Advertisement
  • এই মুহূর্তে দে । শ
  • জুলাই ৯, ২০২৬

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট পেশ ইডির, প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে ২০ কোটি আত্মসাতের অভিযোগ

আরম্ভ ওয়েব ডেস্ক
পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট পেশ ইডির, প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে ২০ কোটি আত্মসাতের অভিযোগ

রাজ্যের পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড়ো পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার বিশেষ ইডি আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট প্রায় ২৫০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে।

শুধু সুজিত বসুই নন, তাঁর ছেলে সমুদ্র বসু, দুটি বেসরকারি সংস্থা এবং তৎকালীন ডিরেক্টরেট অফ লোকাল বডিজ় (ডিএলবি)-এর অধিকর্তা জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়কেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের অধীন ডিএলবি-র প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায় তাঁর সরকারি পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়োগ দুর্নীতিতে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন এবং আর্থিক সুবিধা লাভ করেন। ইডির চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, সুজিত বসু অর্থের বিনিময়ে ৩৪০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২৮৪ জন নিয়োগপত্র পান। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে গড়ে ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল, যার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করা হয়।

এই পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার সূত্রপাত হয় শিক্ষাক্ষেত্রের নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত চলাকালীন। তদন্তে সল্টলেক ও হুগলিতে ব্যবসায়ী অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশির সময় পুরসভার নিয়োগ সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি উদ্ধার করে ইডি। পরে অয়ন শীল তাঁর সংস্থা এবিএস ইনফ্রাজোন’-এর অন্যান্য ডিরেক্টরদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভার নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্বে ছিল ওই সংস্থাই। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে ওএমআর শিট প্রস্তুত করাসমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজই করত এবিএস ইনফ্রাজোন। তল্লাশির সময় উদ্ধার হওয়া নথির মধ্যে সুপারিশ সংক্রান্ত একাধিক তালিকা এবং এসবিলেখা কিছু নথিও তদন্তকারীদের হাতে আসে, যা পরে সুজিত বসুর সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়।

তদন্তের অগ্রগতিতে দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। ওই সময় সুজিত বসু দক্ষিণ দমদম পুরসভার উপ-পুরপ্রধান ছিলেন। ইডির পাশাপাশি সিবিআইও এ মামলার তদন্ত শুরু করে। তদন্তের স্বার্থে তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ পুরসভার একাধিক আধিকারিক ও কর্মীকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইডি সুজিত বসুর করা ৪০ জন চাকরিপ্রার্থীর সুপারিশ সংক্রান্ত নথিও উদ্ধার করেছে বলে চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া সুজিত-ঘনিষ্ঠ নিতাই দত্তের বয়ানেও চাকরিপ্রার্থীদের সুপারিশের পদ্ধতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

তদন্ত চলাকালীন সুজিত বসু, তাঁর ছেলে ও মেয়েকেও একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ইডির দাবি, তল্লাশিতে সুজিত বসুর সঙ্গে যুক্ত একাধিক নির্মাণ সংস্থা এবং তাঁর ছেলের ধাবা ও রেস্তরাঁর সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য সামনে আসে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ওই রেস্তরাঁয় কোটি কোটি টাকার লেনদেন কীভাবে হয়েছে, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি সুজিত বসু বা তাঁর ছেলে।

উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর, গত ১১ মে সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘ ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের শেষে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করে ইডি। এর আগে এই মামলায় অয়ন শীলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল। বর্তমান চার্জশিটের সঙ্গে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ পাতার নথি বিশেষ ইডি আদালতে জমা দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা


  • Tags:
❤ Support Us
error: Content is protected !!