে হলফনামা দিয়ে তাদের অবস্থান জানাতে নির্দেশ দেয়। আগামী চার সপ্তাহ পরে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।


  • Tags:
❤ Support Us
Advertisement
error: Content is protected !!