- মা | ঠে-ম | য় | দা | নে
- জুলাই ১০, ২০২৬
রূপকথা লেখা মরক্কোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্স
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সের কাছে হেরেই সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল মরক্কোকে। অ্যাটলাস সিংহদের সামনে ছিল কাতার বিশ্বকাপে পরাজয়ের মধুর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ। ফ্রান্স অবশ্য মরক্কোকে সেই সুযোগ দিল না। নিরঙ্কুশ আধিপত্য দেখিয়ে মরক্কোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্স। বোস্টোনের মাঠে আরও একবার অপ্রতিরোধ্য ফ্রান্সকে দেখতে পেল গোটা ফুটবল বিশ্ব।
চলতি বিশ্বকাপের প্রথম থেকেই ফ্রান্সকে শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে গণ্য করা হচ্ছিল। বিশেষজ্ঞদের বাজি ধরা যে সঠিক, আরও একবার প্রমাণ করে দিল ফ্রান্স। মরক্কো রূপকথার দৌড় থামিয়ে এমবাপে, উসমান ডেম্বেলেদের চোখ এখন ফাইনালের দিকে। বিশ্বকাপের গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচ থেকেই কখনও ফ্রান্সকে দেখে মনে হয়নি তারা হারতে পারে। মরক্কোর বিরুদ্ধে কোয়াটার ফাইনালেও সেই একই ছবি দেখা গেল।
ফ্রান্সের মূল শক্তি হল গতি নির্ভর আক্রমণাত্মক ফুটবল। শুরু থেকেই বিপক্ষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়া দিদির দেশঁ–র দলের বৈশিষ্ট্য। মরক্কোর বিরুদ্ধেও এদিন তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রথম থেকেই ঝড় তোলে ফ্রান্স। ৫ মিনিটের মধ্যেই দু–দুবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল ফ্রান্সের সামনে। তবে এদিনও মরক্কোর তিন কাঠির নিচে ইয়াসিন বুনু অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠায় হতাশই হতে হয় ফ্রান্সকে। এমবাপের প্রয়াস দারুণ দক্ষতার সঙ্গে বাঁচিয়ে দেন ইয়াসিন বনু। দলের সেরা স্ট্রাইকার ইসমাইল সাইবারি চোটের জন্য ছিটকে যাওয়ায় মরক্কো কোচ মহম্মদ ওয়াহাবির কৌশল ছিল রক্ষণ জমাট রেখে প্রতি আক্রমণে উঠে আসা। ফ্রান্সের রক্ষণের দৃঢ়তায় এদিন বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি ব্রাহিম দিয়াজ, আজ্জেদিন উনাহিরা। সাইবারির অভাব বারবার প্রকট হয়ে উঠল।
আক্রমণে ঝড় তুলে ২৯ মিনিটে আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল ফ্রান্সের সামনে। নিজেদের বক্সের সামনে বলের দখল হারান মরক্কো অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। সেই বল থেকে তৈরি হয় প্রতি–আক্রমণ। দুরন্ত গতিতে উঠে এসে মরক্কো বক্সে ঢুকে পড়েন কিলিয়ান এমবাপে। তাঁকে আটকাতে করা ট্যাকেল করেন মরক্কোর ডিফেন্ডার নুসের মাজেরাইয়ি। থাকা রেফারি পেনাল্টি নির্দেশ দেন। এমবাপের দুর্বল শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনু। ৩৬ মিনিটে আবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল ফ্রান্সের সামনে। ডিজিয়ের ডুয়ের শট দারুণ দক্ষতার সঙ্গে বাঁচান মরক্কো গোলকিপার। প্রথমার্ধের শেষ দিকে লুকাস দিনিয়ের শট বারে লেগে না ফিরলে তখনই এগিয়ে যেতে পারত ফ্রান্স।
প্রথমার্ধে কোনও রকমে কিলিয়ান এমবাপেদের আটকে রাখতে পারলেও বিরতির পর ফ্রান্সের আক্রমণের চাপে ভেঙে পড়ে মরক্কোর রক্ষণ। অবশেষে ম্যাচের ৬০ মিনিটে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। ডান পায়ের দুরন্ত কার্লিং শটে গোল করেন এমবাপে। এই গোলের সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্পর্শ করেন চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় থাকা লিওনেল মেসিকে। দুজনেরই গোল সংখ্যা ৮।
এগিয়ে যাওয়ার পর আক্রমণে আরও গতি বাড়ায় ফ্রান্স। ৬ মিনিট পর আবার গোল। এমবাপে বল ছাড়াই অনেকটা দৌড়ে ফাঁকা জায়গা করে দেন উসমান ডেম্বেলেকে। এরপর নিখুঁত শটে লক্ষ্যভেদ করেন ডেম্বেলে। ২ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশঁ বুঝেই গিয়েছিলেন এই ম্যাচে মরক্কোর আর ফেরা সম্ভব নয়। তাই ৭৭ মিনিটে তিনি চোট পাওয়া এমবাপেকে তুলে নেন। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামান ফিলিপ মাতিতাকে। ৮৮ মিনিটে তাঁর সামনে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল। কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি পরিবর্তন হিসেবে মাঠে নামা এই ফরাসি স্ট্রাইকার। তাতে অবশ্য কোনও সমস্যা হয়নি ফ্রান্সের। বিশ্বকাপে রূপকথা লেখা মরক্কোকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল। সেমিফাইনালে সামনে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যে জয়ী দল।
❤ Support Us








